📄 হযরত আইয়ুবের (আঃ) যন্ত্রণায় শয়তানের আনন্দ
হযরত তালহা বিন মুসররফ, (রহঃ) বলেছেন: অভিশপ্ত ইবলীস বলেছে- (হযরত) আইয়ুবকে দেখে আমি একটুও খুশি হতাম না, কেবল যখন সে যন্ত্রণায় কারাতো তখনই আমার ভালো লাগত। ভাবতাম, আমি ওকে ভালই কষ্ট দিতে পেরেছি। (২৫)
টিকাঃ
(২৫) যাওয়াইদুয যুহদ, عبدالله বিন আহমাদ। মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ্ দুনইয়া। দুররুল মানসুর, ৪ঃ ৩৩০।
📄 হযরত আইয়ুবের (আঃ) স্ত্রীকে ধোঁকা দেবার চেষ্টা
হযরত অহাব বিন মুনাব্বিহ (রহঃ) বলেছেন: ইবলীস একবার হযরত আইয়ুবের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করে, আপনাদের উপর এমন বিপদ বিপর্যয় কেমন করে এল?
হযরত আইয়ুবের স্ত্রী বলেন, আল্লাহর কুদরতে।
শয়তান বলে, আপনি আমার পিছনে পিছনে আসুন (বিপদ থেকে উদ্ধারের একটা উপায় বের করছি)।
সুতরাং হযরত আইয়ুবের স্ত্রী (ভালোমানুষরূপী) শয়তানের পিছনে পিছনে যান। শয়তান তাঁকে একটা মাঠে নিয়ে গিয়ে (তাঁদের হারানো) সমস্ত সম্পদ-সম্পত্তি জড়ো করে দেখায়। তারপর বলে, আপনি আমাকে কেবল একবারই সাজদা করুন, আমি এসব কিছুই আপনাদের ফিরিয়ে দেব।
হযরত আইয়ুবের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর অনুমতি নেবার পর আমি সাজদা করব। সুতরাং তিনি হযরত আইয়ুবের কাছে এসে সবকথা বলেন। শুনে হযরত আইয়ুব তাঁর স্ত্রীকে বলেন, এখনও তুমি বুঝতে পারনি যে, ও ছিল শয়তান!- যদি আমি সুস্থ হয়ে উঠি, তাহলে এর বদলে (শয়তানের ফাঁদে পা দেওয়ার কারণে) ১০০ বেত মারব তোমাকে। (২৬)
টিকাঃ
(২৬) মাকায়িদুশ শায়তান। (৫০), ইবনু আবিদ দুনইয়া।
📄 ওই বিষয়ে আরেকটি ঘটনা
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন : অভিশপ্ত ইবলীস একবার (ডাক্তার সেজে) পথের ধারে বসে, সিন্দুক খুলে, মানুষের চিকিৎসা করছিল। হযরত আইয়ুবের স্ত্রী সেই সময় তার কাছে গিয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দা! এখানে একজন মানুষ এই এই অসুখে ভুগছেন। আপনি কি তাঁর চিকিৎসা করবেন?
শয়তান বলে, অবশ্যই করব, তবে শর্ত হল, আমার চিকিৎসায় রুগি সেরে উঠলে, আপনাকে শুধু বলতে হবে, আপনিই ওকে সারিয়ে দিয়েছেন, ব্যস, আর কোনও ফীস আমি নেব না।
তো হযরত আইয়ুবের কাছে তাঁর স্ত্রী এসে ওকথা উল্লেখ করলেন। শুনে হযরত আইয়ুব বললেন, আফসোস তোমার জন্য! ও তো শয়তান। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আরোগ্যদান করলে (শয়তানের চালে পা দেওয়ার জন্য) তোমাকে ১০০ বেত মারব। (২৭)
টিকাঃ
(২৭) কিতাবুয যুহ্দ, ইমাম আহমাদ। আবদ ইবনু হামিদ। ইবনু আবী হাতিম।
📄 হযরত আইয়ুবকে (আঃ) বিপদে ফেলা শয়তানের নাম
হযরত নাউফ বুকালী (রহঃ) বলেছেন : যে শয়তান হযরত আইয়ুব (আঃ)-কে কষ্ট দিয়েছিল, তার নাম ছিল 'সিয়ত্ব'। (২৮)
টিকাঃ
(২৮) ইবনু আবী হাতিম।