📄 জিনের উপাসনা করত এক শ্রেণীর মানুষ
বর্ণনায় হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) এক শ্রেণীর মানুষ একদল জ্বিনের উপাসনা করত। জ্বিনের সেই দলটি অবশ্য মুসলমান হয়ে যায়। কিন্তু তাদের উপসনাকারী মানুষের দলটি তাদের উপাসনা করতেই থাকে। তাই আল্লাহ নাযিল করলেন এই আয়াত-
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ
📄 জিন হত্যা করেছে সাহাবী সাম্রদ বিন উবাদাহ্-কে
বর্ণনায় হযরত মুহাম্মদ বিন সিরীন (রহঃ) হযরত সাদ বিন উবাদাহ্ (রাঃ) নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় ইন্তিকাল করেছিলেন। জ্বিনরা তাঁকে হত্যা করেছিল। সেই সময় উপস্থিত ব্যক্তিগণ (অदृश्य থেকে) কাউকে কবিতাও আবৃত্তি করতে শুনেছিল।
قتلنا سيد الخزرج . -- سعد بن عبادة
رَمَيْنَاهُ بِسَهُم فَلَمْ يَخْطَ فَوَادَهُ
: বঙ্গায়ন : খযরজ-পতি উবাদাহ্-তনয় সাদকে মোরা খুন করেছি, কলিজায় গিয়ে বিঁধে গেছে এমন বাণ ছুঁড়েছি। (১০)
টিকাঃ
(১০) মুসনাদে আল্-হারিস।
📄 এক মহিলার সাপ
বর্ণনায় হযরত সালিম বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন উমর (রাঃ) হযরত আবূ মূসা আশআরী (রাঃ)-এর কাছে হযরত উমর (রাঃ)-এর খবর আনয়নকারী জ্বিন একবার তাঁর কাছে আসতে দেরি করলে হযরত আবূ মূসা (রাঃ) এক মহিলার কাছে যান। সেই মহিলার (উপর ভর করে তার) মুখ দিয়ে শয়তান কথা বলত। হযরত আবূ মূসা তাকে (হযরত উমরের সম্বন্ধে) জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, 'আমি দেখেছি উনি সদকার উটগুলো একত্রিত করছিলেন।' হযরত উমর (রাঃ)-এর এই মাহাত্ম্য ছিল যে, যখনই শয়তান তাঁকে দেখত, মুখ গুঁজে পড়ে যেত, ফেরেস্তা তাঁর সামনে থাকত এবং হযরত জিব্রাঈল তাঁর মুখ দিযে কথা বলতেন। (১১)
টিকাঃ
(১১) আল্-হাওয়াতিফ, ইবনু আবিদ দুনয়া (১৬৫) ইনু আসাকির।
📄 ওই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বর্ণনায় হযরত সালিম বিন আব্দুল্লাহ্ (রাঃ) বিন উমর (রাঃ) একবার বস্ত্রার গভর্ণর হযরত আবূ মূসা আশআরী (রাঃ)-এর কাছে (খলীফা) হযরত উমর (রাঃ)-এর বার্তা পৌঁছতে দেরি হয়। বস্রায় সেই সময় এক মহিলা ছিল, যার মুখ দিয়ে শয়তান কথা বলত। হযরত আবূ মূসা (রাঃ) সেই মহিলার কাছে একজন দূত পাঠালেন। দূত দিয়ে মহিলাকে বলল, 'আপনি আপনার শয়তানকে বলুন যে, সে যেন আমীরুল মু'মিনীন (হযরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর খবরটা এনে দেয়।' উত্তরে সেই মহিলা (-র মুখ দিয়ে শয়তান) বলে, 'তিনি এখন ইয়ামনে আছেন এবং খুব সত্ত্বরেই এসে যাবে। সুতরাং এঁরা প্রতীক্ষা করতে থাকলেন। ফের সে হাজির হলে তিনি বললেন, 'তুমি আরেকবার গিয়ে হযরত উমর (রাঃ)-এর খবর এনে দাও। কেননা তাঁর খবর পেতে দেরি হওয়ায় আমরা পেরেশান হয়ে পড়েছি।'
শয়তান তখন বলে, 'উনি (হযরত উমর ফারুক (রাঃ)) এমন এক ব্যক্তি, যাঁর কাছে যাবার হিম্মত আমাদের নেই। তাঁর দুই চোখের মধ্যস্থলে রূহুল কুদুস (হযরত জিব্রাঈল (আঃ)) আপন দৃপ্তির প্রকাশ ঘটান। আল্লাহ্ তাআলা এমন কোনও শয়তান সৃষ্টি করেননি, যে হযরত উমরের কথা শোনার সাথে সাথে মুখ গুঁজে পরে যায় না। (১২)
টিকাঃ
(১২) ফাযায়িলুস্ সহাবা, আব্দুল্লাহ বিন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ)।