📄 শয়তান খায় এক আঙুলে
(হাদীস) হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الأكلُ بِاصْبَعِ وَاحِدَةٍ أَكُلُ الشَّيْطَانِ وَبِاثْنَتَيْنِ أَكُلُ الْجَبَابِرَةِ وَيا لثَّلَاثِ أَكْلُ الْأَنْبِيَاءِ
এক আঙুলে শয়তান খায়, দু আঙুলে জালিমরা খায় আর তিন আঙুলে খান নবীগণ (অর্থাৎ তিন আঙুল দিয়ে খাওয়া নবীদের সুন্নাত) (৭৩)
টিকাঃ
(৭৩) দায়লামী, হাদীস নং ৪৩৬। ইবনু নাজ্জার। আহাফুস্ সাদাতুল মুত্তাক্বীন, ৫: ২৭২। কানযুল উম্মাল, ৪০৮৬৬। জামিই সগীর, ৩০৭৪। জামউল জাওয়ামিই, ১০১৫২। ফাইযুল কুদীর, ৩: ১৮১।
📄 শয়তানের উস্তাদ কে
আব্দুল গাফ্ফার বিন শুআইব (রহঃ) বলেছেন : আমাকে হযরত হাসান (রাঃ) বলেছেনঃ শয়তানের সঙ্গে আমার একবার সাক্ষাৎ হয়। সে আমাকে বলে, আগে আগে তো আমি লোকজনকে (শয়তানী) তাল্লীম দিতাম, কিন্তু এখন আমি নিজেই মানুষের থেকে (শয়তানী) তাল্লীম হাসিল করি (অর্থাৎ বহু মানুষ এমন আছে, যারা শয়তানী কাজে শয়তানের চাইতেও এগিয়ে গেছে।। (৭৪)
টিকাঃ
(৭৪) তারীখ, ইবনু আসাকির।
📄 কে শয়তানের সঙ্গী
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ), রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِذَا رَكِبَ الْعَبْدُ الدَّابَّةَ فَلَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى رَدِفَهُ الشَّيْطَانُ وقال تَغَنَّ فَإِذَا كَانَ لَا يُحْسِنُ الغِنَاء قَالَ لَهُ تَمَنَّ فَلَا يَزَالُ فِي أمْنِيَتِهِ حَتَّى يَنزِلُ
কোনও মানুষ, আল্লাহর নাম না-নিয়ে (বিসমিল্লাহ না বলে) সওয়ারী পশুর পিঠে চাপলে শয়তান তার সঙ্গী হয় এবং তাকে বলে, কিছু (গান) গাও। সে ভালো গাইতে না পারলে শয়তান তাকে বলে, কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষা করো। সুতরাং সে নানান আশা-আকাঙ্ক্ষার জালেই আটকে থাকে, যতক্ষণ না সওয়ারী থেকে নামে। (৭৫)
টিকাঃ
(৭৫) দায়লামী। কানযুল উম্মাল, হাদীস ২৪৯৯৫। আল জামউল কাবীর, ১৪ ৬১।
📄 শয়তান পাক না নাপাক
ইবনু ইমাদ হামবলী (রহঃ) লিখেছেনঃ
اعوذُ باللهِ مِنَ الرِّجْسِ النَّجَسِ الخَبِيثِ الْمُخْبِثِ الشَّيْطَانِ الرحيم
জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই বাণী সুস্পষ্টরূপে প্রমাণিত করছে যে, ইবলীস 'নাযাসুল আইন' (অর্থাৎ এমন নাপাক, যা খাওয়া-পরা-ছোঁওয়া নাজায়েয) (৭৬)।
ইমাম বাগবী (রহঃ) শারহুস্ সুন্নাহ গ্রন্থে লিখেছেন: মুর্শিকদের মতো ইবলীসও 'তাহিরুল আইন' ('আপাত-পবিত্র'?)। তাঁর এই মতের সমর্থনে তিনি উল্লেখ করেছেন- জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) নামায পড়তে থাকা অবস্থায় শয়তানকে ধরেছিলেন অথচ নামায ভাঙেননি। সুতরাং ইবলীস নাপাক হলে নবীজী ওকে নামাযের মধ্যে পাকড়াও করতেন না। হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে ইবলীস কার্যকলাপের বিচারে মারাত্মক রকমের অপবিত্র এবং ওর স্বভাব চরিত্রও চরম পর্যায়ের কলুষিত। (৭৭)
টিকাঃ
(৭৬) সিরাজ, আলজাওযাতুল জান্ন।
(৭৭) শারহুস্ সুন্নাহ। ইমাম বাগবী।