📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত হাওয়াকে শয়তান প্রস্রবসা দিয়েছে কেমন করে

📄 হযরত হাওয়াকে শয়তান প্রস্রবসা দিয়েছে কেমন করে


হযরত সাঈদ বিন আহমাদ বিন হাযরমী (রহঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা হযরত আদম (আঃ) ও হাওয়াকে জান্নাতে বসবাসের নির্দেশ দেবার পর একদিন হযরত আদম (আঃ) (একা) জান্নাতে ভ্রমণ করতে বের হয়েছিলেন। ইবলীস তাঁর ওই অনুপস্থিতিকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে এবং সে হযরত হাওয়ার কাছে গিয়ে হাজির হয়। সেখানে গিয়ে ইবলীস এমন সুন্দর সুললিত তানে বাঁশি বাজাতে শুরু করে যে, অমন মনকাড়া সুর কেউ কখনও শোনেনি। সেই বাঁশির সুরে শেষপর্যন্ত হযরত হাওয়ার রন্ধ্রে শিহরণ ঘটে যায়। তারপর শয়তান বাঁশি সরিয়ে বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত করুণ কান্নার সুরে বাজাতে শুরু করে। অমন বিষাদের সুরও কেউ তখনও শোনেনি।

হযরত হাওয়া তখন শয়তানের উদ্দেশে বলেন, তুমি এ কী জিনিস এনেছ?
শয়তান বলে, জান্নাতে আপনাদের অবস্থান আর আল্লাহর দরবারে আপনাদের সম্মান দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি (তাই প্রথমে খুশির সুরে বাঁশি বাজিয়েছি)। তারপর এখান থেকে আপনাদের বের করে দেবার কথা মনে পড়ায় দুঃখিত হয়েছি (সেজন্য কান্নার সুরে বাঁশি বাজিয়েছি)। আচ্ছা, আপনাদের প্রতিপালক তো আপনাদের বলেছেন যে, আপনারা এই গাছের ফল খেলে মারা পড়বেন এবং এই জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হবেন। হে হাওয়া, আমাকে দেখুন, আমি এই গাছের ফল খাচ্ছি। খাওয়ার পর যদি আমি মারা পড়ি কিংবা আমার আকার আকৃতি বদলে যায়, তাহলে আপনারা খাবেন না। আমি আপনাদের আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনাদের রব, আপনাদেরকে এই গাছের ফল খেতে মানা করেছেন কেবল এইজন্য, যাতে আপনারা চিরকাল জান্নাতে থাকতে না পারেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তোমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু।(২)

টিকাঃ
(২) ইবনু মুনযির।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত আদমের (আঃ) হাত ও ইবলীসের হাত

📄 হযরত আদমের (আঃ) হাত ও ইবলীসের হাত


হযরত সাররি বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেছেনঃ যখন হযরত আদম (আঃ) পৃথিবীর মাটিতে নেমে এসেছিলেন, 'তখন তাঁর হাতে ছিল গম। আর... এর উপর ইবলীস রেখেছিল তার (অমঙ্গলের) হাত। সুতরাং তার হাত যে জিনিসে পড়েছে, তার ফায়দা উবে গেছে।(৩)

টিকাঃ
(৩) ইবনু আবী হাতিম। আবুশ শায়খ (কিতাবুল আযামাহ্)।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হযরত হাওয়ার সামনে শয়তান

📄 হযরত হাওয়ার সামনে শয়তান


(হাদীস) হযরত সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لَمَّا وَلَدَتْ حَوَاءُ طَافَ بِهَا إِبْلِيسُ وَكَانَ لَا يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ فَقَالَ سَمِّيهِ عَبْدَ الحَارِثِ فَإِنَّهُ يَعِيشُ فَسَمَّتْهُ عَبْدَ الْحَارِثِ فَإِنَّهُ يَعِيشُ فَسَمَّتْهُ عَبْدَ الْحَارِثِ فَعَاشَ وَكَانَ ذَلِكَ مِنْ وَحْيِ الشَّيْطَان وأمره
হযরত হাওয়া একবার বাচ্চা প্রসব করার পর ইবলীস তাঁর চারদিকে ঘোরে। কারণ, তাঁর কোনও বাচ্চা বেঁচে থাকত না। শয়তান বলে, 'আপনি এর নাম রাখুন 'আবদুল হারিস'। তাহলে এ মরবে না।' সুতরাং হযরত হাওয়া সেই বাচ্চার নাম রাখেন আবদুল হারিস। এবং বাচ্চাটি বেঁচে থাকে। তিনি ওই কাজটি করেছিলেন শয়তানের প্ররোচনায় ও তার কথায়।(৪)

