📄 আটা পেষাইকারী জিন
বর্ণনায় নাউফ আল-বুকালী: হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর এক বাঁদী প্রতিরাতে তিন কফীয পরিমাপ বিশেষ পরিমাণ আটা পেষাই করত। তার কাছে শয়তান আসে এবং তাকে সমুদ্রের দিকে নিয়ে গিয়ে দু'টুকরো করে দেয়। যাঁতাও ছিনিয়ে নেয়। তারপর সেই শয়তান নিজে ওই বাঁদীর মতো আটা নিয়ে যেত এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পিষে এনে হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর কাছে হাজির করত। হযরত সুলামইমান (আঃ) তার ওই কাজে অবাক হয়ে অন্য এক বাঁদীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। বাঁদীটি ইঙ্গিতে শয়তানের কথা বলল। এরপর হযরত সুলায়মান (আঃ) সমুদ্রের ধারে ধারে দেওয়াল গাঁথার কাজ করান। সুতরাং হযরত সুলাইমান (আঃ) হলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি ওই কাজ করিয়েছেন। (১৪)
টিকাঃ
(১৪) ইইতিলালুল কুলুব, খরায়িত্বী।
📄 ইবলীসের আকাঙ্ক্ষা
বর্ণনায় হযরত মুজাহিদ (রহঃ) (বিখ্যাত তাবিঈ): ইবলীস আল্লাহর কাছে আবেদন করেছিল- ১) সে নিজে সবাইকে দেখবে কিন্তু অন্য কেউ (মানুষ) যেন তাকে দেখতে না পায়, ২) সে যেন যমীনের তলা দিয়েও বের হতে পারে, এবং ৩) সে বুড়ো হবার পর যেন ফের জওয়ান হয়ে যায়- ইবলীশের এই তিনটি ইচ্ছাই পূরণ করা হয়। (১৫)
টিকাঃ
(১৫) তাফসীরে আবুশ শায়খ।
📄 জিনরা শয়তানদের দেখতে পায় না
বর্ণনা করেছেন নুআইন বিন উমার (রহঃ): মানুষ যেমন জ্বিনদের দেখতে পায় না, জ্বিনরাও তেমনই শয়তানদের দেখতে পায় না। (১৬)
টিকাঃ
(১৬) কিতাবুল উম্মাহ, আবুশ্ শায়খ।
📄 জিন কর্তৃক ইসলাম প্রচারের আজব ঘটনা
বর্ণনায় হযরত কালুবী (রহঃ) খানাফির বিন তাউম নামে এক জাদুকর ছিল। একবার সে এক সবুজ-শ্যামল উপত্যকায় যায়। কুফরী জীবনে তার এক মুরুব্বি জ্বিন ছিল। মহানবী কর্তৃক ইসলাম প্রচার শুরু হলে জ্বিনটি (কিছুকাল) আত্মগোপন করেছিল। সেই জাদুকর খানাফিরের ভাষায়: আমি তখন ওই (সবুজ-শ্যামল) উপত্যাকায় ছিলাম। সেই সময় ঈগল পাখির মতো গতিতে সে (জ্বিনটি) আমার কাছে আসে। আমি জিজ্ঞাসা করি, কে ‘শাসার’ নাকি?
সে বলে, হ্যাঁ। আমি কিছু কথা বলতে চাই। আমি বললাম, বলো, আমি শুনেছি।
সে বলল, ফিরে এসো (নতুন জীবনে), প্রচুর ফায়দা পাবে। প্রত্যেক সম্প্রদায় এক সময় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয় এবং প্রতিটি সূচনার সমাপ্তি আছে।
আমি বললাম, ঠিক বলেছ।
সে বলল, প্রত্যেক প্রশাসনের একটা আয়ুষ্কাল থাকে। তারপর পতন ঘটে। যাবতীয় ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। এবং প্রকৃত সত্য এসে গেছে সত্যিকারেরি ধর্মের দিকে। আমি সিরিয়ার কিছু মানুষকে দেখেছি, যাঁরা উজ্জ্বল বাণীর প্রত্যাশী। এমন বাণী যা রচনা করা কবিতাও নয় এবং কোনও লোকগাথাও নয়। আমি ওঁদের দিকে মনোযোগ দিতে ধমক খেয়েছি। তারপর ফের মনোযোগী হই। এবং উঁকি দিয়ে বলি, আপনারা কোন্ জিনিস পেয়ে আনন্দ করছেন এবং কোন জিনিসের হাত থেকে আশ্রয় চাইছেন।
তাঁরা বলেন, সে এক মহান বাণী। যা এসেছে মহাপরাক্রমশালী সম্রাটের পক্ষ থেকে। সে শাসার! তুমিও সাচ্ছা কালাম শোনো এবং সুস্পষ্ট পথে চলো। ভয়ংকর আগুন থেকে উদ্ধার পাবে।
আমি বলি ওই কালামটি কী?
তাঁরা বলেন, এ কালাম কুফ্র ও ঈমানকে পৃথক করে দেয়। মুযির গোত্রের রসূল (হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)) এই কালাম নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। অতঃপর মানব সমাজে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এরপর তিনি এমন নির্দেশনা এনেছেন, যা বাকি সব নির্দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। এতে তাদের জন্য উপদেশ আছে, যারা উপদেশ গ্রহণ করে।
আমি জানতে চাই ওই মহান বাণী সহকারে কে আগমণ করেছেন? তাঁরা বলেন, হযরত আহমাদ (মুহাম্মদ (সাঃ)) যিনি সকল মানুষের মধ্যে সেরা। অতএব, তুমি যদি ঈমান আনো, তবে বড়ই সম্পদ লাভ করবে। আর নাফরমানী করলে, জাহান্নামে যাবে।
ওহে খানাফির! আমি ঈমান এনেছি। তারপর তাড়াহুড়া করে তোমার কাছে এসেছি। যাতে তুমিও সবরকমের কলুষতা ও কুফ্রী থেকে মুক্তি হতে পারো এবং হতে পারো আর সব মুমিনের সহযাত্রী। নতুবা, তোমার-আমার সম্পর্কে এখানেই ইতি।
জাদুকর খানাফির বলছে, এরপর আমি সওয়ারী পশুর পিঠে সওয়ার হয় সায় (ইয়ামানে) হযরত মুআয বিন জাবাল (রাঃ)-এর কাছে হাজির হই এবং ইসলামে দীক্ষা নিই। এই ঘটনা প্রসঙ্গে আমি কবিতার মাধ্যমে বলেছি-
اَلَمْ تَرَ اَنَّ اللهَ عَادَ بِفَضْلِهِ - وَانْقَضَّ مِنْ نَفْحِ الرَّحِيمِ خَنَافِرًا
دَعَانِي شَصَارُ الَّتِي لَورَ فَضْتُهَا - لا صليتُ جَمْرًا مِنْ لَظَى الْهَوْنِ جَائِرًا
: বঙ্গায়ন : দেখোনি কি তুমি আল্লাহ্পাকের তুলনাবিহীন অবদানকে, 'খানিফির'কে তিনি দূর করেছেন জাহান্নীমের আগুন থেকে। 'শাসার' আমায় ডাক দিয়েছে পবিত্র দ্বীন ইসলামের দিকে, সাড়া যদি না দিতাম তাতে নরকে ছোঁড়া হত মোকে। (১৭)
টিকাঃ
(১৭) আল-আখরুল মানসুরাহ্, ইনু দুরাইদ।