📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 চার জিনের মৃত্যু কোরআনের আয়াত শুনে

📄 চার জিনের মৃত্যু কোরআনের আয়াত শুনে


বলেছেন হযরত খুলাইদ (রহঃ) একবার আমি দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি (প্রত্যেক জীবই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে) আয়াতটি বার বার পুনরাবৃত্তি করতে থাকি। এমন সময় কেউ এক জোরালো গলায় বলে উঠে 'এই আয়াতকে বারবার দোহ্রাবেন না। আপনি আমাদের চারজন জ্বিনকে কতল করে ফেলেছেন, যারা আপনার এই আয়াত পুনরাবৃত্তির কারণে আসমানের দিকে মাথা তুলতে পারেনি, শেষ পর্যন্ত মারাই পড়েছে।'

হযরত খুলাইদ (রহঃ)-এর স্ত্রী বলেছেন- এরপর হযরত খুলাইদ, এমন আত্মভোলা হয়ে যান যে আমি তাঁকে চিনতেও পারতাম না। মনে হত যেন, উনি অন্য কেউ। (২)

টিকাঃ
(২) সিফাতুস সফাওয়াহ্, ইবনুল জাওযী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ‘সাবুয়ী সাকতী (রহঃ)-কে তাআমীমদাত জিন

📄 ‘সাবুয়ী সাকতী (রহঃ)-কে তাআমীমদাত জিন


বর্ণনায় হযরত জুনাইদ বাগদাদী (রহঃ) আমি শুনেছি, হযরত সারী সাকত্বী (রহঃ) বলেছেন- একদিন আমি সফরে বের হই। যেতে যেতে এক পাহাড়ের উপত্যকায় পৌঁছতে অন্ধকার রাত নেমে আসে। ওখানে আমার কোনও শুভাকাঙ্ক্ষী ছিল না। হঠাৎ সেই রাতের আঁধার থেকে কেউ আমাকে ডাক দিয়ে বলল- 'অন্ধকারের কারণে মন-মগজ খারাপ করা উচিত নয় বরং পরম প্রিয় (আল্লাহ্)-কে না-পাওয়ার আশঙ্কায় মন-মগজ বিগলিত করা উচিত।'

হযরত সারী (রহঃ) বলেছেন- ওকথা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। জানতে চাই, 'কে আমাকে সম্বোধন করল- জ্বিন না মানুষ?' বলা হল, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মু'মিন জ্বিন। এবং আমার সাথে আমার অন্যান্য (মু'মিন জ্বিন) ভায়েরাও রয়েছে' আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'ওদের মধ্যে কি সেই ঈমান রয়েছে, যা আছে তোমার কাছে?' সে বলল, 'জ্বী হ্যাঁ, বরং ওদের মধ্যে আমার চাইতে বেশি ঈমান রয়েছে।'

সেই সময় ওদের মধ্য থেকে অন্য একজন আমার উদ্দেশ্যে বলল, 'চিরতরে গৃহছাড়া না হওয়া পর্যন্ত দেহ-মন থেকে আল্লাহ ভিন্ন আর সব বিষয়-বস্তু বের হবে না।'

আমি মনে মনে বললাম ওর কথাটা বেশ উঁচুদরের।

এরপর তৃতীয় জ্বিন আমাকে আওয়াজ দিয়ে বলল, 'যে ব্যক্তি অন্ধকারে আল্লাহ্ সাথে সম্পর্ক যুক্ত করে থাকে, তার কোন রকমের চিন্তা ভাবনা থাকে না।'

ওকথা শুনে আমি আর্তনাদ করে উঠি এবং আমার জ্ঞান হারিয়ে যায়। খুশু না-শোকানো পর্যন্ত আমার জ্ঞান ফেরেনি। আমার বুকের উপর একটা ফুল রাখা ছিল। তার সুগন্ধি আমার নাকে যেতে জ্ঞান ফিরে আসে। তখন আমি বলি, 'আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি রহম করুন। তোমরা আমাকে কিছু উপদেশ দাও।' ওরা সবাই তখন বলল, 'আল্লাহ্ তাআলা তাক্বওয়া অবলম্বনকারীদের অন্তরকেই আলো-ঝলমলে করতে চান। যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ্ আকাঙ্ক্ষা করবে, তার সেই আকাঙ্ক্ষা অনুপযুক্ত জায়গায় হবে। এবং যে মানুষ সর্বদা ডাক্তারের কাছে ঘুরঘুর করবে, তার অসুখ লেগেই থাকবে।'

এরপর তারা আমাকে বিদায় জানিয়ে চলে যায়। আমি সেই সময়ের আলাপনের স্মৃতি সকল সময় আপন অন্তরে অনুভব করি। (৩)

টিকাঃ
(৩) সিফাতুস সফাওয়াহ্, ইবনুল জাওযী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00