📄 ইবলীসের বৈশিষ্ট্য ছিল কতগুলি
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ ফিরিস্তা সম্প্রদায়ের মধ্যে ইবলীসের খুব উঁচু মর্যাদা ছিল। তার গোত্রও ফিরিস্তাদের গোত্রগুলির মধ্যে সেরা ছিল। ও ছিল জান্নাতের প্রহরী ও ভারপ্রাপ্ত। দুনিয়ার আসমানে তার রাজত্ব চলত। পারস্য আর রোম উপসাগরও তার আয়ত্তে ছিল। একটি পূর্বে প্রবাহিত হত, অপরটি বইত পশ্চিমে। এই পৃথিবীর বাদশাহীও ইবলীসের ছিল। এতসব বৈশিষ্ট্যের কারণে তার নাফস্ তাকে এ বিষয়ে গোমরাহ্ করে যে, সে হল আসমানবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং উচ্চমর্যাদার অধিকারী। এই চিন্তাধারা তার অন্তরে গর্ব অহংকার ভরে দিয়েছিল। একথা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানত না। তারপর যখন (হযরত আদমকে) সিজদা করার সময় আসে, তখন আল্লাহ তাআলা তার অহংকার প্রকাশ করান এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাকে অভিশপ্ত করে দেন। (৮)
টিকাঃ
(৮) ইবনু জারীর, তবারী। ইবনুল মুনযির।
📄 ইবলীস আসমান-যমীনের বাদশাহ
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: 'জ্বিন' নামে ফিরিস্তাদের একটি গোত্র ছিল। ইবলীস ছিল সেই গোত্রের অন্তরর্গত। ও ছিল আসমান-যমীনের শাসনকর্তা। তারপর যখন ও আল্লাহর অবাধ্যতা করে, আল্লাহ্ ওর উপর অসন্তুষ্ট হন এবং ওকে বিতাড়িত শয়তান বলে অভিহিত করেন। (৯)
হযরত ইবনু מסউদ (রাঃ) ও অন্য কয়েকজন সাহাবী বলেছেনঃ ইবলীসকে প্রথমে আসমানের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছিল। এ ছিল ফিরিস্তাদের সেই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যাকে 'জ্বিন' বলা হত। এই ইবলীস ছিল সেই জ্বিনের অন্তর্গত। একে 'জ্বিন' বলার কারণ, এ ছিল জান্নাতের তত্ত্বাবধানকারী। আর, একারণে এর অন্তরে অহংকার এসে যায়, যার ফলে এ বলে, আল্লাহ আমাকে সমস্ত ফিরিস্তার চাইতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য এই সব মর্যাদা দান করেছেন। (১০)
টিকাঃ
(৯) ইবনু জারীর। ইবনুল মুনযির। কিতাবুল আযاماه, আবু আশ-শায়খ। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী।
(১০) ইবনু জারীর তবারী।
📄 ইবলীসের দায়িত্বে ‘বায়ু সঞ্চালন বিভাগ’ও ছিল
হযরত কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেছেনঃ যে দশ ফিরিশতা বায়ু সঞ্চালন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এই ইবলীসও ছিল একজন। (১১)
টিকাঃ
(১১) ইবনু আবিদ দুনইয়া।
📄 ইবলীসের আসল নাম কী
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ ইবলীসের আসল নাম ছিল 'আযাযীল'। ও ছিল চারডানাবিশিষ্ট ফিরিস্তাদের মধ্যে বড় মর্যাদাশালী। পরবর্তীকালে ওকে আল্লাহর রহমত থেকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। (১২)
হযরত আবুল মাসনা (রহঃ) বলেছেনঃ ইবলীসের নাম ছিল 'নায়িল'। আল্লাহ ওর উপর নারাজ হবার পর ওর নাম রাখা হয় 'শয়তান' (১৩)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্যঃ ইবলীসের যে কয়েকটা নাম উল্লেখ করা হল, এগুলোর সবকটাই ঠিক হতে পারে। যেমন একটা জিনিসের নাম বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন হয়। (১৪)
টিকাঃ
(১২) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনইয়া (৭২), পৃষ্ঠা ৯১) আদ্-দুররুল মানসুর, ১:৫৫।
(১৩) মাকায়িদুশ শায়তান, ইবনু আবিদ দুনইয়া (৭২), পৃষ্ঠা ৯১। ইবনু আবী হাতিম। আল্ আযদাদ ইবনুল আমবারী। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী। দুররুল মানসুর, ১৪৫।
(১৪) অনুবাদক।