📄 হযরত ইবরাহীম (আঃ) কাঁকর মেরেছেন শয়তানকে
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন : হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর প্রতি যখন কুরবানীর নির্দেশ দেওয়া হয় (এবং তিনি ওই নির্দেশ পালনার্থে বের হয়ে পড়েন), সেই সময় মিনা প্রান্তরে শয়তান হযরত ইব্রাহীমের পথ আটকায় এবং তাঁর সঙ্গে মুকাবিলা করে। কিন্তু হযরত ইবরাহীম জয়ী হন। এরপর হযরত জিব্রাঈল তাঁকে 'জাম্মাতুল আকাবা'য় নিয়ে যান। সেখানেও শয়তান বাধা দিতে চায়। তখন হযরত ইব্রাহীম তাকে সাতবার কাঁকর মারেন। (ফলে শয়তান রাস্তা ছেড়ে সরে যায়।) তারপর হযরত ইব্রাহীম এগিয়ে যান। ফের মধ্য জামরায় গিয়েও শয়তান বাধা দিতে চায়। তখনও হযরত ইব্রাহীম তাকে সাতবার কাঁকর মারেন। শেষ পর্যন্ত সে পালিয়ে যায়। (২০)
টিকাঃ
(২০) ইবনু আবী হাতিম। ইবনু মারদাবিয়াহ। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী।
📄 কুরবান হবেন ইসমাঈল না ইসহাক (আঃ)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য : উপরোক্ত বর্ণনাগুলি থেকে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কুরবানী দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন হযরত ইসহাককে। হযরত উমার ইবনুল খাত্ত্বাব, হযরত আব্বাস, হযরত ইবনু מסউদ, হযরত আনাস বিন মালিক, হযরত আবু হুরায়রা প্রমুখ সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর থেকেও এরকমই বর্ণনা রয়েছে। এ বিষয়ে মত পার্থক্য রয়েছে হযরত আলী (রাঃ)-র বর্ণনায়। কেউ কেউ বলছেন হযরত 'ইসহাককে কুরবানী করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কেউ কেউ বলছেন হযরত ইসমাঈলকে। তাবিঈদের মধ্যে যাঁরা মনে কনে হযরত ইসহাককে কুরবানী দেবার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে আছেন হযরত কাত্ব, সাঈদ বিন জুবাইর, মুজাহিদ, কাসিম বিন বার্রহ, মাসরূকু, কাতাদাহ, ইকরিমাহ্, অহাব বিন মুনাব্বিহ, উবাইদ বিন উমাইর, আবদুর রহমান বিন ইয়াযীদ, আবুল হুযাইল, ইবনু শিহাব যুহরী (রাহমাহুমুল্লাহ) প্রমুখ। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-ও এই মতের অনুসারী। আল্লামা সুহাইলী (রহঃ) বলেছেন, হযরত ইসহাক (আঃ)-এর 'যাবীহ' হওয়ার বিষয়ে কোনও সংশয়ের অবকাশ নেই।
আলিমদের আরেকটি দলের মতে হযরত ইবরাহীম (আঃ) কুরবানীর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন' হযরত ইসমাঈল (আঃ)-কে। এই মতের অনুসারীদের মধ্যে আছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়িহব, (রহঃ) ইমাম শাঅবী (রহঃ) মুহাম্মদ বিন কাআব (রহঃ) হযরত উমর বিন আবদুল আযীয (রহঃ) উমর ইবনুল আলা (রহঃ) প্রমুখ। (২১)
টিকাঃ
(২১) আকامুল মারজান ফী আহকামিল জান, আল্লামা মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ শিবলী হানফী।
📄 কাঁকরের আঘাতে যমীনে পুঁতে গেছে ইবলীস
(হাদীস) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, জনাব রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :
إِنَّ جِبْرِيلَ ذَهَبَ بِإِبْرَاهِيمَ إِلَى جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ فَعَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْع حَصَبَاتٍ فَسَاحَ ثُمَّ أَتَى بِهِ الْجَمْرَةَ الْوُسْطَى فَعَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْع حَصَيَاتٍ فَسَاحَ ثُمَّ إِلَى بِهِ الْجَمْرَةَ الوسطى فَعَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ فَسَاخَ -
হযরত জিব্রাঈল (আঃ) হযরত ইবরাহীমকে নিয়ে জামরাতুল আকাবায় পৌঁছলে শয়তান তাঁকে বাধা দেয়। তখন তিনি তাকে সাতবার কাঁকর ছুঁড়ে জামরায় গিয়ে পৌঁছেন। সেখানেও শয়তান বাধা দেয়। হযরত ইব্রাহীম ফের তাকে সাতবার কাঁকর ছুঁড়ে মারেন। এবং ফের সে যমীনে পুঁতে যায়। এরপর জিব্রাঈল তাঁকে নিয়ে আরেকটি 'জামরায় আসেন। সেখানেও শয়তান তাঁদের বাধা দেয় এবং ফের তিনি সাতবার কাঁকর ছুঁড়ে মারেন। সুতরাং ফের শয়তান মাটির মধ্যে পুঁতে যায়। (২২)
টিকাঃ
(২২) মুস্লাদে আহমাদ, ১ঃ ৩০৬। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩ঃ ২৫৯। কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ১২১৫৪।
📄 হযরত যুলকিফলের মোকাবিলায় শয়তান
হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারিস (রহঃ) বলেছেন: এক নবী তাঁর সাহাবীদের সম্বোধন করে বলেছিলেন তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে কখনও রাগ করবে না বলে কথা দেবে এবং (এই গুণের বদৌলতে) আমার মতো মর্যদায় পৌছবে, আর আমার ইন্তিকালের পর আমার কওমের মধ্যে আমার দায়িত্ব পালন করবে?
এক যুবক বলেন, আমি কথা দিচ্ছি।
সেই নবী ফের একবার সেই প্রস্তাব দিলেন।
যুবকটিও একই কথা বললেন।
সুতরাং সেই নদীর ইতিকালের পর যুববতি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে লাগলেন। সেই সময় শয়তানও তাঁকে রাগিয়ে তোলার চেষ্টা করতে লাগল। তখন তিনি একটি লোককে শয়তানকে ধরতে বললেন। লোকটি ফিরে এসে বলল যে, সে তাঁকে দেখতে পায়নি। শয়তান ফের এসে তাঁকে রাগাতে লাগল। তিনি আরেকজন লোককে বললেন শয়তানকে ধরতে। সেও বলল যে, সে কাউকে দেখতে পায়নি। ফের যখন শয়তান তাঁকে রাগাতে এল, অমনি তিনি নিজেই (রাগ না করে) শয়তানের হাত ধরে ফেললেন। শয়তান তখন (রাগানোর কাজে ব্যর্থ হয়ে) হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার ভিত্তিতে তাঁর নাম হয় ‘যুল কিফল’। কেননা তিনি কখনও রাগ প্রকাশ করেন নি। (২০)
টিকাঃ
(২০) যামুল গদ্বব, ইবনু আবিদ দুনইয়া। ইবনু জারীর। ইবনু মুনযির। ইবনু আবী হাতিম।