📄 কবিতা শেখানো জিন
বর্ণনা করেছেন হযরত ইউশা : একবার আমি হাযরা মাউতের (বিখ্যাত আলিম) ক্বাইস বিন মাদী কার্' এর কাছে যাবার জন্য বের হই। যেতে যেতে ইয়ামনের মধ্যেই আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলি। সেই সময় বৃষ্টিও শুরু হয়ে যায়। আমি তখন চর্তুদিকে চোখ ঘোরাই। তো আমার চোখ পড়ে পশমের তৈরী এক তাঁবুর উপর। সেদিকে এগিয়ে যাই। তাঁবুর দরজায় এক বুড়োর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। আমি তাকে সালাম দিই। সে আমার সালামের জবাব দেয়। তার পর সে আমার উটনীকে তাঁবুর এক কোনে নিয়ে যায়, যেখানে সে নিজে বসেছিল। সে আমাকে বলে, 'তোমার হাওদা খুলে দাও এবং একটু আরাম করে নাও।'
সুতরাং আমি হাওদা খুললাম। সে আমার জন্য কোন এক জিনিস আনল। তাতে আমি বসলাম। সে তখন বলল, 'তুমি কে? এবং কোথায় চলেছ?' বললাম, 'আমি ইউশা।' সে বলল, 'আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘায়ু করুন।' আমি বললাম, 'আমি যেতে চাই মাদী কারব-এর কাছে।' সে বলে, 'আমার ধারণা, তুমি কবিতার মাধ্যমে তার প্রশংসা করেছ।' বললাম, 'হ্যাঁ।' সে বলল, 'তা আমাকেও শোনাও।' সুতরাং আমি কবিতার আবৃত্তি শুরু করলাম-
رَحلَتْ سُمَيَّةٌ غَدْوَةَ أَحْمَالَهَا - غَضَبِى عَلَيْكَ فَمَا تقويدالها -
সে বলল, ব্যাস, ব্যাস। এই কসীদাহ্ কি তুমি রচনা করেছ।' বললাম, 'জী হ্যাঁ।' আমি তখন সবেমাত্র একটাই 'বয়েত' শুনিছি, সে বলে উঠল, 'যার প্রতি তুমি কবিতাকে সম্পৃক্ত করেছ' সেই 'সুমাইয়' কে?' আমি বললাম, 'তা আমি জানি না। ওর মনটা আমার মনে জেগেছে এবং নামটা আমার ভালো লেগেছে। তাই আমি ওকে কবিতার সাথে সম্পৃক্ত করেছি।' সে তখন ডাক দিয়ে বলল, 'ও সুমাইয়া! বাইরে এসো!' অনি একটি বছর পাঁচেকের মেয়ে বাইরে এসে দাঁড়াল। এবং বলল, 'কী ব্যাপার, আব্বা?' সেই বুড়ো বললো, 'তোমার এই চাচার সামনে আমার সেই কসীদাহ্ শোনাও, যাতে আমি ক্বাইস বিন মাদী কারত্বের গুণকীর্তন করেছি। এবং যার প্রথম বয়েত সম্পর্কিত করেছি তোমার নামে।' অনি সেই মেয়েটি তৈরী হল এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা কসীদাহটি শুনিয়ে দিল। একটা অক্ষরও ভুল হল না। সম্পূর্ণ কসীদাহ্ শোনার পর বুড়ো বলল, 'এবার ভিতরে চলে যাও।' তো সে চলে গেল। বুড়ো তখন আমাকে বলল, 'ও ছাড়াও আরও কিছু কি তুমি বানিয়েছ?'
আমি বললাম, 'হ্যাঁ। আমার ও আমার এক চাচাতো ভায়ের মধ্যে শত্রুতা ছিল, যার নাম ইয়াযীদ বিন মাস্হার। এবং উপনাম আবূ সাবিত। (কবিতার মাধ্যমে) আমি তার দোষ বর্ণনা করেছি। এবং তাকে লা-জবাব করে ছেড়েছি।' বুড়ো বলল, 'তার বিষয়ে তুমি কি বানিয়েছ?' বললাম, 'একটা গোটা কসীদাহ্। তার সূচনা হল-
وَدِّعْ هُرَيْرَةَ وَوَدَاعًا أَنَّ الرَّكْبَ مُرْتَحِلُ وَهَلْ تُطِيقُ وَدَاعًا أَيُّهَا الرَّجُلُ
সবেমাত্র এই একটা বয়েত বলেছি। অমনি সে বলে উঠল, 'ব্যস, ব্যস!' তারপর জানতে চাইল, 'তোমার এই বয়েতে যার নাম উল্লেখ করেছ, সেই 'হুরাইরা' কে?'
