📄 হযরত নুহের (আঃ) কাছে শয়তান
হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহ (আঃ) নৌকায় চড়ার পর তাকে এক অচেনা বুড়োকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কে?
- আমি শয়তান - কেন এসছিস এখানে? - আপনার অনুরাগীদের মন-মগজ খারাপ করতে। ওদের দেহগুলো আপনার কাছে থাকলেও মনগুলো আছে আমার সাথে। - ওরে আল্লাহর দুশমন! বের হয়ে যা এখান থেকে।
(আমাকে এখন নৌকা থেকে নামাবেন না।) শুনুন, পাঁচটা বিষয় এমন আছে, যেগুলোর দ্বারা আমি মানুষকে গুমরাহ করি। সেগুলোর মধ্যে তিনটে আমি বলে দিচ্ছি আর দুটো গোপন রাখছি।
সেই সময় হযরত নূহকে এ মর্মে অহী করা হয় যে, তুমি শয়তানকে বল, মানুষকে গুমরাহ করার যে দুটো জিনিস ও গোপন রাখতে চাইছে, ওই দুটো জিনিসের কথা বলতে।
শয়তান বলে, সেই দুটো জিনিসের মধ্যে একটা হল ‘হিংসা’- এরই কারণে আমি অভিশপ্ত এবং বিতাড়িত শয়তান হয়েছি। আর দ্বিতীয় জিনিসটা হল ‘লোভ’ (আল্লাহ, হযরত আদমের জন্য জান্নাত হালাল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত আদম জান্নাতে চিরকাল থাকায় লোভ করেছিলেন। তাই) এরই কারণে আমি নিজের উদ্দেশ্য সফল করেছি।
📄 হযরত নূহের (আঃ) কাছে শয়তানের তাওবার ভাওতা
হযরত আবুল আলিয়াহ (রহঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা ছাড়ার সময়, নৌকার পিছন দিকে শয়তানকে উপস্থিত থাকতে দেখে, হযরত নূহ বলেন, তুই ধ্বংস হ! তোরই কারণে ডাঙার মানুষেরা ডুবে মরেছে! তুই ওদের সর্বনাশ করেছিস।
ইবলীস বলে, আমি কী করতে পারি? হযরত নূহ বলেন, তুই তওবা কর।
ইবলীস বলে, তাহলে আপনি আল্লাহর কাছে জেনে দেখুন যে, আমার তওবা কবুল হবার সম্ভাবনা আছে কি না।
তো হযরত নূহ তখন আল্লাহর কাছে ও বিষয়ে দু'আ করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ও যদি আদমের কবরে সাজদা করে, তাহলে ওর তওবা কবুল হতে পারে। হযরত নূহ শয়তানকে বলেন, তোর তাওবার পদ্ধতি ঠিক হয়ে গেছে। শয়তান বলে, কীভাবে? হযরত নূহ বলেন, আদমের কবরে তোকে সাজদা করতে হবে।
শয়তান বলে, 'জ্যান্ত আদমকে আমি সাজদা করিনি, এখন মরা আদমকে কীভাবে সাজদা করতে পারি!(৭)
টিকাঃ
(৭) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া। দুররুল মানসুর, ৩ঃ ৩৩। מסায়িবুল ইন্সান।
📄 নূহের (আঃ) নৌকায় শয়তান ঢুকেছে কীভাবে
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহের নৌকায় সবার আগে' উঠেছিল পিঁপড়ে এবং সবার শেষে উঠেছিল গাধা। ইবলীস উঠেছিল গাধার লেজ ধরে ঝুলতে থাকা অবস্থায় (৮)
টিকাঃ
(৮) গ্রন্থকার কর্তৃক সূত্রবিহীন।
📄 নৌকায় ওঠার সময় শয়তানের ঔদ্ধত্য
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহ (আঃ) তাঁর নৌকায় সবার আগে পিঁপড়েকে তুলেছিলেন এবং সবার শেষে তুলেছিলেন গাধাকে। গাধা তার দেহের সামনের অংশ নৌকায় তোলার পর ইবলীস তার লেজ জড়িয়ে ধরে, যার কারণে গাধা তার পা ভিতরে নিয়ে যেতে পারেনি। হযরত নূহ তখন (গাধার উদ্দেশে) বলেন, তুই ধ্বংস হ! আয়, ভিতরে চলে আয়। গাধাটা তখন পা তোলে। কিন্তু শক্তিতে কুলোয় না। অবশেষে হযরত নূহ বলেন, তোর সাথে শয়তান থাকলেও পুরোপুরি ভিতরে চলে আয়। হযরত নূহ একথা বলতেই শয়তান গাধার রাস্তা ছেড়ে দেয়। ফলে গাধা ভিতরে ঢুকে যায়। তার সাথেই শয়তানও ঢুকে পড়ে। হযরত নূহ তখন শয়তানকে বলেন, ওরে খোদার দুশমন, কে ঢোকাল তোকে? শয়তান বলল, আপনিই তো (গাধাকে) বললেন, তোর সাথে শয়তান থাকলেও পুরোপুরি ভিতরে চলে আয়। হযরত নূহ বলেন, যা, ভাগ, এখান থেকে। শয়তান বলে, 'আমাকে নৌকায় তুলে নেওয়া আপনার জরুরি। (কেননা আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ আমাকেই এই বন্যার আযাব থেকে এই নৌকারই মাধ্যমে বাঁচাবেন।) সুতরাং শয়তান এরপর সেই নৌকার ছাদে গিয়ে ওঠে। (৯)
টিকাঃ
(৯) ইবনু জারীর। ইবনু আবী হাতিম।