📄 ইবলীস ফিরিশতাদের অন্তর্গত
বর্ণনায় হযরত যাহহাক (রহঃ) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও হযরত ইবনু מסউদ (রাঃ)-এর মধ্যে (ইবলীস জ্বিন না ফিরিস্তা সে বিষয়ে) মতভেদ দেখা দিলে, ওদের মধ্যে একজন (মীমাংসা স্বরূপ) বলেন, ইবলীস ছিল ফিরিস্তাদের সেই গোত্রের অন্তর্গত, যাকে 'জ্বিন' বলা হত। (১৬)
আল্লাহর কালাম إِلَّا إِبْلِيْسُ كَانَ مِنَ الْجِنِّকেবল ইবলীস (সাজদা করেনি) সে ছিল জ্বিনের অন্তর্গত- এর তাফসীরে হযরত ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) বলেছেন- ফিরিস্তাদের মধ্যে এমন একটি শাখা ছিল, যাকে জ্বিন বলা হত (এই ইবলীস ছিল সেই জ্বিনশাখার অন্তর্গত)।
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ ইবলীস যদি ফিরিস্তাদের অন্তর্ভুক্ত না হত, তবে তাকেও সাজদা করার নির্দেশ দেওয়া হত না। ও আগে ছিল আসমানের তত্ত্বাবধায়ক। (১৮)
টিকাঃ
(১৬) ইবনুল মুনযির। কিতাবুল আযামাহ্, আবু আশ্-শায়খ।
(১৮) আব্দুর রায্যাক। ইবনু জারীর।
📄 জিনরা জান্নাতীদের জন্য গায়না বানায়
إِلَّا إِبْلِيْسُ كَانَ مِنَ الْجِنِّকেবল ইবলীস (সাজদা করেনি) সে ছিল এক জ্বিন-এই আয়াতের তাফসীর হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রহঃ) বলেছেনঃ এই জ্বিনরা ফিরিস্তাদের এমন এক গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যারা আদিাল থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত জান্নাতবাসীদের গয়না বানানোর কাজে নিযুক্ত। (১৯)
টিকাঃ
(১৯) ইবনু আবী হাতীম, আবূ আশ্-শায়খ।
📄 ইবলীসের প্রকৃত চেহারা বদলে দেওয়া হয়েছে
হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রহঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা যখন ইব্ল্লীসকে অভিশপ্ত বলে অভিহিত করেন, তখন তার ফিরিস্তাসুলভ চেহারাও বদলে দেন। সেই সময় সে আর্তনাদ করে ওঠে এবং এত কান্না কাঁদে যে কিয়ামত পর্যন্ত কান্নাকে তার সাথে গণ্য করা যেতে পারে (অর্থাৎ সে কেঁদেছিল দীর্ঘদিন ধরে) দ্বিতীয়বার শয়তান কেঁদেছিল মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে কা'বা শরীফে নামায পড়তে দেখে। সেই কান্নার কারণে ইবলীসের সাঙ্গপাঙ্গরা তার কাছে এসে জড়ো হয়ে যায়। ইবলীস তাদের বলে, তোমরা মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উম্মতদেরকে শিরকে জড়ানোর ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাও, কিন্তু ওদেরকে ওদের ধর্মের বিষয়ে ফেত্নাবাজী করতে পারো এবং ওদের মধ্যে শোক, আহাজারী, মাতম আর (ভিত্তিহীন) কবিতা ঢুকিয়ে দাও। (২০)
টিকাঃ
(২০) মাকায়িদুশ্ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনইয়া (৩৩), পৃষ্ঠা ৫৩। ইবনু আবী হাতিম। আবুশ শায়খ। হুলইয়াহ, আবু নাঈম ৯: ৬৩। আদ দুররুল মানসুর, ৪: ২২৭।
📄 ফিরিশতা না হবার প্রমাণ
হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেছেনঃ ইবলীস এক মুহূর্তের জন্যেও ফিরিস্তা ছিল না। সে ছিল আদি জ্বিন। যেমন আদিমানব হযরত আদম (আলাইহিস্ সালাম)। (২১)
ইমাম ইবনু শিহাব যুহুরী (রহঃ) বলেছেনঃ ইবলীস হল সমস্ত জ্বিনের বাপ, যেমন মানুষদের আদিপিতা হযরত আদম (আঃ)। আদম ছিলেন মানব এবং আদিমানব, আর ইবলীস হল জ্বিন এবং আদিজ্বিন। (২২)
টিকাঃ
(২১) ইবনু জারীর। আবুশ শায়খ।
(২২) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনয়া। ইবনু আবী হাতিম। আবুশ শায়খ। মাসায়িবুল ইন্সান, ইবনু মুফলিহ্, মুকদ্দিসী।