📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত মূসার (আঃ) সাথে শয়তানের বাক্যালাপ

📄 হযরত মূসার (আঃ) সাথে শয়তানের বাক্যালাপ


হযরত মূসা (আঃ) একবার কোথাও যাচ্ছিলেন। সেই সময় অভিশপ্ত ইবলীস তাঁর কাছে আসে। তার মাথায় তখন ছিল একটা রঙচঙের টুপি। হযরত মূসার কাছাকাছি এসে শয়তান টুপিটা খুলে বলে, আস্ সালামু আলাইকা ইয়া মুসা!
হযরত মূসা জানতে চান, তুমি কে হে? - আমি ইবলীস।
আল্লাহ্ তোর সর্বনাশ করুন। কেন এসেছিস এখানে?

- আপনার হাতে মুসলমান হবার জন্যে। কারণ আপনার মান-মর্যাদা অনেক বেশি আল্লাহর দরবারে।
তোর মাথায় একটু আগে কী যেন দেখছিলাম? - ওটা দিয়ে আমি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করি।
মানুষ কী কাজ করলে তুই ওকে কাবু করে ফেলিস? - যখন মানুষ আত্মপ্রশংসায় ডুবে যায় এবং নিজের কাজকে খুব বড় করে দেখে। - আপনাকে আমি তিনটি বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি।
(১) যে মহিলা আপনার জন্য বৈধ নয়, তার সঙ্গে নির্জনে থাকবেন না। কারণ যখন কোনও মানুষ না-মাহরাম মহিলার সঙ্গে নির্জনে থাকে, সেই সময় আমিও সেখানে উপস্থিত থাকি এবং তাদেরকে পাপকাজে জড়িয়ে দিয়ে তবেই ছাড়ি।
(২) আল্লাহর সঙ্গে আপনি কোনও অঙ্গীকার করলে তা পূরণ করবেন। কেননা যে মানুষ আল্লাহর কাছে কোনও অঙ্গীকার করে, আমি তার পিছনে লেগে যাই এবং শেষ পর্যন্ত তাকে অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়েই ছাড়ি।
(৩) আর আপনি যখন দান-খায়রাতের জন্য টাকা পয়সা বের করবেন, তা অবশ্যই খরচ করবেন। কেননা, যে ব্যক্তি দান-খায়রাতের জন্য টাকা-পয়সা বের করে, আমি তার পিছনে লেগে যাই, যাতে সে ওই টাকা-পয়সাগুলো হকদারদের না দেয়।
এরপর শয়তান তিনবার ধ্বংস ধ্বংস ধ্বংস বলে চিৎকার করে চলে যায়। আর হযরত মূসাও জেনে যায় শয়তানের বিষয়ে মানুষকে কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। (১৬)

টিকাঃ
(১৬) মাকায়িদুশ শাইতান (৭৪), ইবনু আবিদ দুনয়া। তালবীসুল ইবলীস। ইহইয়াউল উলুম, গাযালী, ৩ঃ ৩১-৯৭।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত মূসার (আঃ) কাছে শয়তানের আশা

📄 হযরত মূসার (আঃ) কাছে শয়তানের আশা


জনৈক শায়খের সূত্রে হযরত ফুযাইল বিন আইয়াযের বর্ণনাঃ হযরত মূসা (আঃ) এর কাছে ইবলীস সেই সময় এসেছিল, যখন তিনি আল্লাহর কাছে দুআ প্রার্থনা করছিলেন। ফিরিস্তারা ইবলীসকে বলেন, তুই ধ্বংস হয়ে যা! হযরত মূসার কাছে কী চাইতে এসেছিস! তাও আবার এমন সময়ে, যখন তিনি আল্লাহর কাছে মুনাজাত করছেন। শয়তান বলে, আমি তার কাছে সেই আশাই নিয়ে এসেছি, যে আশা নিয়ে গিয়েছিলাম আদমের কাছে, যখন তিনি ছিলেন জান্নাতে। (১৭)

টিকাঃ
(১৭) মাকিয়াদুশ শায়তান (৪৮), ইবনু আবিদ দুনইয়া। তালবীসুল ইবলীস।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত ইবরাহীমের (আঃ) মোকাবিলায় শয়তান

