📄 শয়তানের শিং আছে কী
(হাদীস) হযরত আবদুল্লাহ সনাবাহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ وَمَعَهَا قَرْنُ الشَّيْطَانِ فَإِذَا ارْتَفَعَتْ فَارَقَهَا ثُمَّ إذا ستوت قَارَنَهَا فَإِذَا زَالَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا تَدَلَّتْ لِلْغُرُوبِ قَارَنَهَا فَإِذَا غَرَبَتْ فَارَقَهَا فَلَا تُصَلُّوا هَذِهِ الْا أَوْقَاتِ الثَّلَاثِ
সূর্য যখন উদয় হয়, তার সাথে শয়তানের শিংও থাকে। তারপর যখন সূর্য উপরে উঠে যায়, তখন শয়তানের শিং সরে যায়। ফের যখন সূর্য মাথার উপর আসে (দুপুরে), শয়তানের শিংও তখন তার সামনে থাকে। আবার সূর্য চলে গেলে শিংও সরে যায়। ফের সূর্য অস্ত যাবার সময় নিচে নামলে শিংও তার সামনে চলে আসে। এবং সূর্য ডুবে গেলে শিং হটে যায়। সুতরাং তোমরা এই তিনটি সময়ে নামায পড়বে না। (৫৩)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ হযরত উমর বিন আবাসাহ কর্তৃক বর্ণিত মারফু হাদীসে এরকম বর্ণনা আছে যে, সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান থেকে উদয় হয় এবং দুই শিংয়ের মাঝখানে অস্তও যায়। (৫৪)
টিকাঃ
(৫৩) মুআত্তায়ে মালিক। মুস্নাদে আহমাদ। ইবনু মাজাহ। শারহুস্ সুন্নাহ। বাদায়িউল মানান। সাআতী। সহীহ্ ইবনু খুযাইমাহ। মিল্কাত। তালখীসুল জিয়ার। মুস্লাদে শাফিঈ। আল্ ইস্তিষ্কার। আত্ তাম্হী., ইবনু আব্দুল বার। আল্ ফাকীহ অল-মুহাফাককিহ, খতীব বাগদাদী।
(৫৪) আবূ দাউদ। সুনানু নাসায়ী। বুখারী। মুসলিম।
📄 শয়তানের শিং কী রকম
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের সময় আল্লাহর তরফ থেকে এক ফিরিস্তা সূর্যের কাছে এসে তাকে উদয় হবার নির্দেশ দেয়। কিন্তু শয়তান সূর্যের সামনে এসে তাকে উদয় হতে বাধা দেয়। কিন্তু সূর্য তার দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়েই উদয় হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা শয়তানের নিচের অংশ জ্বালিয়ে দেন। আর সূর্য অস্ত যাবার সময় আল্লাহর সামনে সাজদাবনত হয়। সেই সময়েও শয়তান তার কাছে এসে সাজদা করতে বাধা দেয়। কিন্তু সূর্য তার দুই শিংয়ের মধ্য দিয়েই অস্ত যায় এবং আল্লাহ তাআলা শয়তানের নিচের অংশ তখনও জ্বালিয়ে দেন। জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র বাণীর মর্মার্থ হল এই। তিনি বলেছেন-'সূর্য উদয় হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান থেকে এবং অস্তও যায় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যে।' (৫৫)
টিকাঃ
(৫৫) কুরতুবী, ১:৬৩। তাহযীবে তারীকে দামিশুক, ইবনু আসাকির, ৩: ১২৪।
📄 শয়তানের বৈঠকখানা
(হাদীস) সাহাবীগণের সূত্র দিয়ে জনৈক ব্যক্তির বর্ণনাঃ
إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَجْلِسَ بَيْنَ الضَّحِ وَالظِّلِّ وَقَالَ مَجْلِسُ الشَّيْطَانِ
রসূলুল্লাহ (সাঃ) ধূপ ও ছায়ার মধ্যে (অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশ রোদে ও কিছু অংশ ছায়ায় রেখে) বসতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন-'এটা শয়তানের বৈঠক।' (৫৬)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকেও বর্ণিত আছে যে, কিছু অংশ রোদে ও কিছু অংশ ছায়ায় রেখে সবার মানে শয়তানের জায়গায় বসা। হযরত আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-র বাচনিকেও এরকম বর্ণনা আছে। হযরত কাতাদাহ (রহঃ) ও বলেছেন-শয়তান ধূপ ও ছায়ার মাঝখানে বসে। (৫৯)
টিকাঃ
(৫৬) মুস্লাদে আহমাদ, ৩:৪১৪। আল্ বিদায়াহ্ অন্ নিহায়াহ, ১:৬২।
(৫৯) কিতাবুল আদাব, আবূ বকর আল্ খিলাল।
📄 শয়তানের শোবার ঘর
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহঃ) বলেছেনঃ শয়তান ঘুমায় ধূপছায়ায়। (৬০)
টিকাঃ
(৬০) মুসান্নিকে ইবনু আবী শায়বাহ। কিতাবুল আদাব, আবু বকর আল্-খিলাল।