📄 আযান ও নামাযের সময় শয়তানের অবস্থা
(হাদীস) হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِذَا نُودِيَ بِالصَّلوةِ ادْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ فُرَاطٍ حَتَّى لَا يَسْمَعَ التَّاذِينَ فَإِذَا قَضَى النَّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا تُوِّبَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قَضَى التشويب أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا يَخْطُرُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُولُ اذْكُرُ كَذَا وَاذْكُرْ كَذَا بِمَا لَمْ يَكُنْ يُذْكَرُ مِنْ قَبْلُ حَتَّى يَظِلُّ الرَّجُلُ لَا يَدْرِى كم صلى -
নামাযের জন্য যখন আযান দেওয়া হয়, সেই সময় শয়তান আযানের কথাগুলো সহ্য করতে না পেরে বায়ু নিঃসরণ করতে করতে পালাতে থাকে, যতক্ষণ না আযানের শব্দসীমার বাইরে যায়। আযান শেষ হয়ে গেলে ফের সে ফিরে আসে। (এবং মানুষের অন্তরে অস্ত্রসা দিতে থাকে।) তারপর যখন নামাযের জন্য তাব্বীর বলা হয়, তখনও শয়তান পালিয়ে যায়। তাব্বীর হয়ে গেলে ফের সে ফিরে আসে এবং নামাযীর অন্তরে বিভিন্ন খেয়াল আনিয়ে দেয়। আর বলে, অমুক কথা মনে কর, তমুক কথা স্মরণ কর। যে-সব কথা নামাযের বাইরে মনে পড়ে না। শেষ পর্যন্ত নামাযী মানুষ ভুলে যায়, যে সে কত রাআত নামায পড়েছে। (৬১)
টিকাঃ
(৬১) বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব ৪; কিতাবুল আমাল ফিস্ সলাত, বাব ১৮। মুসলিম, কিতাবুস সলাত, হাদীস নং ১৯; কিতাবুল মাসাজিদ, হাদীস ৮০-৮৪। আবু দাউদ, কিতাবুস্ সালাত, বাব ৩১। নাসায়ী, কিতাবুল আযান, বাব ৩০। দারিমী, কিতাবুস, সলাত, বাব ১১, ১৭৪। মুআত্তায়ে মালিক, কিতাবু। নিদা, হাদীস ৬। মুস্লাদে আহমাদ, ২ঃ ৩১৩, ৪৬০, ৫০৩, ৫২২। বায়হাকী, ১: ৩২১। তাজবীদ, ২৮৩। তারগীব অ তারহীব, ১: ১৭১। মাজমাউয যাওয়াইদ, ১: ৩২৪। কান্যুল উম্মাল, ৩০৮৮৩, ২০৯৪৭, ২০৯৪৯।
📄 শয়তান একপায়ে জুতো পরে
(হাদীস) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لَا يَمْشِي أَحَدُكُمْ فِي نَعْلِ وَاحِدٍ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَمْشِي فِي نعل وَاحِدٍ -
তোমাদের মধ্যে কেউ যেন একপায়ে জুতো পরে না হাঁটে। কেননা শয়তান চলে এক পায়ে জুতো পরে। (৬২)
টিকাঃ
(৬২) ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৬১৭। মুশকিলুল আসার, ২: ১৪১। তাজবীদ, ২৬৭। বুখারী, ৭১৯৯। মুসলিম, কিতাবুল লিবাস, বাব ১১, হাদীস ৬৮। আবু দাউদ, ৪১৩৬। তিরমিযী, ১৭৭৪। ইবনু আবী শায়বাহ, ৮: ২২৮। মিশকাত, ৪৪১১। ফাতহুল বারী, ১০: ৩০৯। কানযুল উম্মাল, ৪১৬০২।
📄 শয়তানকে দেখতে পায় গাধা
(হাদীস) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِذَا سَمِعْتُمْ صُرَاحَ الدِّيكَةِ فَاسْتَلُوا مِنْ فَضْلِهِ فَإِنَّهَا رَنَتْ مَلَكًا وَإِذَا سَمِعْتُمْ نَهِيقَ الْحِمَارِ فَتَعَرَّدُوا يَا للَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهَا رَأتْ شَيْطَانًا -
তোমরা মোরগের ডাক শুনলে আল্লাহর কাছে কল্যাণ (ফল) প্রার্থনা করবে, কারণ ওই সময় সে ফিরিস্তা দেখতে পায়। আর গাধার ডাক শুনলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কেননা ওই সময় সে শয়তানকে দেখে। (৬৩)
টিকাঃ
(৬৩) বুখারী, কিতাবু, বাউল খলক বাব ১৫। মুসলিম, কিতাবুয যিক্স, হাদীস ৮২। তিরমিযী, কিতাবুদ দাআত, বাব ৫৬। মুসনাদে আহমাদ, ২ঃ ৩০৬, ৩২১, ৩৬৪। আবূ দাউদ, ৫১০২। শারহুস্ সুন্নাহ, ৫: ১২৬। মিশকাত, ২৪১৯। আল্ হাবায়িক ফী আখারিল মালায়িক, ১৪৯। তাফসীর ইবনু কাসীর, ৬: ৩৪২। আল্ আদাবুল মুফ্রাদ ১২৩৬।
📄 শয়তানের রং
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত রাফিই বিন ইয়াযীদ সাকাফী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ الشَّيْطَانَ يُحِبُّ الْحُمْرَةَ فَإِيَّاكُمْ وَالْعُمْرَةَ وَكُلَّ ثَوْبٍ ذِي شُهَرَةٍ
শয়তান লাল রং পছন্দ করে, অতএব তোমরা লাল রং (এর পোশাক পরা) থেকে নিজেদের বাঁচাবে এবং বিরত থাকবে সমস্ত গর্বসৃষ্টিকারী পোশাক থেকেও। (৬৪)
টিকাঃ
(৬৪) আবূ আহমাদ আল্ হাকিম, ফিল কিনা। কামিল, ইবনু আদী, ১১৭২। ইবনু কানিই। ইবনুস সুকুন। ইবনু মান্দাহ। আবু নাঈম, ফিল-মাত্মিফাত। বায়হাকী, ফী শুআবুল ঈমান। আল্-জামিই আস্-সগীর। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৫: ১৩০। জামউল জাওয়ামিই, ৫৬১৯। কানযুল উম্মাল, ৪১১৬১। ফাতহুল বারী, ১০: ৩০৬। মুস্লাদুল ফিরদাউস, দায়লামী, হাদীস ৩৬৮৮; ২: ৩৭৯। মারাসীল, আবূ দাউদ। আল-জামিই আল্ কাবীর, ১৪৮৪।