📄 হযরত ইবরাহীমের (আঃ) মোকাবিলায় শয়তান


হযরত কাত্ব (রাঃ) বলেছেন: হযরত ইব্রাহীম (আঃ) স্বপ্নে দেখেন যে তিনি নিজের ছেলে হযরত ইস্হাক (আঃ)-কে যবাহ্ করছেন। (নবী রসূলদের স্বপ্নও একধরণের অহী। অর্থাৎ হযরত ইব্রাহীমকে স্বপ্ন অহীর মাধ্যমে ছেলেকে যবাহ্ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।) শয়তান সেকথা জানতে পেরে মনে মনে বলে, এই এক মস্ত সুযোগ। এই সময় যদি ওদের ফিতনায় ফেলতে না পারি, তবে আর কক্ষণো পারব না।
হযরত ইব্রাহীম ছেলেকে নিয়ে যবাহ্ করার জন্য বের হয়ে যাবার পর শয়তান হযরত সারা'র কাছে গিয়ে বলল, ইব্রাহীম সাহেব আপনার ছেলেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, জানেন?
হযরত সারা কোনও এক দরকারে।
শয়তানঃ না না। কোনও দরকারে নয়। বরং উনি নিয়ে যাচ্ছেন ওকে যবাহ্ করার জন্য।
হযরত সারা নিজের ছেলেকে উনি যবাহ্ করবেন কেন?
শয়তানঃ ওঁর ধারণা, আল্লাহ ওঁকে ওই কাজ করার হুকুম দিয়েছেন।
হযরত সারা উনি আল্লাহর হুকুম পালন করলে তো ভালই করবেন।
শয়তান তখন হযরত সারার কাছ থেকে (ব্যর্থ হয়ে) হযরত ইসহাকের কাছে গিয়ে বলে, তোমার আব্বা তোমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
হযরত ইসহাক কোনও এক কাজে।
শয়তান: না, কোনও কাজে নয়। উনি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছেন যবাহ্ করার জন্য।
হযরত ইসহাক: উনি আমাকে যবাহ্ করবেন কেন?
শয়তানঃ ওঁর ধারণা, আল্লাহ ওঁকে ওই কাজ করার হুকুম দিয়েছেন।
হযরত ইসহাক আল্লাহ যদি ওঁকে ওই হুকুম দিয়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর কসম! উনি অবশ্যই তা পালন করবেন।
হযরত ইসহাকের কাছেও ব্যর্থ হবার পর শয়তান এবার গেল হযরত ইব্রাহীমের কাছে। বলল, ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, জনাব?
হযরত ইব্রাহীম: এক দরকারে।
শয়তান: কোনও দরকারে নয়, বরং আপনি তো একে যবাহ্ করতে নিয়ে যাচ্ছেন।
হযরত ইব্রাহীম: কেন আমি ছেলেকে যবাহ্ করব?
শয়তান: আপনার ধারণা হয়েছে যে, আল্লাহ আপনাকে ও কাজ করার হুকুম দিয়েছেন।
হযরত ইব্রাহীম: আল্লাহর হুকুম তো আমি অবশ্যই পালন করব।
সুতরাং শয়তান হযরত ইবরাহীমের কাছেও ব্যর্থ হল। এবং ওঁদেরকে তার অনুসারী করার বিষয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে গেল। (১৮)

টিকাঃ
(১৮) আবদুর রায্যাক। ইবনু জারীর। হাকিম। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত ইবরাহীমের (আঃ) কুরবানীতে শয়তান বাধা দেওয়া

📄 হযরত ইবরাহীমের (আঃ) কুরবানীতে শয়তান বাধা দেওয়া


হযরত কাতাদাহ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে নিজের ছেলে যবাহ করার নির্দেশ দিতে তিনি প্রস্তুতি নিলেন।

শয়তান মনে মনে ভাবল, এই একটা মোক্ষম সুযোগ। এই সময়ে আমি ইবরাহীমের পরিজনদের মধ্যে আল্লাহর অবাধ্যতা সৃষ্টি করতে পারি।

