📄 ওই ঘটনার অন্য এক বর্ণনা
মূসা বিন নাসির (রহঃ) একবার জেহাদের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। যেতে যেতে এক সময় তিনি কৃষ্ণসাগরে গিয়ে পৌছেন। এবং নৌকাগুলিকে স্রোতের অনুকূলে ছেড়ে দেন। এরপর তিনি নৌকার কাছে গিয়ে আওয়াজ শোনেন। এবং কৌতূহলী হতে কয়েকটা ঘড়া দেখতে পান। সেগুলোর মধ্যে একটি ঘড়া তুলে নেন। কিন্তু শীলমোহর ভাঙতে ভয় পান। তাই তলায় একটি ছিদ্র করার নির্দেশ দেন। ছিদ্রটা একটা পেয়ালার সমান হতে তার ভিতর থেকে একজনের চিৎকার শুনতে পেলেন। সে চিৎকার ক'রে বলছিল- 'না! আল্লাহ্ কসম! হে আল্লাহর নবী! আগামীতে আর কখনো এমন অন্যায় করব না।'
মূসা বিন নাসির (রহঃ) বলেন- 'এ সেই শয়তানের অন্তর্গত, যাদেরকে হযরত সুলায়মান বিন দাউদ (আঃ) কয়েদ করেছিলেন।'
এরপর তিনি ঘড়ার সেই ছিদ্রটা বন্ধ করিয়ে দেন। এমন সময় সে নৌকার উপর এক ব্যক্তিকে দেখতে পান, যে তাঁর দিকে শ্যেনদৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। এবং তাঁর উদ্দেশ্যে বলছিল- 'আল্লাহর কসম! তুমি সেই ব্যক্তি। তুমি যদি আমার উপকার না করে থাকতে তবে আমি তোমাদের সবাইকে ডুবিয়ে মারতাম।(২)
টিকাঃ
(২) কিতাবুল আজায়িব, হাফিয শাক্কার।
📄 জিনদের প্রত্যাবর্তন
বর্ণনায় ওয়ালীদ বিন হিশামঃ উবাইদ বিন আব্রস ও তাঁর কয়েকজন সাথী একবার সফরে ছিলেন। সেই সফরে তাঁরা একটি সাপ দেখতে পান। সাপটি গরমের চোটে ছটফট করছিল। তাঁর সাথীদের একজন সাপটিকে মেরে ফেলার মনস্থঃ করলেন। কিন্তু হযরত উবাইদ (তাঁকে বাধা দিলেন এবং) বললেন- 'এক আঁজলা পানির অভাবে এর উপর এমন মুসীবত এসে পড়ছে।' একথা বলার পর তিনি (সওয়ারী পশুর থেকে) নামলেন এবং সাপটির গায়ে পানি ঢেলে দিলেন। তারপর সবাই চলে গেলেন। যেতে যেতে একসময় তারা পুরোপুরি রাস্তা ভুলে গেলেন। কোনও ক্রমেই তারা রাস্তা পেলেন না। ফলে তাঁরা তখন বড় পেরেশানীর মধ্যে ছিলেন। এমন সময় অদৃশ্য থেকে আওয়াজ দিয়ে কেউ বলে ওঠল-
يَا أَيُّهَا الرَّكْبُ الْمُضِلُّ مَذْهَبُهُ - دُونَكَ هَذَا الْبِكْرُمِنَّا فَارْكَبُهُ
حتَّى أَذَلَّ اللَّيْلُ تَوَلَّى مَغْرِبُهُ - وَسَطَعَ الْفَجْرُ وَلَاحَ كَوْكَبُهُ
فَخَلَّ عَنْهُ رِحْلَةٌ وَسَبْسَبُهُ
: বঙ্গায়ন : ওহে পথহারা কাফেলা, এই নাও জোয়ান উট এবং এতে সওয়ার হয়ে যাও তোমরা। যখন শেষ হবে রাতের আঁধার, ফুটে উঠবে উষার আলো এবং উদয় হবে সূর্য সেই সময় যাত্রা বিরতি দেবে, পৌঁছে যাবে সমতলে।
সুতরাং তাঁরা ওখান থেকে রাত্রেই বেরিয়ে পড়লেন এবং পুরো দশদিন-দশরাত একটানা চলার পর তাঁরা সূর্যের আলো দেখলেন। সেই সময় উবাইদ বলেন-
يَا أَيُّها المرءُ قَدْ انْجَيْتَ مِنْ غَمَ - وَمِنْ فِيَا يُضِلُّ الرَّاكِبُ الْهَادِي
هلا تُخْبِرُنَا بِالْحَقِّ نَعْرِفُهُ - مِنَ الَّذِي جَادَ بِالنَّعْمَاءِ فِي الْوَادِي
