📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তানের শিং কী রকম

📄 শয়তানের শিং কী রকম


হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের সময় আল্লাহর তরফ থেকে এক ফিরিস্তা সূর্যের কাছে এসে তাকে উদয় হবার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শয়তান সূর্যের সামনে এসে তাকে উদয় হতে বাধা দেয়। কিন্তু সূর্য তার দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়েই উদয় হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা শয়তানের নিচের অংশ জ্বালিয়ে দেন। আর সূর্য অস্ত যাবার সময় আল্লাহর সামনে সাজদাবনত হয়। সেই সময়েও শয়তান তার কাছে এসে সাজদা করতে বাধা দেয়। কিন্তু সূর্য তার দুই শিংয়ের মধ্য দিয়েই অস্ত যায় এবং আল্লাহ তাআলা শয়তানের নিচের অংশ তখনও জ্বালিয়ে দেন। জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র বাণীর মর্মার্থ হল এই। তিনি বলেছেন-'সূর্য উদয় হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান থেকে এবং অস্তও যায় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যে।' (৫৫)

টিকাঃ
(৫৫) কুরতুবী, ১:৬৩। তাহযীবে তারীকে দামিশুক, ইবনু আসাকির, ৩: ১২৪।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তানের বৈঠকখানা

📄 শয়তানের বৈঠকখানা


(হাদীস) সাহাবীগণের সূত্র দিয়ে জনৈক ব্যক্তির বর্ণনাঃ
إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَجْلِسَ بَيْنَ الضَّحِ وَالظِّلِّ وَقَالَ مَجْلِسُ الشَّيْطَانِ
রসূলুল্লাহ (সাঃ) ধূপ ও ছায়ার মধ্যে (অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশ রোদে ও কিছু অংশ ছায়ায় রেখে) বসতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন-'এটা শয়তানের বৈঠক।' (৫৬)

প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকেও বর্ণিত আছে যে, কিছু অংশ রোদে ও কিছু অংশ ছায়ায় রেখে সবার মানে শয়তানের জায়গায় বসা। হযরত আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-র বাচনিকেও এরকম বর্ণনা আছে। হযরত কাতাদাহ (রহঃ) ও বলেছেন-শয়তান ধূপ ও ছায়ার মাঝখানে বসে। (৫৯)

টিকাঃ
(৫৬) মুস্লাদে আহমাদ, ৩:৪১৪। আল্ বিদায়াহ্ অন্ নিহায়াহ, ১:৬২।
(৫৯) কিতাবুল আদাব, আবূ বকর আল্ খিলাল।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তানের শোবার ঘর

📄 শয়তানের শোবার ঘর


হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহঃ) বলেছেনঃ শয়তান ঘুমায় ধূপছায়ায়। (৬০)

টিকাঃ
(৬০) মুসান্নিকে ইবনু আবী শায়বাহ। কিতাবুল আদাব, আবু বকর আল্-খিলাল।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আযান ও নামাযের সময় শয়তানের অবস্থা

📄 আযান ও নামাযের সময় শয়তানের অবস্থা


(হাদীস) হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِذَا نُودِيَ بِالصَّلوةِ ادْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ فُرَاطٍ حَتَّى لَا يَسْمَعَ التَّاذِينَ فَإِذَا قَضَى النَّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا تُوِّبَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قَضَى التشويب أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا يَخْطُرُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُولُ اذْكُرُ كَذَا وَاذْكُرْ كَذَا بِمَا لَمْ يَكُنْ يُذْكَرُ مِنْ قَبْلُ حَتَّى يَظِلُّ الرَّجُلُ لَا يَدْرِى كم صلى -
নামাযের জন্য যখন আযান দেওয়া হয়, সেই সময় শয়তান আযানের কথাগুলো সহ্য করতে না পেরে বায়ু নিঃসরণ করতে করতে পালাতে থাকে, যতক্ষণ না আযানের শব্দসীমার বাইরে যায়। আযান শেষ হয়ে গেলে ফের সে ফিরে আসে। (এবং মানুষের অন্তরে অস্ত্রসা দিতে থাকে।) তারপর যখন নামাযের জন্য তাব্বীর বলা হয়, তখনও শয়তান পালিয়ে যায়। তাব্বীর হয়ে গেলে ফের সে ফিরে আসে এবং নামাযীর অন্তরে বিভিন্ন খেয়াল আনিয়ে দেয়। আর বলে, অমুক কথা মনে কর, তমুক কথা স্মরণ কর। যে-সব কথা নামাযের বাইরে মনে পড়ে না। শেষ পর্যন্ত নামাযী মানুষ ভুলে যায়, যে সে কত রাআত নামায পড়েছে। (৬১)

টিকাঃ
(৬১) বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব ৪; কিতাবুল আমাল ফিস্ সলাত, বাব ১৮। মুসলিম, কিতাবুস সলাত, হাদীস নং ১৯; কিতাবুল মাসাজিদ, হাদীস ৮০-৮৪। আবু দাউদ, কিতাবুস্ সালাত, বাব ৩১। নাসায়ী, কিতাবুল আযান, বাব ৩০। দারিমী, কিতাবুস, সলাত, বাব ১১, ১৭৪। মুআত্তায়ে মালিক, কিতাবু। নিদা, হাদীস ৬। মুস্লাদে আহমাদ, ২ঃ ৩১৩, ৪৬০, ৫০৩, ৫২২। বায়হাকী, ১: ৩২১। তাজবীদ, ২৮৩। তারগীব অ তারহীব, ১: ১৭১। মাজমাউয যাওয়াইদ, ১: ৩২৪। কান্যুল উম্মাল, ৩০৮৮৩, ২০৯৪৭, ২০৯৪৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00