📄 শয়তানের বিছানা
হযরত কাইস বিন আবী হাযিম (রহঃ) বলেছেনঃ যে ঘরে এমন বিছানা পাতা থাকে, যাতে কেউ শোয় না, তাতে শয়তান শোয়। (৪৯)
হযরত জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
فراش لِلرَّجُلِ وَفِرَاشُ لِامْرَأَتِهِ وَالثَّالِثُ لِلضَّيْفِ وَالرَّابِعُ لِلشَّيْطَانِ
প্রথম বিছানা পুরুষের জন্য, দ্বিতীয় বিছানা তার স্ত্রীর জন্য, তৃতীয় বিছানা অতিথির জন্য, এবং চতুর্থ/বিছানা শয়তানের জন্য (অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিছানায় শয়তান থাকে)। (৫০)
টিকাঃ
(৪৯) ফাইযুল ক্বাদীর, শারহু জামিই সগীর, ১:১১।
(৫০) মুসলিম, কিতাবুল লিবাস, হাদীস ৪১। আবূ দাউদ, কিতাবুল লিবাস, বাব ৪২। নাসায়ী, কিতাবুন্ নিকাহ্, বাব ৮২। মুস্লাদে আহমাদ, ৩: ২৯৩, ৩২৪। মিল্কাত (৪৩১০)। আহাফুস্ সাদাহ্, ৫: ২৯২।
📄 শয়তান দুপুরে ঘুমায় না
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ তোমরা দুপুরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করবে। কেননা, শয়তান দুপুরে বিশ্রাম নেয় না।
ইমাম তবারানী (রহঃ) ও ইমাম আবু নুআঈম (রহঃ) উপরোক্ত কথাটি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পবিত্র বাণী হিসাবে হযরত আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনাসূত্রে গ্রথিত করেছেন। (৫১)
টিকাঃ
(৫১) মুউজামে আউসাত, তবারানী। আত্ ত্বিব্ব, আবু নাঈম। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮: ১১২। আহাফুস্ সাদাহ, ৫: ১৪৩। আত্ ত্বিব্বুন নববী, যাহাবী (১৫)। কানযুল উম্মাল, ২১৪৭৭। আল্ আহকায়ুন নাবাবিয়্যাহ্ ফী যিলালাতি, ত্বিব্বিয়্যাহ, ১: ১১৪। ফাহুল বারী, ১১: ৭০। কুরতুবী, ১৩: ২৩। কাশফুল খফা, ২:১৫৪। কুইসিরানী, ৫৮৩। দুরার, ১২২।
📄 শয়তান কা’বা শরীফের রূপ ধরতে পারে না
(হাদীস) হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
مَنْ دَانِي فِي مَنَامِهِ فَقَدْ رَانِي فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ بِي وَلَا بالكعبة
যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে, সে আমাকেই দেখেছে। কেননা শয়তান না আমার রূপ ধরতে পারে আর না পারে কাবা শরীফের আকার ধরতে। (৫২)
টিকাঃ
(৫২) তবারানী, সগীর।
📄 শয়তানের শিং আছে কী
(হাদীস) হযরত আবদুল্লাহ সনাবাহী (রাঃ) থেকে বর্ণিত জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ وَمَعَهَا قَرْنُ الشَّيْطَانِ فَإِذَا ارْتَفَعَتْ فَارَقَهَا ثُمَّ إذا ستوت قَارَنَهَا فَإِذَا زَالَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا تَدَلَّتْ لِلْغُرُوبِ قَارَنَهَا فَإِذَا غَرَبَتْ فَارَقَهَا فَلَا تُصَلُّوا هَذِهِ الْا أَوْقَاتِ الثَّلَاثِ
সূর্য যখন উদয় হয়, তার সাথে শয়তানের শিংও থাকে। তারপর যখন সূর্য উপরে উঠে যায়, তখন শয়তানের শিং সরে যায়। ফের যখন সূর্য মাথার উপর আসে (দুপুরে), শয়তানের শিংও তখন তার সামনে থাকে। আবার সূর্য চলে গেলে শিংও সরে যায়। ফের সূর্য অস্ত যাবার সময় নিচে নামলে শিংও তার সামনে চলে আসে। এবং সূর্য ডুবে গেলে শিং হটে যায়। সুতরাং তোমরা এই তিনটি সময়ে নামায পড়বে না। (৫৩)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ হযরত উমর বিন আবাসাহ কর্তৃক বর্ণিত মারফু হাদীসে এরকম বর্ণনা আছে যে, সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান থেকে উদয় হয় এবং দুই শিংয়ের মাঝখানে অস্তও যায়। (৫৪)
টিকাঃ
(৫৩) মুআত্তায়ে মালিক। মুস্নাদে আহমাদ। ইবনু মাজাহ। শারহুস্ সুন্নাহ। বাদায়িউল মানান। সাআতী। সহীহ্ ইবনু খুযাইমাহ। মিল্কাত। তালখীসুল জিয়ার। মুস্লাদে শাফিঈ। আল্ ইস্তিষ্কার। আত্ তাম্হী., ইবনু আব্দুল বার। আল্ ফাকীহ অল-মুহাফাককিহ, খতীব বাগদাদী।
(৫৪) আবূ দাউদ। সুনানু নাসায়ী। বুখারী। মুসলিম।