📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 সাপরূপী জিনের কাছে চিঠি এল গায়েব থেকে

📄 সাপরূপী জিনের কাছে চিঠি এল গায়েব থেকে


বর্ণনায় হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ (রহঃ) আমরাহ্ বিনতে আব্দুর রহমান (রাঃ) (এক মহিলা সাহাবী)-র ইন্তিকালের সময় তাঁর কাছে বহু তাবিঈ সমবেত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হযরত উরওয়াহ্ বিন যুবাইর, হযরত কাসিম বিন মুহাম্মদ, হযরত আবূ সালামাহ্ বিন আব্দুর রহমান প্রমুখও। এঁরা সবাই হযরত 'আমরাহ'র কাছেই ছিলেন, এমন সময় তাঁর চেতনা লোপ পায় এবং এরা ছাঁদ ফাটার শব্দ শোনেন। তারপর একটা সাপ পড়ে, যেটা ছিল বড়জাতের খেজুরের মতো (মোটা ও লম্বা)। সাপটা ওই মহিলার দিকে এগিয়ে যায়। অমনি একটা সাদা কাগজ উপর থেকে পড়ে, যাতে লেখা ছিল-
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ مِنْ رَبِّ عَكْبٍ إِلَى عَيْبٍ لَيْسَ لَكَ عَلَى بَنَاتِ الصَّالِحِينَ سَبِيل
অনন্ত করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহ্ নাম শুরু। আক্কের প্রভুর পক্ষ থেকে আকবের উদ্দেশে- সৎমানুষদের কন্যাদের দিকে হাত বাড়ানোর কোন অধিকার তোমর নেই।
সাপটা ওই চিরকুট দেখামাত্রই উপরের দিকে উঠল এবং যেখান থেকে নেমেছিল, ওখান থেকেই বেরিয়ে গেল। (৩)

টিকাঃ
(৩) ইবনু আবিদ দুনইয়া। দালায়িলুন নুবুওয়ত, বায়হাকী, ৭: ১১৬-১১৭। মাকায়িদুশ শায়তান (৭), পৃষ্ঠা-২৭। মাসায়িবুল ইন্‌স্সান-পৃষ্ঠা ১৫০।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ওইরকম আরেকটি ঘটনা

📄 ওইরকম আরেকটি ঘটনা


হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ)-এর বর্ণনা: হযরত আউফ বিন আফরা (রাঃ)-এর কন্যা (মহিলা সাহাবী) একবার নিজের বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে কালো রঙের কদাকার ব্যক্তি তাঁর বুকের উপর চড়ে বসে এবং তার গলায় হাত দেয়। হঠাৎ একটি হলুদরঙা কাগজের টুকরো উপর থেকে নেমে এসে হযরত আউফের কন্যার মাথার উপর পড়ে। সেই ব্যক্তি (জ্বিন) কাগজটা তুলে নিয়ে পড়ে। তাতে লিখা ছিল-
مِنْ رَبِّ لَكِيْن إِلى لَكِينِ اجْتَنِبُ ابْنَةَ الْعَبْدِ الصَّالِحِ فَإِنَّهُ لَا سَبِيلَ لَكَ عَلَيْهَا
'লাকিন)-এর প্রভুর পক্ষ থেকে লাকীনের উদ্দেশে: সৎমানুষের কন্যা থেকে দূরে থাক। ওর উপর তোমার কোনও পাঁয়তারা চলবে না।
(হযরত আউফের কন্যা বলেন-) তারপর সে উঠে। আমার গলা থেকে নিজের হাত সরিয়ে নেয় এবং তাঁর হাত দিয়ে আমার হাঁটুতে আঘাত করে। যার দরুন হাঁটু ফুলে ছাগলের মাথার মতো হয়ে যায়। পরে আমি হযরত আয়েশা (রাঃ)-র কাছে গিয়ে এই ঘটনা উল্লেখ করি। তিনি বলেন, ওহে চাচাতো বোন, তুমি যখন হায়েয-অবস্থায় থাকবে, নিজের কাপড় সামলে রাখবে। তাহলে, ইনশা আল্লাহ, ও কখনোই তোমাকে কষ্ট দিতে পারবে না।
(বর্ণনাকারী হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন) আল্লাহ্ তাআলা ওঁকে ওঁর পিতার কারণে হিফাযত করেছেন। কেননা তিনি বদর-যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। (৪)

টিকাঃ
(৪) ইবনু আবিদ দুনইয়া। মাকায়িদুশ শায়তান (৮), পৃষ্ঠা-২৮। দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী, ৭:১১৬।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিন ফতওয়া দিচ্ছে মানুষকে

📄 জিন ফতওয়া দিচ্ছে মানুষকে


বর্ণনায় হযরত ইয়াহইয়া বিন সাবিত (রহঃ) একবার আমি হাফস তায়িফীর সঙ্গে মিনায় ছিলাম। (সেখানে দেখলাম) একজন সাদা-দাড়ি-বিশিষ্ট ব্যক্তি সাধারণ মানুষজনকে ফাতওয়া দিচ্ছে। হযরত হাম্বল আমাকে বলেন, ওহে আবু আইয়ূব! ওই বুড়োকে দেখছ, যে মানুষকে ফাতওয়া দিচ্ছে? ও হল ইক্রীত (জ্বিন)

এরপর হাফস তার কাছে গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সেই বুড়ো, হযরত হাফসকে দেখা মাত্রই জুতো হাতে নিয়ে পালাল। লোকেরাও তার পিছু ধাওয়া করল। আর হযরত হাম্স বলছিলেন, ওহে লোকসকল! ও হল ইফ্রীত (জ্বিন)। (৫)

টিকাঃ
(৫) ইবনু আব্দুর রহমান হারবী।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 মানুষের সামনে জিনের ভাষণ

📄 মানুষের সামনে জিনের ভাষণ


বর্ণনায় হযরত আবু খলীফাহ আব্দী (রহঃ) আমার একটি ছোট বাচ্চা মারা যায়, যার দরুন আমার খুব দুঃখ হয়। সেই সময় অদৃশ্য থেকে কেউ সূরা আলে-ইমরানের শেষের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে আমাকে শোনায়। এবং

وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرَارِ (আল্লাহর কাছে যা আছে তা সৎকর্মশীলদের জন্য উত্তম) পর্যন্ত পৌঁছে সে বলে- 'ওহে আবূ খলীফাহ্!' আমি বললাম- 'উপস্থিত'। সে বলল- 'তুমি কি চাও এই দুনিয়াতেই জীবন সীমিত হয়ে থেকে যাক? আচ্ছা, তুমি বেশি মর্যাদা-মাহাত্ম্যের অধিকারী, না হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ)? তাঁর পুত্র ইব্রাহীম (রাঃ)-ও ইনতিকাল করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন-“দু'চোখে অশ্রু প্রবাহিত, মন-মগজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত, কিন্তু আমাদের এমন কথা উচ্চারণ করা চলবে না যা আল্লাহকে নারাজ করে দেবে." তুমি কি চাইছ তোমার ছেলের সেই মৃত্যুকে দূর করে দিতে, যা সমস্ত সৃষ্টির জন্য লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে? নাকি তুমি চাইছ আল্লাহ্র কসম! মৃত্যু যদি না থাকত, তবে পৃথিবী এত বিস্তৃত হত না। এবং দুঃখ যদি না থাকত, তাহলে সৃষ্টিজীব কোনও সুখের দ্বারা উপকৃত হতে পারত না।'

এরপর সে বলে- 'তোমার কোনও প্রয়োজন আছে কি?' আমি জিজ্ঞাসা করি- 'আল্লাহ্ তোমার উপর রহম করুন। তুমি কে, শুনি।' সে বলে- 'আমি তোমার এক প্রতিবেশী জ্বিন। (৬)

টিকাঃ
(৬) ইবনু আবিদ দুনইয়া। আল্লহাওয়াতিফ (৪০), পৃষ্ঠা-৪২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00