📄 খুরাইম বিন ফাতিক ‘বাদরী সাহাবী’র ইসলাম কবুল
বর্ণনায় হযরত খুরাইম বিন ফাতিক (রাঃ) একবার আমার একটা উট হারিয়ে গিয়েছিল। আমি তার সন্ধানে বের হই। যখন 'বারিকুল গুর্রাফ' নামক জায়গায় পৌঁছি, তখন নিজের (সওয়ারী) উটনীকে বসিয়ে দিই এবং তার হাঁটু বেঁধে ফেলি। তারপর বলতে শুরু করি-
اعُوذُ بِسَيِّدِي هَذَا الْوَداى - أَعُوذُ بِعَظِيمِ هَذَا الْوَادِي
: বঙ্গায়ন: শরণ আমি যাচ্ছি যে তাঁর, নেতা যিনি এ উপত্যকার। মাছি শরণ তাঁর সকাশে, যিনি মহাজন এই ঘাঁটিটার।
তারপর আমি (ঘুমানোর জন্য) নিজের মাথা উটের গায়ে রাখি। রাতের বেলায় অদৃশ্য থেকে কেউ বলে ওঠে-
الَا نَعُذْ يَا لِلَّهِ ذِي الْجَلَالِ - ثُمَّ أَقْرَأْ آيَاتٍ مِنَ الْأَنْفَالِ
وَوَلحِدِ اللَّهَ وَلَا تُبَالِ - مَا هُوَلَ الْجِنَّ مِنَ الأَهْوَالِ
: বঙ্গায়ন: মহাপ্রতাপের মালিক আল্লাহ্, শরণেও স্মরণ করো তাঁকে, তারপর পড় কিছু আয়াত, কোরআনের সূরা আনফাল থেকে। আল্লাহ্ একক-অদ্বিতীয়- এই কথাটা রেখো মাথায়। ভয় করো না সে সব কিছুর, যা দিয়ে জ্বিন ভয় দেখায়।
আমি তখন ঘাবড়ে উঠে বসে বলি-
يَا أَيُّهَا الْهَاتِفُ مَا تَقُولُ - أَرْشُدُ عِنْدَكَ أَمْ تَضْلِيلُ
: বঙ্গায়ন: ওহে অদৃশ্য কণ্ঠ, তুমি অমন করে বলছটা কী? তোমার কাছে যা আছে তা সুপথ-বাণী না গুম্মাহী?
উত্তরে সে বলে-
هَذَا رُسُلُ اللَّهِ ذُوا الْخَيْرَاتِ - بِيَثْرِبَ يَدْعُوا إِلَى النَّجَاةِ
وَ يَنْزِعُ النَّاسَ عَنِ الْهَنَكِ - يَأْمُرُ بِالصَّوْمِ وَالصَّلوة
: বঙ্গায়ন : উনি হলেন রসূলুল্লাহ্, বহু গুণের মালিক যিনি, পাক মদীনায় মুক্তির দিকে মানুষকে ডাক দিচ্ছেন তিনি। দূর করছেন দহন- জ্বালা-দুঃখ আদম জাদার- এবং আদেশ দান করেছেন নামায-রোযা পালন করার।
তার ওই কবিতার কথাগুলো আমার মনে বেশ দাগ কাটে। আমি তখন আমার উটের কাছে দিয়ে হাঁটুর বাঁধন খুলে দেই। এবং তার পিঠে সওয়ার হয়ে বলি-
أَرْشِدْنَا رُشْدًا هُدِيتًا - لَا جُعْتَ مَا عِشْتَ وَلَا عُرِبْنَا
بَيِّنْ لِي الرُّشْدُ الَّذِي أُوتِيتَنَا ؟
: বঙ্গায়ন : যাঁর দ্বারা তুমি সোজাপথ পেলে, দাও না আমায় তাঁর ঠিকানা। যাঁর দ্বারা তুমি তৃষ্ণা মেটালে এবং ঘোচালে নগ্নপনা- সে সুপথ তুমি লাভ করেছ, বলো আমায় তার ঠিকানা।
উত্তরে সে বলে-
صَاحَبَكَ اللَّهُ وَسَلَّمَ نَفْسَكَا - وَعَظَمَ أَلا جَرَوَ أَدَّى رِحْلَكَ
امن بِهِ أَفْلَحَ رَبِّي كَعْبَكًا - وَابْذِلْ لَهُ حَتَّى الْمَمَاتِ نُصْرَكَا
: বঙ্গায়ন : আল্লাহ মন দিয়েছেন তোমার দিকে, তোমার পূণ্যফল বাড়িয়েছেন তিনি এবং ঘুরিয়ে দিয়েছেন তোমার বাহনকে। অতএব তার উপর ঈমান নিয়ে এসো এবং তাঁর সহায়তা করে যাও আমৃত্যু- প্রভু তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন আরও।
আমি জিজ্ঞাসা করি তুমি কে?