সুতরাং শয়তান হযরত ইব্রাহীমের বন্ধু সেজে তাঁর কাছে গেল। বলল, ওহে ইব্রাহীম! কোথায় চলেছ?
হযরত ইব্রাহীম বললেন, একটা কাজে যাচ্ছি।
শয়তান বলল, আল্লাহর কসম! তুমি যে স্বপ্ন দেখেছ, তার জন্য নিজের ছেলেকে যবাহ করতে নিয়ে যাচ্ছ। আরে ভাই, স্বপ্ন কখনও সত্য হয়, কখনও মিথ্যাও হয়। তা ইসহাককে যবাহ্ করা ছাড়া স্বপ্নে তুমি আর কিছু দেখ নি?
কিন্তু হযরত ইব্রাহীমকে টলাতে না পেরে শয়তান হযরত ইসহাকের কাছে গেল। বলল, ওহে ইসহাক! কোথায় চলেছ?
- আব্বার সাথে একটা কাজে।
- তোমার আব্বা তোমাকে নিয়ে যাচ্ছেন যবাহ করতে।
- আমাকে যবাহ্ করলে ফায়দা কী হবে? তুমি কি কাউকে দেখেছ, নিজের ছেলেকে যবাহ্ করতে?
- উনি তোমাকে যবাহ্ করবেন আল্লাহর (হুকুম পালনের জন্য)।
- উনি যদি আল্লাহর জন্য যবাহ্ করেন, তো আমি সহ্য করব। আর আল্লাহ তো এর হকদার যে, আমি তাঁর জন্য কুরবান হয়ে যাব।
শয়তান যখন ইসহাককেও ভোলাতে পারল না, তো হযরত সারার কাছে গেল। গিয়ে বলল, ইসহাক কোথায় যাচ্ছে?
- ওর আব্বার সাথে একটা কাজে।
- উনি তো ওকে যবাহ্ করবেন।
- তুমি কি কাউকে দেখেছ, নিজের ছেলেকে যবাহ্ করতে?
- উনি ওকে যবাহ্ করবেন আল্লাহর জন্য।
- তাহলে তো কোনও অসুবিধা নেই। কেননা ওঁরা উভয়ে আল্লাহর বান্দা এবং আল্লাহ এমন এক সত্তা, যাঁর জন্য সবকিছু বিলিয়ে দেওয়া যায়।
শয়তান দেখল, হযরত সারার কাছেও তার কোনও ছলচাতুরী খাটল না। তাই সে তখন (মিনা প্রান্তরে) জামারাতুল আকাবার কাছে এল এবং রাগের চোটে এত ফুলল যে, পুরো প্রান্তরে নিজের শরীর বিছিয়ে দিল। সেই সময় হযরত ইবরাহীমের সাথে একজন ফিরিশতা (হযরত জিব্রাঈল) ও ছিলেন। ফিরিশতা বললেন, হে ইব্রাহীম! আপনি (ওই অভিশপ্ত শয়তানকে) সাতবার কাঁকর ছুঁড়ে মারুন এবং প্রত্যেকবার কাঁকর ছোঁড়ার সময় 'আল্লাহু আকবার' বলুন।

সুতরাং ওই পন্থায় শয়তান রাস্তা থেকে সরে গেল। এরপর হযরত ইব্রাহীম দ্বিতীয় জামরায় পৌঁছলেন। সেখানেও শয়তান রাগে শরীর ফুলিয়ে পুরো মাঠ ঢেকে রেখেছিল।

ফিরিশতা তখনও বললেন, হে ইব্রাহীম, ফের সাতবার কাঁকর মারুন। সুতরাং তিনি ফের সাতটা কাঁকর ছুঁড়লেন। এবং প্রত্যেক কাঁকর ছোঁড়ার সময় তাকবীর বললেন। যার ফলে শয়তান হটে গিয়ে রাস্তা ছেড়ে দিল।

এরপর হযরত ইব্রাহীম তৃতীয় জামরায় গেলেন। সেখানেও শয়তান শরীর ফুলিয়ে সব রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল। ফিরিশতা তখনও কাঁকর মারতে বললেন। সুতরাং হযরত ইব্রাহীম ফের সাতটা কাঁকর মারলেন। এবং প্রতিটি কাঁকর ছোঁড়ার সময় 'আল্লাহ আকবার' বললেন। এর ফলে অভিশপ্ত শয়তান রাস্তা থেকে সরে গেল। এবং হযরত ইব্রাহীম কুরবানীর জায়গা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলেন। (১৯)

টিকাঃ
(১৯) ইবনু আবী হাতিম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00