📄 হযরত আদমের (আঃ) হাত ও ইবলীসের হাত
হযরত সাররি বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেছেনঃ যখন হযরত আদম (আঃ) পৃথিবীর মাটিতে নেমে এসেছিলেন, 'তখন তাঁর হাতে ছিল গম। আর... এর উপর ইবলীস রেখেছিল তার (অমঙ্গলের) হাত। সুতরাং তার হাত যে জিনিসে পড়েছে, তার ফায়দা উবে গেছে।(৩)
টিকাঃ
(৩) ইবনু আবী হাতিম। আবুশ শায়খ (কিতাবুল আযামাহ্)।
📄 হযরত হাওয়ার সামনে শয়তান
(হাদীস) হযরত সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لَمَّا وَلَدَتْ حَوَاءُ طَافَ بِهَا إِبْلِيسُ وَكَانَ لَا يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ فَقَالَ سَمِّيهِ عَبْدَ الحَارِثِ فَإِنَّهُ يَعِيشُ فَسَمَّتْهُ عَبْدَ الْحَارِثِ فَإِنَّهُ يَعِيشُ فَسَمَّتْهُ عَبْدَ الْحَارِثِ فَعَاشَ وَكَانَ ذَلِكَ مِنْ وَحْيِ الشَّيْطَان وأمره
হযরত হাওয়া একবার বাচ্চা প্রসব করার পর ইবলীস তাঁর চারদিকে ঘোরে। কারণ, তাঁর কোনও বাচ্চা বেঁচে থাকত না। শয়তান বলে, 'আপনি এর নাম রাখুন 'আবদুল হারিস'। তাহলে এ মরবে না।' সুতরাং হযরত হাওয়া সেই বাচ্চার নাম রাখেন আবদুল হারিস। এবং বাচ্চাটি বেঁচে থাকে। তিনি ওই কাজটি করেছিলেন শয়তানের প্ররোচনায় ও তার কথায়।(৪)
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্যঃ পরে হযরত আদম (আঃ) ওই খবর জানতে পেরে হযরত হাওয়াকে বলেন, যে এই কাজ করেছে, সে ছিল তোমার শত্রু শয়তান। সুতরাং বাচ্চাটির সেই নামও তিনি বদলে দেন। (৫) -অনুবাদক
টিকাঃ
(৪) মুস্লাদে আহমাদ। তিরমিযী। ইবনু জারীর। ইবনু আবী হাতিম। ইবনু মারদাবিয়াহ হাকিম। আল্ বিদায়াহ্ অন নিহায়াহ ১ঃ ৯৬। দুররুল মানসুর, ৩ঃ ১৫১। তাফসীর, ইবনু কাসীর, ৫ঃ ১২৯।
(৫) অনুবাদক।
📄 হাবীল হত্যায় হযরত আদমের (আঃ) সাথে শয়তানের বিতর্ক
হযরত আদম (আঃ)-এর এক ছেলে (কাবীল) নিজের ভাই (হাবীল)-কে হত্যা করলে হযরত আদম (আঃ) বলেনঃ
تغيَّرَتِ الْبِلادُ وَمَنْ عَلَيْهَا - فَوَجَهُ الْأَرْضِ مُغَيَّرُ قَبِيحُ
تَغَيَّرَ كُلِّ ذِي طَعْمٍ وَلَوْنَ - وَقَلَّ بِشَاشَةُ الْوَجْهِ الصَّبِيح
قتل قَابِيلُ هَابِيلًا أَخَاهُ - فَوَاجَزَنِي مَضَى الْوَجْهِ الْمَلِيحِ
: বঙ্গায়নঃ পেরেশান হয়ে পড়েছে সকল জনপদ ও তার বাসিন্দারা, ধূলির ধরনী হয়েছে মলিন বদলে গিয়েছে তার চেহারা। সুস্বাদু আর সুদৃশ্য সব বস্তুগুলো বদলে গেছে, দীপ্তিভরা চেহারাগুলোর সজীবতা হারিয়ে গেছে। কাবীল তাহার ভাই হাবীলকে নিজের হাতে খুন করল। পেরেশান আমায় করল সে আর চাঁদের বদন বিদায় নিল।
শয়তান তখন উত্তরে বলেঃ
تَنَعَ عَنِ الْبِلَادِ وَسَاكِنِيهَا فَبِى فِي الْخُلْدِ ضَاقَ بِكَ الْفَسِيحُ
وكُنْتَ بِهَا وَزَوْجُكَ فِي رُخَاءِ - وَقَلْبُكَ مِنْ أَدَى الدُّنْيَا مَرِيحٌ
فَمَا انْفَكُتُ مَكَابِدَتِي وَمَكْرِى - إلَى أَنْ فَاتَكَ التَّمْرُ الدَّبِيحُ
: বঙ্গায়ন: জনপদ ও তার বাসিন্দাদের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন, মোর কারণে বিশাল স্বর্গ সঙ্কুচিত তোমার জন্য। তুমি ও তোমার স্ত্রী ছিলে মজার সাথে জান্নাতে, এবং তোমার মনটা ছিল মুক্ত ধরার কষ্ট হতে। আমিও তাই চালিয়ে যাচ্ছি আমার ছলাকলা যত, শেষ অবধি তোমার থেকে টাটকা খেজুরও লুণ্ঠিত। (৬)
টিকাঃ
(৬) তারীখে বাগ্দাদ। তারীখে দামিক, ইবনু আসাকির।
📄 হযরত নুহের (আঃ) কাছে শয়তান
হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত নূহ (আঃ) নৌকায় চড়ার পর তাকে এক অচেনা বুড়োকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কে?
- আমি শয়তান - কেন এসছিস এখানে? - আপনার অনুরাগীদের মন-মগজ খারাপ করতে। ওদের দেহগুলো আপনার কাছে থাকলেও মনগুলো আছে আমার সাথে। - ওরে আল্লাহর দুশমন! বের হয়ে যা এখান থেকে।
(আমাকে এখন নৌকা থেকে নামাবেন না।) শুনুন, পাঁচটা বিষয় এমন আছে, যেগুলোর দ্বারা আমি মানুষকে গুমরাহ করি। সেগুলোর মধ্যে তিনটে আমি বলে দিচ্ছি আর দুটো গোপন রাখছি।
সেই সময় হযরত নূহকে এ মর্মে অহী করা হয় যে, তুমি শয়তানকে বল, মানুষকে গুমরাহ করার যে দুটো জিনিস ও গোপন রাখতে চাইছে, ওই দুটো জিনিসের কথা বলতে।
শয়তান বলে, সেই দুটো জিনিসের মধ্যে একটা হল ‘হিংসা’- এরই কারণে আমি অভিশপ্ত এবং বিতাড়িত শয়তান হয়েছি। আর দ্বিতীয় জিনিসটা হল ‘লোভ’ (আল্লাহ, হযরত আদমের জন্য জান্নাত হালাল করে দিয়েছিলেন। কিন্তু হযরত আদম জান্নাতে চিরকাল থাকায় লোভ করেছিলেন। তাই) এরই কারণে আমি নিজের উদ্দেশ্য সফল করেছি।