সে বলে, আমি নজদ্-বাসীদের সর্দার মালিক বিন মালিক। আমি মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে গিয়েছি, ঈমান এনেছি এবং তাঁর হাতে ইসলাম কবুল করেছি। তিন আমাকে নজদের অভিবাসী জ্বিনদের কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি তাদেরকে আল্লাহর দাসত্ব আনুগত্যের দিকে আহ্বান করি। হে খুরাইম! তুমিও মুমিনের অন্তর্গত হয়ে যাও। তুমি বাড়ি গিয়ে দেখবে, (যে হারানো উটের খোঁজে তুমি বেরিয়েছ) তোমার সেই উট (তোমার আগেই) পৌছে গেছে। সেটাকে আমি খুঁজে দেব।
হযরত খুরাইম (রাঃ) বলেছেন, এরপর আমি (বাড়ি না গিয়ে সরাসরি) মদীনায় হাজির হই। দিনটি ছিল জুম্মার। আমি চাইছিলাম নবীজীর কাছে হাজির হতে। উনি তখন মিম্বরে ভাষণ (খুত্ববাহ্) দিচ্ছিলেন। আমি (মনে মনে) বলি, এখন উটটাকে মসজিদের দরজায় বসিয়ে দেয়া যাক ওনি নামায শেষ করলে ওঁকে নিজের ঘটনা নিবেদন করব।
তো উটকে বসিয়ে হযরত আবূ যর (রাঃ) আমার কাছে এলেন এবং বললেন, হে খুরাইম! স্বাগতম (খোশ আমদেদ) নবীজী আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনার মুসলমান হবার খবরও তিনি পেয়েছেন। এবং তিনি আপনাকে (মসজিদে গিয়ে) সকলের সাথে নামাযে শরীক হতে বলেছেন।
সুতরাং আমি মসজিদের ভিতরে গিয়ে সাহাবীদের সঙ্গে নামায আদায় করি। তারপর নবীজীর কাছে গিয়ে সব ঘটনা শোনাই। তিনি বলেন-
قَدْ وَفَى لَكَ صَاحِبُكَ ، وَقَدْ بَلَغَ لَكَ الْإِبِلُ ، وَهِيَ بِمَنْزِلِكَ
তোমার সাথী (মালিক বিন মালিক) তোমার সাথে যে ওয়াদা করেছিল তা পূরণ করেছে। তোমার উট পৌঁছে গেছে তোমার বাড়িতে। (১১)
টিকাঃ
(১১) তারীখে মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবী শায়বাহ। ইবনু আসাকির। তবারানী, কাবীর (৪১৬৫, ৪১৬৬)। আল্-হাওয়াতিফ (৯৪), পৃষ্ঠা ৭৯। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮: ২৫। মুস্তাদ্রকে হাকিম, ৩: ৬২১। উসদুল গাবাহ। ইবনু আসীর, ৫: ৪৭-৪৮। আল্-আসাবাহ্, ৬: ৩৩।
📄 বদর-যুদ্ধে কাফির বাহিনীর পরাজয়ের ঘোষণা
বর্ণনায় হযরত কাসিম বিন সাবিত (রহঃ) বদরের যুদ্ধে মুসলমানরা যেদিন কুরাইশদের বিরুদ্ধে বিজয়লাভ করেছিলেন, সেই দিন মক্কায় অদৃশ্য থেকে এক জ্বিন গানের সুরে এই কবিতাটি আবৃত্তি করছিল-
ازار الْخَفِيُّونَ بَدْرًا وَقِيعَةٍ - سَيَنْقُصُ فِيهَا رُكْنُ كِسْرَى وَقَيْصَرَ
آبادت رجالاً مِنْ لُو ْي وَابْرَرْتُ - حَرَائِرُ يَضْرِبْنَ التَّرَائِبُ حَسْرًا
فَيَا وَيحُ مَنْ أَمْسَى عَدُوٌّ مُحَمَّدٍ لَقَدْ حَادَ عَنْ قَصْدا الْهُدَى وَ تَحَيَّرًا
: বঙ্গায়ন : বদর-যুদ্ধে এমন বীর্য দেখিয়েছেন হানীফগণ, যার প্রভাবে টলে গেছে রোম-ইরানের রাজাসন। ধ্বংস হয়ে গেছে যত লুওয়াই গোত্রের মানুষজন, মেয়েরা ওদের বাইরে এসে ঠুকছে মাথা শোকের কারণ। বড় আক্ষেপ তাদের তরে, যারা মুহাম্মদের দুশমন, ইচ্ছা করেই সুপথ ছেড়ে বিপদ তারা করছে বরণ。
(কোনও এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, ওই হানীফরা কারা? সে বলে, মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ, যাঁরা দাবি করেন যে, তাঁরা হযরত ইব্রাহীমের দ্বীনে হানীফ বা একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী।) এর কিছুক্ষণের মধ্যেই (মুসলমানদের) বিজয়-সংবাদ এসে পৌঁছায়। (১২)
টিকাঃ
(১২) আদ্-দালায়িল। আকامুল মারজান, পৃ. ১৩৭।