📄 হযরত মূসার (আঃ) সাথে শয়তানের সাক্ষাৎ
হযরত ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন: হযরত মুসা (আঃ)-এর সাথেও শয়তান সাক্ষাৎ করেছিল। এবং সে বলেছিল হে মূসা! আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাঁর রসূল হিসাবে মনোনীত করেছেন। এবং আপনার সঙ্গে তিনি কথাও বলেছেন। তা, আমি তো আল্লাহর এক সৃষ্টি। আমি একটা গুনাহ করে ফেলেছি। এখন তাওবা করতে চাইছি। আপনি আল্লাহর দরবারে আমার জন্য সুপারিশ করুন, যাতে তিনি আমার তাওবা কবুল করেন।
হযরত মূসা (আঃ) আল্লাহর উদ্দেশে দুআ করেন। আল্লাহ বলেন, ওহে মুসা! আমি তোমার ডাকে সাড়া দিয়েছি।
সুতরাং হযরত মুসা (আঃ) ইবলীসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এবং তাকে বলেন, আমাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তুই যদি হযরত আদমের কবরে সাজদা করিস, তবে তোর তাওবা কবুল করা হবে।
শয়তান তখন অহংকারে উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকে, আমি যাকে বেঁচে থাকাকালে সাজদা করিনি, মারা যাবার পর তাকে কীভাবে সাজদা করতে পারি!
এরপর ইবলীস বলে, হে মুসা! আপনি যেহেতু আমার জন্য সুপারিশ করেছেন, সেহেতু আমার উপর আপনার হক এসে গেছে। তাই বলছি, আপনি তিনটি ক্ষেত্রে আমার কথা স্মরণ করবেন। (অর্থাৎ আমার বিষয়ে হুঁশিয়ার থাকবেন।) ধ্বংসের সেই ক্ষেত্র বা পরিস্থিতি তিনটি হল এইঃ
(১) যখন রাগ হবে, মনে করবেন, ওটা আমার প্রভাবে হয়েছে, যা আপনার অন্তরে পড়েছে। আমার চোখ সেই সময় আপনার চোখে বসানো থাকে। এবং আমি সেই সময় আপনার রক্তের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকি।
(২) যখন দু'দল সৈন্য পরস্পর যুদ্ধ করতে থাকে, সেই সময় আমিই মুজাহিদের কাছে আসি। এবং তাকে তার বিবি-বাচ্চার কথা মনে পড়িয়ে দিতে থাকি, যতক্ষণ না সে পিছনে ফিরে পালায়।
(৩) না-মাহ্রম (যার সঙ্গে বিয়ে অবৈধ নয় এমন) মহিলার সঙ্গে বসা থেকেও বাঁচবেন। কেননা সেই সময় আমি পরস্পরের দূত হিসাবে কাজ করি। (১৫)
টিকাঃ
(১৫) ইবনু আবিদ দুনয়া, মাকায়িদুশ শায়তান (৪৪) তালবীসুল ইবলীস। ইহইয়াউল উলুম, ৩ঃ ৩১। দুররুল মানসুর, ১ঃ ৪৫১। মাসায়িবুল ইন্সান।
📄 হযরত মূসার (আঃ) সাথে শয়তানের বাক্যালাপ
হযরত মূসা (আঃ) একবার কোথাও যাচ্ছিলেন। সেই সময় অভিশপ্ত ইবলীস তাঁর কাছে আসে। তার মাথায় তখন ছিল একটা রঙচঙের টুপি। হযরত মূসার কাছাকাছি এসে শয়তান টুপিটা খুলে বলে, আস্ সালামু আলাইকা ইয়া মুসা!
হযরত মূসা জানতে চান, তুমি কে হে? - আমি ইবলীস।
আল্লাহ্ তোর সর্বনাশ করুন। কেন এসেছিস এখানে?
