📄 ইবলীসের আসল নাম কী
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ ইবলীসের আসল নাম ছিল 'আযাযীল'। ও ছিল চারডানাবিশিষ্ট ফিরিস্তাদের মধ্যে বড় মর্যাদাশালী। পরবর্তীকালে ওকে আল্লাহর রহমত থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। (১২)
হযরত আবুল মাসনা (রহঃ) বলেছেনঃ ইবলীসের নাম ছিল 'নায়িল'। আল্লাহ ওর উপর নারাজ হবার পর ওর নাম রাখা হয় 'শয়তান' (১৩)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ ইবলীসের যে কয়েকটা নাম উল্লেখ করা হল, এগুলোর সবকটাই ঠিক হতে পারে। যেমন একটা জিনিসের নাম বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন হয়। (১৪)
টিকাঃ
(১২) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনইয়া (৭২), পৃষ্ঠা ৯১) আদ্-দুররুল মানসুর, ১:৫৫।
(১৩) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনইয়া (৭২), পৃষ্ঠা ৯১। ইবনু আবী হাতিম। আল্ আযদাদ ইবনুল আমবারী। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী। দুররুল মানসুর, ১৪৫।
(১৪) অনুবাদক।
📄 শয়তানের নাম ইবলীস রাখা হলো কেন
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা কর্তৃক শয়তানকে সবরকমের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করার কারণে ওর নাম রাখা হয়েছে 'ইবলীস' (১৫)
টিকাঃ
(১৫) ইবনু জারীর।
📄 ইবলীস ফিরিশতাদের অন্তর্গত
বর্ণনায় হযরত যাহহাক (রহঃ) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও হযরত ইবনু מסউদ (রাঃ)-এর মধ্যে (ইবলীস জ্বিন না ফিরিস্তা সে বিষয়ে) মতভেদ দেখা দিলে, ওদের মধ্যে একজন (মীমাংসা স্বরূপ) বলেন, ইবলীস ছিল ফিরিস্তাদের সেই গোত্রের অন্তর্গত, যাকে 'জ্বিন' বলা হত। (১৬)
আল্লাহর কালাম إِلَّا إِبْلِيْسُ كَانَ مِنَ الْجِنِّকেবল ইবলীস (সাজদা করেনি) সে ছিল জ্বিনের অন্তর্গত- এর তাফসীরে হযরত ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) বলেছেন- ফিরিস্তাদের মধ্যে এমন একটি শাখা ছিল, যাকে জ্বিন বলা হত (এই ইবলীস ছিল সেই জ্বিনশাখার অন্তর্গত)।
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ ইবলীস যদি ফিরিস্তাদের অন্তর্ভুক্ত না হত, তবে তাকেও সাজদা করার নির্দেশ দেওয়া হত না। ও আগে ছিল আসমানের তত্ত্বাবধায়ক। (১৮)
টিকাঃ
(১৬) ইবনুল মুনযির। কিতাবুল আযামাহ্, আবু আশ্-শায়খ।
(১৮) আব্দুর রায্যাক। ইবনু জারীর।
📄 জিনরা জান্নাতীদের জন্য গায়না বানায়
إِلَّا إِبْلِيْسُ كَانَ مِنَ الْجِنِّকেবল ইবলীস (সাজদা করেনি) সে ছিল এক জ্বিন-এই আয়াতের তাফসীর হযরত সাঈদ বিন জুবাইর (রহঃ) বলেছেনঃ এই জ্বিনরা ফিরিস্তাদের এমন এক গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যারা আদিাল থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত জান্নাতবাসীদের গয়না বানানোর কাজে নিযুক্ত। (১৯)
টিকাঃ
(১৯) ইবনু আবী হাতীম, আবূ আশ্-শায়খ।