📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ইবলীস ফিরিশতাদের অন্তর্গত ছিল কী

📄 ইবলীস ফিরিশতাদের অন্তর্গত ছিল কী


এ বিষয়ে আলিমদের মতভেদ আছে। অধিকাংশ আলিমদের মতে, ইবলীস ফিরিস্তাদের অন্তর্গত ছিল। কেননা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন - فَسَجَدُو إِلَّا إِبْلِيْسُ ইবলীস ছাড়া সবাই সাজদা করল। (২) - এক্ষেত্রে ফিরিস্তাদের সঙ্গে ইবলীসের উল্লেখের দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, ইবলীসও ছিল ফিরিস্তা সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।
আবার - اِلَّا إِبْلِيْسُ كَانَ مِنَ الْجِنِّ ইবলীস ছাড়া (সবাই সাজদা করেছে) সে ছিল জ্বিন (৩)। আল্লাহর এই বাণীর দ্বারা বোঝা যায় যে, ইবলীস (ফিরিশতা নয় বরং) জ্বিনদের অন্তর্গত। এর উত্তরে পূর্বোক্ত আলিমগণ বলেন যে, জ্বিনরাও একশ্রেণীর ফিরিস্তা। কেননা ফিরিস্তাদের একটি শ্রেণীকে বলা হয় কারীবিয়ূন এবং অপর শ্রেণীটিকে বলা হয় রূহানিয়ুন।

টিকাঃ
(২) সূরা বাকারা, আয়াত ৩৪।
(৩) সূরা বাকারা, আয়াত ৫০।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ইবলীস অভিশপ্ত শয়তান হল কীভাবে

📄 ইবলীস অভিশপ্ত শয়তান হল কীভাবে


বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইবলীস ছিল ফিরিস্তাদের গোত্রগুলির মধ্যে এক গোত্রের অন্তর্গত, যে গোত্রকে 'জ্বিন' বলা হত। তাদের সৃষ্টি করা হয়েছিল, 'লু'-এর আগুন দিয়ে। ইবলীসের নাম ছিল হারিস। সে ছিল জান্নাতের একজন দারোয়ান। ফিরিস্তাদের এই গোত্র (জ্বিন) ছাড়া বাকি সকলকে সৃষ্টি করা হয়েছিল 'নূর' দিয়ে। আর জ্বিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা দিয়ে। পৃথিবীতে সবার আগে এই জ্বিনেরাই বসবাস করত। তারা যমীনের বুকে দাঙ্গা-ফাসাদ করে, রক্তপাত ঘটায় এবং একে অপরকে হত্যা করে। তাদের দমন করার জন্য আল্লাহ তাআলা ফিরিস্তা বাহিনী দিয়ে ইবলীসকে পৃথিবীতে পাঠান। ইবলীস ফিরিস্তা বাহিনী নিয়ে সেই জ্বিনদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদেরকে সাগর-মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ও পাহাড় পর্বতের দিকে তাড়িয়ে দেয়। একাজ করার পর তার অন্তরে অহংকার এসে যায়। সে বলে, আমি এমন কাজ করেছি, যা আর কেউ করতে পারেনি।
আল্লাহ তাআলা ইবলীসের মনের কথা তো জেনে যান। কিন্তু ফিরিস্তারা জানতে পারেনি। তাই আল্লাহ যখন ফিরিস্তাদের বলেন, আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই। (৪) তখন ফিরিস্তারা নিবেদন করে আপনি কি এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে দাঙ্গা-ফাসাদ করবে এবং রক্ত বহাবে যেমন জ্বিনরা করেছিল। (৫) উত্তরে আল্লাহ বলেন, আমি এমন কথা জানি যা তোমরা জানো না। (৬) অর্থাৎ আল্লাহ বলেন, আমি ইবলীসের অন্তরে গর্ব অহংকারের উপস্থিতি দেখেছি, যা তোমরা দেখনি। এরপর আল্লাহ হযরত আদমকে শুকনো খখনে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেন। এবং তাঁর সেই মাটির তৈরি দেহকাঠামো চল্লিশ দিন যাবত ইবলীসের সামনে রেখে দেন। ইবলীস, হযরত আদমের সেই দেহকাঠামোর কাছে আসত। সেটিকে পা দিয়ে ঠোকর মারত। মুখ দিয়ে ঢুকে পিছনের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে যেত এবং পিছন দিয়ে ঢুকে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যেত। আর বলত-তোর কোনও গুরুত্ব নেই। তোকে সৃষ্টি করা না হলে কী এমন হত! আমাকে যদি তোর উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে তোকে আমি ধ্বংস করে দেব। তোর পিছনে আমাকে লাগানো হলে, তোকে আমি'নানান অপমানে জড়িয়ে দেব। আল্লাহ তাআলা হযরত আদমের দেহে প্রাণ সঞ্চারিত করার পর ফিরিস্তাদের নির্দেশ দেন আদমকে সাজদা করার। তো সবাই সাজদা করে। কিন্তু অস্বীকার করে কেবল ইবলীস। তার অন্তরে যে গর্ব অহংকার সৃষ্টি হয়েছিল, তার দরুন সে ঔদ্ধত্য দেখায় এবং বলে-'আমি ওকে সাজদা করব না। আমি ওর চাইতে সেরা। বয়সে বড় এবং শক্ত-সামর্থ শরীরের মালিক।
সেই সময় আল্লাহ তার থেকে সদগুণগুলো ছিনিয়ে নেন, যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করেন এবং তাকে 'অভিশপ্ত শয়তান' বলে অভিহিত করেন। (৭)

