📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস 📄 ওইরকম আরেকটি ঘটনা

📄 ওইরকম আরেকটি ঘটনা


হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ)-এর বর্ণনা: হযরত আউফ বিন আফরা (রাঃ)-এর কন্যা (মহিলা সাহাবী) একবার নিজের বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে কালো রঙের কদাকার ব্যক্তি তাঁর বুকের উপর চড়ে বসে এবং তার গলায় হাত দেয়। হঠাৎ একটি হলুদরঙা কাগজের টুকরো উপর থেকে নেমে এসে হযরত আউফের কন্যার মাথার উপর পড়ে। সেই ব্যক্তি (জ্বিন) কাগজটা তুলে নিয়ে পড়ে। তাতে লিখা ছিল-
مِنْ رَبِّ لَكِيْن إِلى لَكِينِ اجْتَنِبُ ابْنَةَ الْعَبْدِ الصَّالِحِ فَإِنَّهُ لَا سَبِيلَ لَكَ عَلَيْهَا
'লাকিন)-এর প্রভুর পক্ষ থেকে লাকীনের উদ্দেশে: সৎমানুষের কন্যা থেকে দূরে থাক। ওর উপর তোমার কোনও পাঁয়তারা চলবে না।
(হযরত আউফের কন্যা বলেন-) তারপর সে উঠে। আমার গলা থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেয় এবং তাঁর হাত দিয়ে আমার হাঁটুতে আঘাত করে। যার দরুন হাঁটু ফুলে ছাগলের মাথার মতো হয়ে যায়। পরে আমি হযরত আয়েশা (রাঃ)-র কাছে গিয়ে এই ঘটনা উল্লেখ করি। তিনি বলেন, ওহে চাচাতো বোন, তুমি যখন হায়েয-অবস্থায় থাকবে, নিজের কাপড় সামলে রাখবে। তাহলে, ইনশা আল্লাহ, ও কখনোই তোমাকে কষ্ট দিতে পারবে না।
(বর্ণনাকারী হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন) আল্লাহ্ তাআলা ওঁকে ওঁর পিতার কারণে হিফাযত করেছেন। কেননা তিনি বদর-যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। (৪)

টিকাঃ
(৪) ইবনু আবিদ দুনইয়া। মাকায়িদুশ শায়তান (৮), পৃষ্ঠা-২৮। দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী, ৭:১১৬।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস 📄 জিন ফতওয়া দিচ্ছে মানুষকে

📄 জিন ফতওয়া দিচ্ছে মানুষকে


বর্ণনায় হযরত ইয়াহইয়া বিন সাবিত (রহঃ) একবার আমি হাফস তায়িফীর সঙ্গে মিনায় ছিলাম। (সেখানে দেখলাম) একজন সাদা-দাড়ি-বিশিষ্ট ব্যক্তি সাধারণ মানুষজনকে ফাতওয়া দিচ্ছে। হযরত হাম্বল আমাকে বলেন, ওহে আবু আইয়ূব! ওই বুড়োকে দেখছ, যে মানুষকে ফাতওয়া দিচ্ছে? ও হল ইক্রীত (জ্বিন)

এরপর হাফস তার কাছে গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সেই বুড়ো, হযরত হাফসকে দেখা মাত্রই জুতো হাতে নিয়ে পালাল। লোকেরাও তার পিছু ধাওয়া করল। আর হযরত হাম্স বলছিলেন, ওহে লোকসকল! ও হল ইফ্রীত (জ্বিন)। (৫)

টিকাঃ
(৫) ইবনু আব্দুর রহমান হারবী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস 📄 মানুষের সামনে জিনের ভাষণ

📄 মানুষের সামনে জিনের ভাষণ


বর্ণনায় হযরত আবু খলীফাহ আব্দী (রহঃ) আমার একটি ছোট বাচ্চা মারা যায়, যার দরুন আমার খুব দুঃখ হয়। সেই সময় অদৃশ্য থেকে কেউ সূরা আলে-ইমরানের শেষের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে আমাকে শোনায়। এবং

وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِ (আল্লাহর কাছে যা আছে তা সৎকর্মশীলদের জন্য উত্তম) পর্যন্ত পৌঁছে সে বলে- 'ওহে আবূ খলীফাহ্!' আমি বললাম- 'উপস্থিত'। সে বলল- 'তুমি কি চাও এই দুনিয়াতেই জীবন সীমিত হয়ে থেকে যাক? আচ্ছা, তুমি বেশি মর্যাদা-মাহাত্ম্যের অধিকারী, না হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ)? তাঁর পুত্র ইব্রাহীম (রাঃ)-ও ইনতিকাল করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন-“দু'চোখে অশ্রু প্রবাহিত, মন-মগজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত, কিন্তু আমাদের এমন কথা উচ্চারণ করা চলবে না যা আল্লাহকে নারাজ করে দেবে." তুমি কি চাইছ তোমার ছেলের সেই মৃত্যুকে দূর করে দিতে, যা সমস্ত সৃষ্টির জন্য লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে? নাকি তুমি চাইছ আল্লাহ্র কসম! মৃত্যু যদি না থাকত, তবে পৃথিবী এত বিস্তৃত হত না। এবং দুঃখ যদি না থাকত, তাহলে সৃষ্টিজীব কোনও সুখের দ্বারা উপকৃত হতে পারত না।'

এরপর সে বলে- 'তোমার কোনও প্রয়োজন আছে কি?' আমি জিজ্ঞাসা করি- 'আল্লাহ্ তোমার উপর রহম করুন। তুমি কে, শুনি।' সে বলে- 'আমি তোমার এক প্রতিবেশী জ্বিন। (৬)

টিকাঃ
(৬) ইবনু আবিদ দুনইয়া। আল্লহাওয়াতিফ (৪০), পৃষ্ঠা-৪২)

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস 📄 বিচক্ষণ জিনদের গল্প

📄 বিচক্ষণ জিনদের গল্প


বর্ণনায় হযরত ইসহাক বিন আল্লাহ বিন আবী ফার্ওয়াহ্ (রহঃ) একবার কয়েকজন জ্বিন মানুষের রূপ ধরে একজন মানুষের কাছে এসে বলে- 'তুমি নিজের জন্য কি জিনিস পছন্দ করো?' সে বলে- 'আমি উট পছন্দ করি।' জ্বিনরা বলে- 'তুমি নিজের জন্য কঠোর পরিশ্রম ও দীর্ঘ মুসীবত পছন্দ করেছ। তোমার প্রবাসজীবন অবশ্যম্ভাবী, যা তোমাকে তোমার বন্ধুবর্গের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। (কেননা উটওয়ালাদের ক্ষেত্রে এরকমই ঘটে থাকে।)

এরপর সেই মানুষরূপী জ্বিনের দলটা তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অন্য এক মানুষের কাছে যায় এবং তাকে প্রশ্ন করে- 'তুমি নিজের জন্য কোন জিনিস পছন্দ করো?' সে বলে- 'আমি ক্রীতদাস পছন্দ করি।' ওরা বলে- 'তাহলে তো তোমার অনেক মান-মর্যাদা হবে। কীলকের মতো ক্রোধ হবে। ধন-দৌলত অর্জিত হবে। এবং দূর দূরান্তে সফরও করতে হবে।' তারপর ওরা তাকে ছেড়ে অন্য কোন এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে- 'তুমি কী পছন্দ করো?' সে বলে- 'আমি পছন্দ করি ছাগল।' জ্বিনরা বলে- 'তোমার জীবিকা হালাল হবে। সাহায্যপ্রার্থীর অভাব পূরণের সৌভাগ্যও জুটবে। তবে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে না। এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তিও মিলবে না।'