: বঙ্গায়ন : ওহে যুবক! তুমি আমাদের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছ এবং মুক্ত করেছ সেই জনহীন অরণ্য থেকে, যাতে হারিয়ে যাওয়া অভিজ্ঞ সওয়ারও। তুমি কি আমাদের দেবে না আপন পরিচয়? যাতে আমরা জানতে পারি যে, ওই বিপদে কে আমাদের অনন্য উপকার করেছে।
তখন সেই (জ্বিনটি) উত্তরে বলে-
انا الشُّجَاعُ الَّذِي أَبْصَرْتَهُ رَمضًا فِي ضَحْضَح فَارْج بشيرى به صَادِى
فجدت يا لَمَاءِ لَمَّا فَنَّ شَارِبُهُ - رُويْتَ مِنْهُ وَلَمْ تَبْغُلْ بِأَنْجَدِ
الْخَيْرُ يَبْقَى وَإِنْ طَالَ الزَّمَانُ بِهِ - وَالشَّرُّ اخْبَتُ مَا أَوْ عَيْتَ مِنْ زَادٍ
: বঙ্গায়ন : আমি হলাম সেই বাহাদুর তুমি দেখিছিলে যাকে, ধুঁকছে গরম বালুর পরে ধূধূ মরুভূমির বুকে। সেই সে কঠিন কালে আমার দিয়েছ অমূল্য পানি, উদারমণে দান করেছ কমে যাবার ভয় করোনি। উপকার তো স্থায়ী হয় চাই যতকাল হোক্ না গত। অনিষ্ট সে মন্দ অতি তা যে তোমার নয় পাথেয়।
📄 জিন ও মানুষের মল্লযুদ্ধ
বর্ণনায় হযরত হাইসাম (রহঃ) আমি ও আমার এক সাথী একবার এক সফরে বেরিয়ে ছিলাম। সেই সফরে আমরা এক মহিলাকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। মহিলাটি আমাদের বাহনে আরোহণ করার প্রার্থনা জানায়। আমি আমার সাথীকে বলি, 'তুমি ওকে সওয়ার করে নাও।' সুতরাং আমার সাথী তার (উট বা ঘোড়ার) পিছনে মহিলাটিকে বসিয়ে নেয়। সেই সময় সে নিজের মুখ খুলে আমার সাথীর দিকে তাকায়। তার মুখ থেকে তখন গোসলখানার (পানি গরম করার) চুলোর মতো আগুনের হল্কা বেরুচ্ছিল। তা দেখে আমি মেয়েটির উপর হামলা করি। সে বলে- 'আমি তোমার সাথে কী অপরাধ করেছি' একথা বলে সে চিৎকার করতে থাকে।
আমার সাথী ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে বলে- 'তুমি এর কাছে কি চাও'? এরপর তারা আবার চলতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর ওর দিকে চোখ পড়তে দেখি, আগের মতো মুখ খোলা রয়েছে এবং সেই মুখ দিয়ে গোসলখানার চুলোর মতো আগুনের হল্কা বেরুচ্ছে। ফলে আমিও ফের তার উপর হামলা করলাম। এবং তাকে জাপ্টে ধরে মাটিতে আছড়ে ফেললাম। সে তখন বলল- 'আল্লাহ তোমাকে সাবাড় করুন। কী পাষাণ হৃদয় মানুষরে বাবা! আমার এই অবস্থা যে দেখেছে, ভয়ে তার পিলে চমকে গেছে (অথচ তুমি আমাকে ভয় পাওয়ার বদলে আমার সাথে মোকাবিলায় নেমেছ)'! (৪)
টিকাঃ
(৪) ইবনু আবিদ দুনয়া।
📄 জিনের প্রস্তাবে মাথার চুল ঝরে গেছে
বর্ণনায় ইমাম আমাঈ (রহঃ) একবার একটি লোক 'হাযরামাউত' এলাকা থেকে (জ্বিনের ভয়ে) পালায়। জাদুকর জ্বিনটি তার পিছে দাওয়া করে। জ্বিন তাকে ধরে ফেলবে দেখে লোকটি এক সময় একটি কুয়ার মধ্যে পড়ে। জ্বিনটি তখন কুয়ায় না নেমে উপর থেকে তার মাথায় প্রস্রাব করে দেয়। পরে লোকটি কুয়া থেকে বের হতে দেখা গেল, তার মাথার চুল ঝরে গেছে। একটাও চুল ছিল না। (৫)
টিকাঃ
(৫) আল্-আসমাঈ। আকامুল মারজান, পৃষ্ঠা ১১৫।