টিকাঃ
(৪) সূরা বাকারা, আয়াত ৩০।
(৫) সূরা বাকারা, আয়াত ৩০।
(৬) সূরা বাকারা, আয়াত ৩০।
(৭) ইবনু জারীর, তবারী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ইবলীসের বৈশিষ্ট্য ছিল কতগুলি

📄 ইবলীসের বৈশিষ্ট্য ছিল কতগুলি


হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ ফিরিস্তা সম্প্রদায়ের মধ্যে ইবলীসের খুব উঁচু মর্যাদা ছিল। তার গোত্রও ফিরিস্তাদের গোত্রগুলির মধ্যে সেরা ছিল। ও ছিল জান্নাতের প্রহরী ও ভারপ্রাপ্ত। দুনিয়ার আসমানে তার রাজত্ব চলত। পারস্য আর রোম উপসাগরও তার আয়ত্তে ছিল। একটি পূর্বে প্রবাহিত হত, অপরটি বইত পশ্চিমে। এই পৃথিবীর বাদশাহীও ইবলীসের ছিল। এতসব বৈশিষ্ট্যের কারণে তার নাফস্ তাকে এ বিষয়ে গোমরাহ্ করে যে, সে হল আসমানবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং উচ্চমর্যাদার অধিকারী। এই চিন্তাধারা তার অন্তরে গর্ব অহংকার ভরে দিয়েছিল। একথা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানত না। তারপর যখন (হযরত আদমকে) সিজদা করার সময় আসে, তখন আল্লাহ তাআলা তার অহংকার প্রকাশ করান এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাকে অভিশপ্ত করে দেন। (৮)

টিকাঃ
(৮) ইবনু জারীর, তবারী। ইবনুল মুনযির।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ইবলীস আসমান-যমীনের বাদশাহ

📄 ইবলীস আসমান-যমীনের বাদশাহ


হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: 'জ্বিন' নামে ফিরিস্তাদের একটি গোত্র ছিল। ইবলীস ছিল সেই গোত্রের অন্তরর্গত। ও ছিল আসমান-যমীনের শাসনকর্তা। তারপর যখন ও আল্লাহর অবাধ্যতা করে, আল্লাহ্ ওর উপর অসন্তুষ্ট হন এবং ওকে বিতাড়িত শয়তান বলে অভিহিত করেন। (৯)
হযরত ইবনু מסউদ (রাঃ) ও অন্য কয়েকজন সাহাবী বলেছেনঃ ইবলীসকে প্রথমে আসমানের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছিল। এ ছিল ফিরিস্তাদের সেই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, যাকে 'জ্বিন' বলা হত। এই ইবলীস ছিল সেই জ্বিনের অন্তর্গত। একে 'জ্বিন' বলার কারণ, এ ছিল জান্নাতের তত্ত্বাবধানকারী। আর, একারণে এর অন্তরে অহংকার এসে যায়, যার ফলে এ বলে, আল্লাহ আমাকে সমস্ত ফিরিস্তার চাইতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য এই সব মর্যাদা দান করেছেন। (১০)

টিকাঃ
(৯) ইবনু জারীর। ইবনুল মুনযির। কিতাবুল আযاماه, আবু আশ-শায়খ। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী।
(১০) ইবনু জারীর তবারী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00