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্যঃ পরে হযরত আদম (আঃ) ওই খবর জানতে পেরে হযরত হাওয়াকে বলেন, যে এই কাজ করেছে, সে ছিল তোমার শত্রু শয়তান। সুতরাং বাচ্চাটির সেই নামও তিনি বদলে দেন। (৫) -অনুবাদক

টিকাঃ
(৪) মুস্লাদে আহমাদ। তিরমিযী। ইবনু জারীর। ইবনু আবী হাতিম। ইবনু মারদাবিয়াহ হাকিম। আল্ বিদায়াহ্ অন নিহায়াহ ১ঃ ৯৬। দুররুল মানসুর, ৩ঃ ১৫১। তাফসীর, ইবনু কাসীর, ৫ঃ ১২৯।
(৫) অনুবাদক।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হাবীল হত্যায় হযরত আদমের (আঃ) সাথে শয়তানের বিতর্ক

📄 হাবীল হত্যায় হযরত আদমের (আঃ) সাথে শয়তানের বিতর্ক


হযরত আদম (আঃ)-এর এক ছেলে (কাবীল) নিজের ভাই (হাবীল)-কে হত্যা করলে হযরত আদম (আঃ) বলেনঃ
تغيَّرَتِ الْبِلادُ وَمَنْ عَلَيْهَا - فَوَجَهُ الْأَرْضِ مُغَيَّرُ قَبِيحُ
تَغَيَّرَ كُلِّ ذِي طَعْمٍ وَلَوْنَ - وَقَلَّ بِشَاشَةُ الْوَجْهِ الصَّبِيح
قتل قَابِيلُ هَابِيلًا أَخَاهُ - فَوَاجَزَنِي مَضَى الْوَجْهِ الْمَلِيحِ
: বঙ্গায়নঃ পেরেশান হয়ে পড়েছে সকল জনপদ ও তার বাসিন্দারা, ধূলির ধরনী হয়েছে মলিন বদলে গিয়েছে তার চেহারা। সুস্বাদু আর সুদৃশ্য সব বস্তুগুলো বদলে গেছে, দীপ্তিভরা চেহারাগুলোর সজীবতা হারিয়ে গেছে। কাবীল তাহার ভাই হাবীলকে নিজের হাতে খুন করল। পেরেশান আমায় করল সে আর চাঁদের বদন বিদায় নিল।

শয়তান তখন উত্তরে বলেঃ
تَنَعَ عَنِ الْبِلَادِ وَسَاكِنِيهَا فَبِى فِي الْخُلْدِ ضَاقَ بِكَ الْفَسِيحُ
وكُنْتَ بِهَا وَزَوْجُكَ فِي رُخَاءِ - وَقَلْبُكَ مِنْ أَدَى الدُّنْيَا مَرِيحٌ
فَمَا انْفَكُتُ مَكَابِدَتِي وَمَكْرِى - إلَى أَنْ فَاتَكَ التَّمْرُ الدَّبِيحُ
: বঙ্গায়ন: জনপদ ও তার বাসিন্দাদের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন, মোর কারণে বিশাল স্বর্গ সঙ্কুচিত তোমার জন্য। তুমি ও তোমার স্ত্রী ছিলে মজার সাথে জান্নাতে, এবং তোমার মনটা ছিল মুক্ত ধরার কষ্ট হতে। আমিও তাই চালিয়ে যাচ্ছি আমার ছলাকলা যত, শেষ অবধি তোমার থেকে টাটকা খেজুরও লুণ্ঠিত। (৬)

টিকাঃ
(৬) তারীখে বাগ্দাদ। তারীখে দামিক, ইবনু আসাকির।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00