- আপনার হাতে মুসলমান হবার জন্যে। কারণ আপনার মান-মর্যাদা অনেক বেশি আল্লাহর দরবারে।
তোর মাথায় একটু আগে কী যেন দেখছিলাম? - ওটা দিয়ে আমি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করি।
মানুষ কী কাজ করলে তুই ওকে কাবু করে ফেলিস? - যখন মানুষ আত্মপ্রশংসায় ডুবে যায় এবং নিজের কাজকে খুব বড় করে দেখে। - আপনাকে আমি তিনটি বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি।
(১) যে মহিলা আপনার জন্য বৈধ নয়, তার সঙ্গে নির্জনে থাকবেন না। কারণ যখন কোনও মানুষ না-মাহরাম মহিলার সঙ্গে নির্জনে থাকে, সেই সময় আমিও সেখানে উপস্থিত থাকি এবং তাদেরকে পাপকাজে জড়িয়ে দিয়ে তবেই ছাড়ি।
(২) আল্লাহর সঙ্গে আপনি কোনও অঙ্গীকার করলে তা পূরণ করবেন। কেননা যে মানুষ আল্লাহর কাছে কোনও অঙ্গীকার করে, আমি তার পিছনে লেগে যাই এবং শেষ পর্যন্ত তাকে অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়েই ছাড়ি।
(৩) আর আপনি যখন দান-খায়রাতের জন্য টাকা পয়সা বের করবেন, তা অবশ্যই খরচ করবেন। কেননা, যে ব্যক্তি দান-খায়রাতের জন্য টাকা-পয়সা বের করে, আমি তার পিছনে লেগে যাই, যাতে সে ওই টাকা-পয়সাগুলো হকদারদের না দেয়।
এরপর শয়তান তিনবার ধ্বংস ধ্বংস ধ্বংস বলে চিৎকার করে চলে যায়। আর হযরত মূসাও জেনে যায় শয়তানের বিষয়ে মানুষকে কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। (১৬)
টিকাঃ
(১৬) মাকায়িদুশ শাইতান (৭৪), ইবনু আবিদ দুনয়া। তালবীসুল ইবলীস। ইহইয়াউল উলুম, গাযালী, ৩ঃ ৩১-৯৭।
📄 হযরত মূসার (আঃ) কাছে শয়তানের আশা
জনৈক শায়খের সূত্রে হযরত ফুযাইল বিন আইয়াযের বর্ণনাঃ হযরত মূসা (আঃ) এর কাছে ইবলীস সেই সময় এসেছিল, যখন তিনি আল্লাহর কাছে দুআ প্রার্থনা করছিলেন। ফিরিস্তারা ইবলীসকে বলেন, তুই ধ্বংস হয়ে যা! হযরত মূসার কাছে কী চাইতে এসেছিস! তাও আবার এমন সময়ে, যখন তিনি আল্লাহর কাছে মুনাজাত করছেন। শয়তান বলে, আমি তার কাছে সেই আশাই নিয়ে এসেছি, যে আশা নিয়ে গিয়েছিলাম আদমের কাছে, যখন তিনি ছিলেন জান্নাতে। (১৭)
টিকাঃ
(১৭) মাকিয়াদুশ শায়তান (৪৮), ইবনু আবিদ দুনইয়া। তালবীসুল ইবলীস।
📄 হযরত ইবরাহীমের (আঃ) মোকাবিলায় শয়তান
হযরত কাত্ব (রাঃ) বলেছেন: হযরত ইব্রাহীম (আঃ) স্বপ্নে দেখেন যে তিনি নিজের ছেলে হযরত ইস্হাক (আঃ)-কে যবাহ্ করছেন। (নবী রসূলদের স্বপ্নও একধরণের অহী। অর্থাৎ হযরত ইব্রাহীমকে স্বপ্ন অহীর মাধ্যমে ছেলেকে যবাহ্ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।) শয়তান সেকথা জানতে পেরে মনে মনে বলে, এই এক মস্ত সুযোগ। এই সময় যদি ওদের ফিতনায় ফেলতে না পারি, তবে আর কক্ষণো পারব না।
হযরত ইব্রাহীম ছেলেকে নিয়ে যবাহ্ করার জন্য বের হয়ে যাবার পর শয়তান হযরত সারা'র কাছে গিয়ে বলল, ইব্রাহীম সাহেব আপনার ছেলেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, জানেন?
হযরত সারা কোনও এক দরকারে।
শয়তানঃ না না। কোনও দরকারে নয়। বরং উনি নিয়ে যাচ্ছেন ওকে যবাহ্ করার জন্য।
হযরত সারা নিজের ছেলেকে উনি যবাহ্ করবেন কেন?
শয়তানঃ ওঁর ধারণা, আল্লাহ ওঁকে ওই কাজ করার হুকুম দিয়েছেন।
হযরত সারা উনি আল্লাহর হুকুম পালন করলে তো ভালই করবেন।
শয়তান তখন হযরত সারার কাছ থেকে (ব্যর্থ হয়ে) হযরত ইসহাকের কাছে গিয়ে বলে, তোমার আব্বা তোমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
হযরত ইসহাক কোনও এক কাজে।
শয়তান: না, কোনও কাজে নয়। উনি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছেন যবাহ্ করার জন্য।
হযরত ইসহাক: উনি আমাকে যবাহ্ করবেন কেন?
শয়তানঃ ওঁর ধারণা, আল্লাহ ওঁকে ওই কাজ করার হুকুম দিয়েছেন।
হযরত ইসহাক আল্লাহ যদি ওঁকে ওই হুকুম দিয়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর কসম! উনি অবশ্যই তা পালন করবেন।
হযরত ইসহাকের কাছেও ব্যর্থ হবার পর শয়তান এবার গেল হযরত ইব্রাহীমের কাছে। বলল, ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, জনাব?
হযরত ইব্রাহীম: এক দরকারে।
শয়তান: কোনও দরকারে নয়, বরং আপনি তো একে যবাহ্ করতে নিয়ে যাচ্ছেন।
হযরত ইব্রাহীম: কেন আমি ছেলেকে যবাহ্ করব?
শয়তান: আপনার ধারণা হয়েছে যে, আল্লাহ আপনাকে ও কাজ করার হুকুম দিয়েছেন।
হযরত ইব্রাহীম: আল্লাহর হুকুম তো আমি অবশ্যই পালন করব।
সুতরাং শয়তান হযরত ইবরাহীমের কাছেও ব্যর্থ হল। এবং ওঁদেরকে তার অনুসারী করার বিষয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে গেল। (১৮)
টিকাঃ
(১৮) আবদুর রায্যাক। ইবনু জারীর। হাকিম। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী।