📄 জিন ও মানুষের মল্লযুদ্ধ
বর্ণনায় হযরত হাইসাম (রহঃ) আমি ও আমার এক সাথী একবার এক সফরে বেরিয়ে ছিলাম। সেই সফরে আমরা এক মহিলাকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। মহিলাটি আমাদের বাহনে আরোহণ করার প্রার্থনা জানায়। আমি আমার সাথীকে বলি, 'তুমি ওকে সওয়ার করে নাও।' সুতরাং আমার সাথী তার (উট বা ঘোড়ার) পিছনে মহিলাটিকে বসিয়ে নেয়। সেই সময় সে নিজের মুখ খুলে আমার সাথীর দিকে তাকায়। তার মুখ থেকে তখন গোসলখানার (পানি গরম করার) চুলোর মতো আগুনের হল্কা বেরুচ্ছিল। তা দেখে আমি মেয়েটির উপর হামলা করি। সে বলে- 'আমি তোমার সাথে কী অপরাধ করেছি' একথা বলে সে চিৎকার করতে থাকে।
আমার সাথী ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে বলে- 'তুমি এর কাছে কি চাও'? এরপর তারা আবার চলতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ওর দিকে চোখ পড়তে দেখি, আগের মতো মুখ খোলা রয়েছে এবং সেই মুখ দিয়ে গোসলখানার চুলোর মতো আগুনের হল্কা বেরুচ্ছে। ফলে আমিও ফের তার উপর হামলা করলাম। এবং তাকে জাপ্টে ধরে মাটিতে আছড়ে ফেললাম। সে তখন বলল- 'আল্লাহ তোমাকে সাবাড় করুন। কী পাষাণ হৃদয় মানুষরে বাবা! আমার এই অবস্থা যে দেখেছে, ভয়ে তার পিলে চমকে গেছে (অথচ তুমি আমাকে ভয় পাওয়ার বদলে আমার সাথে মোকাবিলায় নেমেছ)'! (৪)
টিকাঃ
(৪) ইবনু আবিদ দুনয়া।
📄 জিনের প্রস্তাবে মাথার চুল ঝরে গেছে
বর্ণনায় ইমাম আমাঈ (রহঃ) একবার একটি লোক 'হাযরামাউত' এলাকা থেকে (জ্বিনের ভয়ে) পালায়। জাদুকর জ্বিনটি তার পিছে দাওয়া করে। জ্বিন তাকে ধরে ফেলবে দেখে লোকটি এক সময় একটি কুয়ার মধ্যে পড়ে। জ্বিনটি তখন কুয়ায় না নেমে উপর থেকে তার মাথায় প্রস্রাব করে দেয়। পরে লোকটি কুয়া থেকে বের হতে দেখা গেল, তার মাথার চুল ঝরে গেছে। একটাও চুল ছিল না। (৫)
টিকাঃ
(৫) আল্-আসমাঈ। আকامুল মারজান, পৃষ্ঠা ১১৫।
📄 জিনদের গবাদি পশু-১
বর্ণনায় হামীদ বিন হিলাল অথবা অন্য কেউ: আমরা আগে বলাবলি করতাম যে জ্বিনদের গবাদি পশু হল হরিণ। একবার একটি ছেলে, তার কাছে তীর-ধনুক ছিল, সে 'আরতাত্ব' গাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে পড়ে। তার মতলব ছিল (ওদিকে আসতে থাকা) একপাল হরিণের মধ্যে কোন একটি শিকার করা। এমন সময় অদৃশ্য থেকে কেউ বলে উঠে-
إِنْ غُلَامًا ثِقْفَ الْيَدَيْنِ - يَسْعَى بِكَبدِ أَوْ بِلِهْدِ مَيْنِ
مُتَّخِذِ أَلَا رُطَاةِ جَنَّتَيْنِ - لِيَقْتُلَ النَّيْسُ مَعَ الْعَنْزَيْنِ
: বঙ্গায়ন: পাকাহাতের তীরন্দাজ এক বালক তাহার দু'হাত দিয়ে, করছে প্রয়াস খুবই কাজের তীর ও ধুনক সঙ্গে নিয়ে। আড়ালেতে আছে সে ওই 'আরতাত্ব' গাছকে ঢাল বানিয়ে, ছাগল-গরু-হরিণ শিকার করবে বলে তার অস্ত্র দিয়ে।
হরিণের পাল ওই কবিতা শোনার সাথে সাথেই দৌড়াদৌড়ি ক'রে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনু আবিদ দুনয়া, আল-হাওয়াতিফ (৭৯), পৃষ্ঠা ৬৬।
📄 জিনদের গবাদি পশু-২
হযরত উমর ফারুক (রাঃ) একবার একটি লোককে মহল্লায় পাঠান। লোকটি এক দুগ্ধবতী হরিণীকে দেখতে পেয়ে তার উপর হামলা করেন। অমনি এক জ্বিন বলে উঠে-
يَا صَاحِبَ الْكَنَانَةِ الْمَكْسُورةِ - خَلِ سَبِيلَ الظَّبِيَّةِ المَصرُورَةِ
فَإِنَّهَا لِصَبِيَّةِ مَضْرُورَةٍ - غَابَ أَبُوهُمْ غَيْبَةٌ مَذْكُورَةٌ
في كُورَةٍ لَا بُورِكَتْ مِنْ كُورَةٍ
: বঙ্গায়ন : ওহে ভাঙ্গা তীরদানওয়ালা, এই দুগ্ধবতী হরিণীকে ছেড়ে দাও। এ এমন এক দুঃস্থ বালিকার মালিকানাধীন, যার পিতার নিরুদ্দেশের খবর সবাই জানে। এবং সে এমন এক অঞ্চলে গেছে, যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। (৭)
টিকাঃ
(৭) ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল্-হাওয়াতিফ (৭৮) পৃষ্ঠা ৬৫।