📄 জিনদের গবাদি পশু-১
বর্ণনায় হামীদ বিন হিলাল অথবা অন্য কেউ: আমরা আগে বলাবলি করতাম যে জ্বিনদের গবাদি পশু হল হরিণ। একবার একটি ছেলে, তার কাছে তীর-ধনুক ছিল, সে 'আরতাত্ব' গাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে পড়ে। তার মতলব ছিল (ওদিকে আসতে থাকা) একপাল হরিণের মধ্যে কোন একটি শিকার করা। এমন সময় অদৃশ্য থেকে কেউ বলে উঠে-
إِنْ غُلَامًا ثِقْفَ الْيَدَيْنِ - يَسْعَى بِكَبدِ أَوْ بِلِهْدِ مَيْنِ
مُتَّخِذِ أَلَا رُطَاةِ جَنَّتَيْنِ - لِيَقْتُلَ النَّيْسُ مَعَ الْعَنْزَيْنِ
: বঙ্গায়ন: পাকাহাতের তীরন্দাজ এক বালক তাহার দু'হাত দিয়ে, করছে প্রয়াস খুবই কাজের তীর ও ধুনক সঙ্গে নিয়ে। আড়ালেতে আছে সে ওই 'আরতাত্ব' গাছকে ঢাল বানিয়ে, ছাগল-গরু-হরিণ শিকার করবে বলে তার অস্ত্র দিয়ে।
হরিণের পাল ওই কবিতা শোনার সাথে সাথেই দৌড়াদৌড়ি ক'রে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনু আবিদ দুনয়া, আল-হাওয়াতিফ (৭৯), পৃষ্ঠা ৬৬।
📄 জিনদের গবাদি পশু-২
হযরত উমর ফারুক (রাঃ) একবার একটি লোককে মহল্লায় পাঠান। লোকটি এক দুগ্ধবতী হরিণীকে দেখতে পেয়ে তার উপর হামলা করেন। অমনি এক জ্বিন বলে উঠে-
يَا صَاحِبَ الْكَنَانَةِ الْمَكْسُورةِ - خَلِ سَبِيلَ الظَّبِيَّةِ المَصرُورَةِ
فَإِنَّهَا لِصَبِيَّةِ مَضْرُورَةٍ - غَابَ أَبُوهُمْ غَيْبَةٌ مَذْكُورَةٌ
في كُورَةٍ لَا بُورِكَتْ مِنْ كُورَةٍ
: বঙ্গায়ন : ওহে ভাঙ্গা তীরদানওয়ালা, এই দুগ্ধবতী হরিণীকে ছেড়ে দাও। এ এমন এক দুঃস্থ বালিকার মালিকানাধীন, যার পিতার নিরুদ্দেশের খবর সবাই জানে। এবং সে এমন এক অঞ্চলে গেছে, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। (৭)
টিকাঃ
(৭) ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল্-হাওয়াতিফ (৭৮) পৃষ্ঠা ৬৫।
📄 নিখোঁজ উটের সন্ধানে জিন
বর্ণনায় হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর উত্তরসূরী হযরত আবু বকর তাইমী (রহঃ) আকীল গোত্রের একজন মানুষের মুখে আমি শুনেছিলাম- সে বলেছিল- একবার আমি একটা (বনো) উট ধরে ঘরে এনে বেঁধে রাখি। রাত্রে অদৃশ্য থেকে কাউকে বলতে শুনি, 'ওহে অমুক! তুমি ইয়াতীমের উট দেখেছ কি?' উত্তরে কেউ বলে, 'একজন মানুষ তাকে ধরেছে। আল্লাহর কসম। সে যদি ওর কোনও ক্ষতি করে, তবে আমিও তার ওরকমই ক্ষতি করব।' একথা শোনার পর আমি উটের কাছে গিয়ে তাকে ছেড়ে দেই। এরপর শুনি, কেউ যেন উটকে ডাকছে। কাছে গিয়ে শুনতে পাই আওয়াজটা ঠিক উটের আওয়াজের মতো। (৮)
টিকাঃ
(৮) আল্-হাওয়াতিফ, ইবনু আবিদ দুনইয়া (১২৭), পৃষ্ঠা ১০৩।
📄 জিনের উপাসনা করত এক শ্রেণীর মানুষ
বর্ণনায় হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) এক শ্রেণীর মানুষ একদল জ্বিনের উপাসনা করত। জ্বিনের সেই দলটি অবশ্য মুসলমান হয়ে যায়। কিন্তু তাদের উপসনাকারী মানুষের দলটি তাদের উপাসনা করতেই থাকে। তাই আল্লাহ নাযিল করলেন এই আয়াত-
أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