📄 হাবীল হত্যায় হযরত আদমের (আঃ) সাথে শয়তানের বিতর্ক
হযরত আদম (আঃ)-এর এক ছেলে (কাবীল) নিজের ভাই (হাবীল)-কে হত্যা করলে হযরত আদম (আঃ) বলেনঃ
تغيَّرَتِ الْبِلادُ وَمَنْ عَلَيْهَا - فَوَجَهُ الْأَرْضِ مُغَيَّرُ قَبِيحُ
تَغَيَّرَ كُلِّ ذِي طَعْمٍ وَلَوْنَ - وَقَلَّ بِشَاشَةُ الْوَجْهِ الصَّبِيح
قتل قَابِيلُ هَابِيلًا أَخَاهُ - فَوَاجَزَنِي مَضَى الْوَجْهِ الْمَلِيحِ
: বঙ্গায়নঃ পেরেশান হয়ে পড়েছে সকল জনপদ ও তার বাসিন্দারা, ধূলির ধরনী হয়েছে মলিন বদলে গিয়েছে তার চেহারা। সুস্বাদু আর সুদৃশ্য সব বস্তুগুলো বদলে গেছে, দীপ্তিভরা চেহারাগুলোর সজীবতা হারিয়ে গেছে। কাবীল তাহার ভাই হাবীলকে নিজের হাতে খুন করল। পেরেশান আমায় করল সে আর চাঁদের বদন বিদায় নিল।
শয়তান তখন উত্তরে বলেঃ
تَنَعَ عَنِ الْبِلَادِ وَسَاكِنِيهَا فَبِى فِي الْخُلْدِ ضَاقَ بِكَ الْفَسِيحُ
وكُنْتَ بِهَا وَزَوْجُكَ فِي رُخَاءِ - وَقَلْبُكَ مِنْ أَدَى الدُّنْيَا مَرِيحٌ
فَمَا انْفَكُتُ مَكَابِدَتِي وَمَكْرِى - إلَى أَنْ فَاتَكَ التَّمْرُ الدَّبِيحُ
: বঙ্গায়ন: জনপদ ও তার বাসিন্দাদের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন, মোর কারণে বিশাল স্বর্গ সঙ্কুচিত তোমার জন্য। তুমি ও তোমার স্ত্রী ছিলে মজার সাথে জান্নাতে, এবং তোমার মনটা ছিল মুক্ত ধরার কষ্ট হতে। আমিও তাই চালিয়ে যাচ্ছি আমার ছলাকলা যত, শেষ অবধি তোমার থেকে টাটকা খেজুরও লুণ্ঠিত। (৬)
টিকাঃ
(৬) তারীখে বাগ্দাদ। তারীখে দামিক, ইবনু আসাকির।
📄 হযরত নুহের (আঃ) কাছে শয়তান
হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহ (আঃ) নৌকায় চড়ার পর তাকে এক অচেনা বুড়োকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কে?
- আমি শয়তান - কেন এসছিস এখানে? - আপনার অনুরাগীদের মন-মগজ খারাপ করতে। ওদের দেহগুলো আপনার কাছে থাকলেও মনগুলো আছে আমার সাথে। - ওরে আল্লাহর দুশমন! বের হয়ে যা এখান থেকে।
(আমাকে এখন নৌকা থেকে নামাবেন না।) শুনুন, পাঁচটা বিষয় এমন আছে, যেগুলোর দ্বারা আমি মানুষকে গুমরাহ করি। সেগুলোর মধ্যে তিনটে আমি বলে দিচ্ছি আর দুটো গোপন রাখছি।
সেই সময় হযরত নূহকে এ মর্মে অহী করা হয় যে, তুমি শয়তানকে বল, মানুষকে গুমরাহ করার যে দুটো জিনিস ও গোপন রাখতে চাইছে, ওই দুটো জিনিসের কথা বলতে।
শয়তান বলে, সেই দুটো জিনিসের মধ্যে একটা হল ‘হিংসা’- এরই কারণে আমি অভিশপ্ত এবং বিতাড়িত শয়তান হয়েছি। আর দ্বিতীয় জিনিসটা হল ‘লোভ’ (আল্লাহ, হযরত আদমের জন্য জান্নাত হালাল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত আদম জান্নাতে চিরকাল থাকায় লোভ করেছিলেন। তাই) এরই কারণে আমি নিজের উদ্দেশ্য সফল করেছি।
📄 হযরত নূহের (আঃ) কাছে শয়তানের তাওবার ভাওতা
হযরত আবুল আলিয়াহ (রহঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকা ছাড়ার সময়, নৌকার পিছন দিকে শয়তানকে উপস্থিত থাকতে দেখে, হযরত নূহ বলেন, তুই ধ্বংস হ! তোরই কারণে ডাঙার মানুষেরা ডুবে মরেছে! তুই ওদের সর্বনাশ করেছিস।
ইবলীস বলে, আমি কী করতে পারি? হযরত নূহ বলেন, তুই তওবা কর।
ইবলীস বলে, তাহলে আপনি আল্লাহর কাছে জেনে দেখুন যে, আমার তওবা কবুল হবার সম্ভাবনা আছে কি না।
তো হযরত নূহ তখন আল্লাহর কাছে ও বিষয়ে দু'আ করেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ও যদি আদমের কবরে সাজদা করে, তাহলে ওর তওবা কবুল হতে পারে। হযরত নূহ শয়তানকে বলেন, তোর তাওবার পদ্ধতি ঠিক হয়ে গেছে। শয়তান বলে, কীভাবে? হযরত নূহ বলেন, আদমের কবরে তোকে সাজদা করতে হবে।
শয়তান বলে, 'জ্যান্ত আদমকে আমি সাজদা করিনি, এখন মরা আদমকে কীভাবে সাজদা করতে পারি!(৭)
টিকাঃ
(৭) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া। দুররুল মানসুর, ৩ঃ ৩৩। מסায়িবুল ইন্সান।
📄 নূহের (আঃ) নৌকায় শয়তান ঢুকেছে কীভাবে
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহের নৌকায় সবার আগে' উঠেছিল পিঁপড়ে এবং সবার শেষে উঠেছিল গাধা। ইবলীস উঠেছিল গাধার লেজ ধরে ঝুলতে থাকা অবস্থায় (৮)
টিকাঃ
(৮) গ্রন্থকার কর্তৃক সূত্রবিহীন।