বললাম, 'তা আমি জানি না। এটাও ওভাবে উল্লেখ করেছি, যেভাবে সুমাইয়ার নাম উল্লেখ করেছিলাম।' সে তখন ডাক দিল, 'ও হুরাইরা!' অমনি একটি ছেলে বের হয়ে এল। সে ছিল আগের মেয়েটির সমবয়সী। (অর্থাৎ বছর পাঁচেকের)। বুড়ো তাঁকে বলল, 'তোমার এই চাচাকে আমার সেই কাসীদাহ্ শোনাও, যাতে আমি আবূ সাবিত ইয়াযীদ বিন মাস্হারের নিন্দা গেয়েছি।'
অমি বাচ্চা ছেলেটি সেই কসীদাহ্ আগাগোড়া নির্ভুলভাবে শুনিয়ে দিল। দেখে শুনে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলম। প্রচণ্ড ভয়ও পেলাম। আমার এই অবস্থা দেখে সেই বুড়ো বলল, 'ওহে আবু বাসীর! ঘাবড়িও না। আমি হচ্ছি 'হাহাসীক মাস্হাক বিন ইসাসাহ্। (অর্থাৎ একজন জ্বিন) আমি তোমার মুখ দিয়ে কবিতার শব্দবের করিয়েছি।'
ওকথা শুনার পর আমি কিছুটা ধাতস্ত হলাম। বৃষ্টিও তখন থেমে গিয়েছিল। তাকে বললাম, 'আমি রাস্তা ভুলে গিয়েছি। আমাকে রাস্তা বলে দাও।' তো সে আমাকে রাস্তা বাতলে দিল। কোন দিকে দিয়ে যাব তাও বলে দিল। এবং বলল, 'এদিকে-সেদিকে বাঁক নেবে না, সোজা অমুক দিকে এগুবে। তাহলেই কাইসের এলাকায় পৌঁছে যাবে।'(৩০)
টিকাঃ
(৩০) শারহু দীওয়ান আল ইইশা, আহাদী।
📄 নামাযে ঘাড় ঘুরিয়ে দেয় শয়তান
হযরত হাসান বসরী (রহঃ) বলেছেন: কোনও মানুষ যখন নামাযে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অন্য কোনও দিকে মন দেয়, শয়তান তখন তার ঘাড় সেদিকে ঘুরিয়ে দেয়। (৩১)
টিকাঃ
(৩১) মুসন্নিফে আব্দুর রায্যাক।
📄 শয়তানের একটি নাম ‘শাইউতির’
ইমাম ইবনু আসীর জাযারী বলেছেন: 'খাইতিউর' শয়তানের একটি নাম। (৩২)
* উল্লেখ্য: এরপর আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহঃ) 'খাইতিউর' সম্পর্কিত একটি দীর্ঘ আরবী কবিতা উল্লেখ করেছেন। খুব জরুরী না-হওয়ার দরুন সেটি এখানে পরিবেশন করা হলো না। (৩৩)
আবূ হাদ্রশ বলছেন: এই খাইতিউর ছিল সেইসব জ্বিনের অন্তর্গত, যারা হযরত আদম (আঃ)-এর পূর্বে পৃথিবীতে বসবাস করত। এবং শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জমানায় তাঁর প্রতিও ঈমান এনেছিল। (৩৪)
টিকাঃ
(৩২) নিহায়াহ্, ইবনু আসীর।
(৩৩) অনুবাদক।
(৩৪) আল্-মুগ্ধার।
📄 স্বপ্নের শয়তান
(হাদীস) হযতর আবু সালমাহ বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
وَكُلَ بِالنُّفُوسِ شَيْطَانَ يُقَالُ لَهُ : اللَّهُمَّ فَهُوَ يُخَيَّلُ إِلَيْهَا ويتراء أن ينتهى إِذَا عَرَجَ بِهَا فَإِذَا انْتَهَى إِلَى السَّمَاءِ فَمَا رَأَتْ 一 فَهُوَ الرُّؤْيَا الَّتِي تَصْدُقُ
নাফসের সাথে এক শয়তান মোতায়েন থাকে, যাকে বলে 'লাহুট'। সে (ঘুমের সময়) নাফ্সে বাজে খিয়াল আনিয়ে দেয় এবং তার সামনে সামনে থাকে। নাফ্স্ যদি (ঘুমের মধ্যে) উপরের দিকে ওঠে, তো সেও তার সাথে যায়। এবং যখন নাফস আসমানে পৌঁছে যায়, তখন মানুষ যে স্বপ্ন দেখে তা সত্য হয়। (কেননা আসমানে শয়তান পৌঁছতে পারে না, সে কেবল 'যমীনী স্বপ্নে' তার ধৃষ্টতা মেশাতে পারে। (৩৫)
টিকাঃ
(৩৫) নাওয়াদিরুল উসূল, হাকীম তিরমিযী। আল্-জামিই আল্-কাবীর, ১৪৮৭১। আহাফুস্ সাদাহ্, ৭৪ ২৮৮। কান্যুল উম্মাল ৪১৪২৯।