এরপর ওরা তাকে ছেড়ে অন্য একজনের কাছে যায়। এবং তাকে প্রশ্ন করে, 'তুমি নিজের কাছে কোন জিনিস রাখতে পছন্দ করো?'
সে বলে- 'আমি গাছপালা পছন্দ করি।'
জ্বিনরা বলে- 'তিনশ ষাটটি খেজুর সারা বছরের জন্য যথেষ্ট।
তারপর ওরা তাকে ছেড়ে অন্য একটি লোকের কাছে যায় এবং তাকেও যথারীতি প্রশ্ন করে- 'তুমি নিজের জন্য কী পছন্দ করো?'
সে বলে- আমি পছন্দ করি ক্ষেতখামার।'
জ্বিনরা বলে- 'তোমার জীবন-জীবিকা এভাবে নির্ধারিত হয়েছে যে, তুমি চাষবাস করলে, পাবে। আর যদি না করো, তো পাবে না।'
অতঃপর জ্বিনের দলটি তাকে ছেড়ে ফের রওয়ানা দেয়। অন্য একটি লোকের কাছে যায় এবং তাঁকেও সেই একই প্রশ্ন করে। তিনি বলেন- 'প্রথমে তোমরা নিজেদের সম্পর্কে বলো যে, তোমরা কারা, যাতে আমি তোমার কাছে কিছু আশা করতে পারি।'- একথা বলার পর তিনি ওই মানুষরূপী জ্বিনদের কাছে রুটি নিয়ে আসেন।
জ্বিনরা বলে- 'কার্যোপযুক্ত শস্য।'
এরপর তিনি তাদের কাছে মাংস নিয়ে আসেন।
জ্বিনরা বলে- 'এ হল আত্মা, যা আত্মাকে খাবে। এটা যত কম হবে, তত ভাল বেশির থেকে।'
এরপর তিনি খেজুর ও দুধ নিয়ে আসেন।
ওরা বলে- 'খেজুরদের খেজুর আর ছাগলের দুধ। আল্লাহ্ নামে খাও।'
খানা-পিনা শেষ করার পর সেই জ্বিনরা মানুষটিকে প্রশ্ন করে- 'আপনি বলুন, কোন্ জিনিস বেশি তেজি, কোন্ বস্তু বেশি সুন্দর এবং কোন জিনিস সুগন্ধের বিচারে বেশি উৎকৃষ্ট?'
মানুষটি বলেন-'সবচেয়ে তেজি সেই ক্ষুধার্ত দাঁতের পাটি, যা ক্ষুদার্ত পেটে খাবার প্রভৃতি নিক্ষেপ করে। সবচেয়ে সুন্দর সেই বৃষ্টি যা মেঘ করার পর উঁচু জমিতে বর্ষিত হয়। আর সবচেয়ে সেরা সুগন্ধি সেই ফুল যা ফোটে বৃষ্টির পর।'
এবার জ্বিনরা জানতে চায়- আপনি নিজের জন্য কোন্ জিনিস পছন্দ করেন?'
তিনি বলেন- 'আমি মৃত্যুকে পছন্দ করি।'
জ্বিনরা বলে- 'আপনি তো এমন জিনিস পছন্দ করেছেন যা আপনার আগে কেউ-ই করেনি। এখন আপনি আমাদের কিছু উপদেশ দিন এবং সফরের পাথেয়-ও দান করুন।'
লোকটি ওদেরকে এক মশকভরা দুধ দিয়ে বলেন- 'এই তোমাদের সফরের পাথেয়।'
জ্বিনরা বলে কিছু উপদেশ দান করুন।'
উনি বললেন- 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পড়তে থাকবে। এটি আগে-পিছের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য যথেষ্ট।' এরপর সেই জ্বিনের দল মানুষটির কাছ থেকে বিদায় নেয়। এবং তাঁকে ওরা জ্বিন ও মানুষের মধ্যে সেরা বলে গণ্য করে। আবু নাসর বিন কাসিম বলেছেন: ওই জ্বিনের দলটি যে শেষোক্ত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল, উনি ছিলেন হযরত উওয়াইমির আবুদ্দারদা (রাঃ)। (৭)

টিকাঃ
(৭) ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল্-হাওাতিফ। মাকায়িদুশ্ শায়তান, আকামুল মারজান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية