📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 হাজ্জাজ বিন ইলাতের ইসলাম কবুলের প্রেক্ষাপট

📄 হাজ্জাজ বিন ইলাতের ইসলাম কবুলের প্রেক্ষাপট


বর্ণনায় হযরত ওয়াসিলাহ বিন আস্ক (রাঃ) হযরত হাজ্জাজ বিন ইলাতু আল-হাযারী সুল্লামী (রাঃ)-র ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এইরকম- একবার ইনি আপন গোত্রের কয়েকজন লোকের সাথে মক্কায় রওয়ানা হয়েছিলেন। যেতে যেতে এক ভয়ংকর প্রান্তরে রাত হয়ে যায়। তাঁকে তাঁর সাথীরা বলে, হে আবু কিলাব! উঠুন, আপনার এবং আপনার সঙ্গী-সাথীদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুন। হাজ্জাজ (রাঃ) তখন উঠলেন। সাথীদের চারদিকে চক্কর দিয়ে সীমানা বন্ধ করলেন এবং এই কবিতাটি পড়লেন-
أعِيدُ نَفْسِي وَأَعِيدُ صَحْبِي مِنْ كُلِّ مِن بِهَذَا النَّقْبِي
حَتَّى أَؤُوبَ سَالِمُ وَرَكبي
আমি নিজের এবং আমার সঙ্গী-সাথীদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি এই উপত্যকার সমস্ত জ্বিনের অনিষ্ট থেকে নিরাপদে না ফেরা পর্যন্ত।

হযরত হাজ্জাজ বিন ইলাহ্ (রাঃ) বলেন আমি (ওই কবিতা বলার পর) কাউকে এই আয়াত বলতে শুনি-
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ
হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়! যদি তোমরা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা অতিক্রম করতে পার তো কর, কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়া তোমরা তা পারবে না। (৮)

তারপর হযরত হাজ্জাজ মক্কায় পৌঁছে কুরাইশদের মজলিসে ঘটনাটি উল্লেখ করেন। শুনে কুরাইশরা বলে, ওহে আবু কিলাব! খোদার কসম! তুমি বিধর্মী হয়ে গেছ! মুহাম্মদ (সাঃ) দাবি করে যে, তার উপর নাকি এই আয়াত নাযিল হয়েছে। হযরত হাজ্জাজ বলেন, আল্লাহর কসম! শুধু আমি একাই শুনিনি, ওকথা আমার এ সঙ্গীরাও শুনেছে।

উনি (কুরাইশদের কাছে) তখনও বসে ছিলেন, এমন সময় সেখানে আসেন আস বিন ওয়াইল। তো কুরায়শী কাফিররা তাঁকে বলল, ওহে আবূ হিশাম! আবূ কিলাব যা কিছু বলেছেন, সে-সব কি আপনি শুনেছেন?

আস বিন ওয়াইল বলেন, ইনি কী বলছেন?

হাজ্জাজ তখন ফের তাঁর ঘটনা উল্লেখ করেন।

শুনে আস বিন ওয়াইল বলেন, তোমরা এতে অবাক হচ্ছো কেন! যে কথা (আয়াত) ইতিন ওই উপত্যকায় শুনেছেন তা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর (পবিত্র সুন্দর) মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয়েছে।

হযরত হাজ্জাজ বলেছেন, এরপর কুরাইশের সেই কাফিররা আমাকে নবীজীর কাছে পৌঁছতে বাধা দেয়। কিন্তু এ বিষয়ে আমার আগ্রহ-অনুসন্ধিৎসা আরো বেড়ে যায়। তখন নবীজীর এক চাচাতো ভাই আমাকে বলেন যে, তিনি মক্কা থেকে মদীনায় চলে গেছেন। আমি তখন নিজের সওয়ারীর উপর সওয়ার হয়ে রওয়ানা হয়ে যাই। এবং এক সময় মদীনা শরীফে পৌঁছে নবীজীর খেদমতে হাজির হই। এবং যা কিছু শুনছিলাম, সে-সব তাঁকে নিবেদন করি। তখন তিনি বলেন-
سَمِعْتُ وَاللهِ الْحَقِّ هُوَ وَاللهِ مِنْ كَلَامِ رَبِّي الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيَّ وَلَقَدْ سَمِعْتَ حَقًّا يَا آبَاكِلابِ -
ওহে আবূ কিলাব, আল্লাহর কসম, তুমি যা শুনেছ, ঠিকই শুনেছ। আল্লাহর কসম, এ আমার প্রভুর বাণী, যা তিনি আমার উপর অবতীর্ণ করেছেন।

আমি (হাজ্জাজ) তখন আরজ করি, হে আল্লাহর রসূল (সাঃ)! আপনি আমাকে ইসলামের শিক্ষা দান করুন। তো তিনি আমাকে ইসলামের শপথ বাক্য (কলেমা) পাঠ করান এবং বলেন-
سرالى قَوْمِكَ فَادْعُهُمْ إِلَى مِثْلِ مَا أَدْعُوكَ إِلَيْهِ فَإِنَّهُ الْحَقُّ
তুমি তোমার সম্প্রদায়ের কাছে যাও এবং তাদেরকে আমি তোমাকে যেদিকে ডাক দিয়েছি সেই (ইসলামের) দিকে ডাক দাও, কেননা এ হল 'সত্য ধর্ম'। (৯)

টিকাঃ
(৮) সূরাহ্ আর-রাহমান (৫৫) : আয়াত ৩৩।
(৯) ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল্-হাওয়াতিফ। কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ৩৬৯৭৯।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 অদৃশ্য থেকে জিনদের নির্দেশনা

📄 অদৃশ্য থেকে জিনদের নির্দেশনা


হযরত উমর বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) একদিন তাঁর কাছে উপস্থিত ব্যক্তিদের বলেন, জ্বিনদের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করুন।

তো একজন লোক বলেন, 'হে আমীরুল মু'মিনীন! আমি আমার দুই-সঙ্গীর সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। (সেই সফরে) আমি একটা শিংভাঙা-হরিণী ধরেছিলাম। সেই সময় আমরা ছিলাম চারজন। আমাদের পিছন থেকে এক ব্যক্তি এসে বলে, 'এই হরিণীকে ছেড়ে দাও।' আমি বললাম, 'আমার জীবনের দোহাই দিয়ে বলছি, একে কখনোই ছাড়ব না।' সে বলে, 'তুমি আমাকে এই রাস্তায় দেখছ। আল্লাহর কসম! আমরা দশজনেরও বেশি। এবং আমরা (জ্বিনেরা) মানুষদের অপহরণও ক'রে থাকি।'

'হে আমীরুল মুমেনীন! সে ও-কথা বলে আমাকে পাগল করে দিল। শেষ পর্যন্ত আমরা 'দাইর উনাইন' নামক স্থানে গিয়ে পৌছিই। তারপর সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে যাই। সে-ও আমাদের সঙ্গে ছিল। এমন সময় আচমকা কোনও এক ব্যক্তি অদৃশ্য থেকে বলে ওঠে (এই কবিতাটি)-
يَا أَيُّهَا الركب الشراع الأربعَةِ خَلُوا سَبِيلَ النَّافِرِ الْمَرْوَعَةِ
مهلا عَنِ العَضَبَاءِ فَفِي الْأَرْضِ سَعَة - وَلَا أَقُولُ مَا قَالَ كَذُوبُ امَّعَةٍ
: বঙ্গায়ন: গতিশীল যাত্রীর চতুষ্টয়, হে- ছেড়ে দাও এই পলায়নপর ভীত হরিণীকে। শিংভাঙা এই হরিণীকে দাও ছেড়ে অন্য মিলবে বন থেকে, মিথ্যাবাদী বাচালের মতো বাজে কথা বলছিনা, হে!
'হে আমীরুল মুমেনীন! তখন আমি সেই হরিণীর গলার দড়ি আমার সওয়ারী পশুর থেকে খুলে দিই। এমন সময় সামনে বহু সংখ্যক মানুষের একটি দল আসে। তারা আমাদের সামনে খানা-পিনার সামগ্রী উপহার দেয়। এরপর আমরা সিরিয়ায় চলে যাই। এবং নিজেদের কাজ-কাম সেরে ফেরার পথে যখন সেই জায়গায় আসি, সেখানে একদল মানুষ আমাদের অভ্যর্থনা করেছিল, সেখানে দেখি কিছু নেই। হে আমীরুল মুমেনীন! আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওরা ছিল জ্বিন। এরপর আমি একটা গীর্জাঘরের কাছে গেলে অদৃশ্য থেকে কেউ গেয়ে উঠল (এই কবিতাটি)
إِيَّاكَ لَا تَعْجَل وَخد عن يقةٍ - أسير سير الجد يوم الحقحقة
قد لاح نَجْمُ وَاسْتَوَى بِمَشْرِقَةٍ - ذُو ذَنَبِ كَالشُّعْلَةِ الْمُحْرِقَةِ
يخْرُجُ مِنْ ظُلَمَاءِ عُشْرٍ مُويقَةٍ - إِنِّي أَمُرُوا أَنْبَاؤُهُ مُصَدَّقَةٌ
: বঙ্গায়ন: অবহেলা নয়, শক্ত করে ধরো আমার নির্দেশনা- যুদ্ধকালীন তৎপরতায় যথাশীঘ্র দাও রওয়ানা।
পূর্বের গগন মুঠোয় পুরে উদয় হল একটি তারার, জ্বালাময়ী শিখার মতো সঙ্গে আছে লাঙ্গুল তার। উঠেছে সে আঁধার ঘেরা ভূমি থেকে। আমি এমন ব্যক্তি, যাহার খবর সঠিক হয়েই থাকে।

হে আমীরুল মুমেনীন! আমি যখন ফিরে আসি, তখন মহানবী (সাঃ) নবুওয়তের ঘোষণা করছিলেন। তিনি আমাকে ইস্লামের দাওয়াত দিতে আমি মুসলমান হয়ে যাই।'

এরপর হযরত উমর ফারুক (রাঃ) উদ্দেশে আরেকজন বর্ণনা করেন : 'হে আমীরুল মুমেনীন! আমি ও আমার এক সাথী কোনও এক কাজে সফরে বের হয়েছিলাম। সেই সময় আমরা এক আরোহীকে দেখি। সেই আরোহী 'মুজিরুল কাল্ব' নামক স্থানে পৌঁছে জোরালো আওয়াজে এই ঘোষণা করে ওঠে- َاللهُ أَعْلَى وَأَمْجَد ، مُحَمَّد آَتَانَا بِا لَهْ أَحْمَدْ يَا أَحْمَدْ يُوْحَدْ ، يَدْعُوا إِلَى الْخَيْرِ فَإِلَيْهِ فَاعْمَدُ
আহমাদ, ওহে আহমাদ, আল্লাহ্ মহান ও মহীয়ান। মুহাম্মদ (সাঃ) এসেছেন আমাদের কাছে অদ্বিতীয় প্রভুর দাওয়াত দিতে। ডাক দেন তিনি কল্যাণের দিকে। অতএব তোমরা হাজির হও তাঁর কাছে।

তাঁর ওই কথা আমাদের ঘাবড়ে দিল। ফের সে তার বামদিক থেকে আওয়াজ দিল বলে উঠল-
انْجَزَ مَا وَعَدَ مَنْ شَقَّ الْقَمَرَ - اللَّهُ أَكْبَرُ النَّبِيُّ ظَهَرَ
: বঙ্গায়ন : চাঁদ দ্বিখণ্ডের প্রতিশ্রুতি রক্ষা তিনি করিয়াছেন, আল্লাহ মহান, সেই নবীজী আবির্ভূত হইয়াছেন।

যখন আমি ফিরে আসি, তখন মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) নবুওয়ত লাভ করেছিলেন। তিনি ইসলামের দাওয়াত দিতে আমি মুসলমান হয়ে যাই।

এরপর হযরত উমর (রাঃ) বলেন: আমি একবার জ্বিনদের জবাহ্-কৃত পশুর কাছে ছিলাম। তার ভিতর থেকে অদৃশ্য গলায় কেউ বলে উঠে- ওহে যারীহ্! ওহে যারীহ্! সফলতার জন্য আহ্বানকারী। সুপথের জন্য বলেছেন পরিত্রাণকারী 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' - কোন ইলাহ্ নেই কেবলমাত্র আল্লাহ ছাড়া।
আমি ফিরে এসে দেখি, মহানবী (সাঃ) ইতোমধ্যে নবুওয়ত-প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি ইসলামের দিকে আহ্বান করতে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। (১০)

প্রসঙ্গত উল্লেখ: হযরত উমরের ইসলাম গ্রহণ-বিষয়ক অন্য একটি ঘটনা অত্যন্ত বিখ্যাত হলেও এই ঘটনাও তাঁর ইসলাম কবুলের একটি কারণ হতে পারে।- অনুবাদক

টিকাঃ
(১০) ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল্-হাওয়াতিফুল জ্ফান (৯৪০, পৃষ্ঠা ৭৬।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 খুরাইম বিন ফাতিক ‘বাদরী সাহাবী’র ইসলাম কবুল

📄 খুরাইম বিন ফাতিক ‘বাদরী সাহাবী’র ইসলাম কবুল


বর্ণনায় হযরত খুরাইম বিন ফাতিক (রাঃ) একবার আমার একটা উট হারিয়ে গিয়েছিল। আমি তার সন্ধানে বের হই। যখন 'বারিকুল গুর্রাফ' নামক জায়গায় পৌঁছি, তখন নিজের (সওয়ারী) উটনীকে বসিয়ে দিই এবং তার হাঁটু বেঁধে ফেলি। তারপর বলতে শুরু করি-
اعُوذُ بِسَيِّدِي هَذَا الْوَداى - أَعُوذُ بِعَظِيمِ هَذَا الْوَادِي
: বঙ্গায়ন: শরণ আমি যাচ্ছি যে তাঁর, নেতা যিনি এ উপত্যকার। মাছি শরণ তাঁর সকাশে, যিনি মহাজন এই ঘাঁটিটার।

তারপর আমি (ঘুমানোর জন্য) নিজের মাথা উটের গায়ে রাখি। রাতের বেলায় অদৃশ্য থেকে কেউ বলে ওঠে-
الَا نَعُذْ يَا لِلَّهِ ذِي الْجَلَالِ - ثُمَّ أَقْرَأْ آيَاتٍ مِنَ الْأَنْفَالِ
وَوَلحِدِ اللَّهَ وَلَا تُبَالِ - مَا هُوَلَ الْجِنَّ مِنَ الأَهْوَالِ
: বঙ্গায়ন: মহাপ্রতাপের মালিক আল্লাহ্, শরণেও স্মরণ করো তাঁকে, তারপর পড় কিছু আয়াত, কোরআনের সূরা আনফাল থেকে। আল্লাহ্ একক-অদ্বিতীয়- এই কথাটা রেখো মাথায়। ভয় করো না সে সব কিছুর, যা দিয়ে জ্বিন ভয় দেখায়।

আমি তখন ঘাবড়ে উঠে বসে বলি-
يَا أَيُّهَا الْهَاتِفُ مَا تَقُولُ - أَرْشُدُ عِنْدَكَ أَمْ تَضْلِيلُ
: বঙ্গায়ন: ওহে অদৃশ্য কণ্ঠ, তুমি অমন করে বলছটা কী? তোমার কাছে যা আছে তা সুপথ-বাণী না গুম্মাহী?
উত্তরে সে বলে-
هَذَا رُسُلُ اللَّهِ ذُوا الْخَيْرَاتِ - بِيَثْرِبَ يَدْعُوا إِلَى النَّجَاةِ
وَ يَنْزِعُ النَّاسَ عَنِ الْهَنَكِ - يَأْمُرُ بِالصَّوْمِ وَالصَّلوة
: বঙ্গায়ন : উনি হলেন রসূলুল্লাহ্, বহু গুণের মালিক যিনি, পাক মদীনায় মুক্তির দিকে মানুষকে ডাক দিচ্ছেন তিনি। দূর করছেন দহন- জ্বালা-দুঃখ আদম জাদার- এবং আদেশ দান করেছেন নামায-রোযা পালন করার।

তার ওই কবিতার কথাগুলো আমার মনে বেশ দাগ কাটে। আমি তখন আমার উটের কাছে দিয়ে হাঁটুর বাঁধন খুলে দেই। এবং তার পিঠে সওয়ার হয়ে বলি-
أَرْشِدْنَا رُشْدًا هُدِيتًا - لَا جُعْتَ مَا عِشْتَ وَلَا عُرِبْنَا
بَيِّنْ لِي الرُّشْدُ الَّذِي أُوتِيتَنَا ؟
: বঙ্গায়ন : যাঁর দ্বারা তুমি সোজাপথ পেলে, দাও না আমায় তাঁর ঠিকানা। যাঁর দ্বারা তুমি তৃষ্ণা মেটালে এবং ঘোচালে নগ্নপনা- সে সুপথ তুমি লাভ করেছ, বলো আমায় তার ঠিকানা।
উত্তরে সে বলে-
صَاحَبَكَ اللَّهُ وَسَلَّمَ نَفْسَكَا - وَعَظَمَ أَلا جَرَوَ أَدَّى رِحْلَكَ
امن بِهِ أَفْلَحَ رَبِّي كَعْبَكًا - وَابْذِلْ لَهُ حَتَّى الْمَمَاتِ نُصْرَكَا
: বঙ্গায়ন : আল্লাহ মন দিয়েছেন তোমার দিকে, তোমার পূণ্যফল বাড়িয়েছেন তিনি এবং ঘুরিয়ে দিয়েছেন তোমার বাহনকে। অতএব তার উপর ঈমান নিয়ে এসো এবং তাঁর সহায়তা করে যাও আমৃত্যু- প্রভু তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন আরও।
আমি জিজ্ঞাসা করি তুমি কে?

সে বলে, আমি নজদ্-বাসীদের সর্দার মালিক বিন মালিক। আমি মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে গিয়েছি, ঈমান এনেছি এবং তাঁর হাতে ইসলাম কবুল করেছি। তিন আমাকে নজদের অভিবাসী জ্বিনদের কাছে পাঠিয়েছেন, যাতে আমি তাদেরকে আল্লাহর দাসত্ব আনুগত্যের দিকে আহ্বান করি। হে খুরাইম! তুমিও মুমিনের অন্তর্গত হয়ে যাও। তুমি বাড়ি গিয়ে দেখবে, (যে হারানো উটের খোঁজে তুমি বেরিয়েছ) তোমার সেই উট (তোমার আগেই) পৌছে গেছে। সেটাকে আমি খুঁজে দেব।

হযরত খুরাইম (রাঃ) বলেছেন, এরপর আমি (বাড়ি না গিয়ে সরাসরি) মদীনায় হাজির হই। দিনটি ছিল জুম্মার। আমি চাইছিলাম নবীজীর কাছে হাজির হতে। উনি তখন মিম্বরে ভাষণ (খুত্ববাহ্) দিচ্ছিলেন। আমি (মনে মনে) বলি, এখন উটটাকে মসজিদের দরজায় বসিয়ে দেয়া যাক ওনি নামায শেষ করলে ওঁকে নিজের ঘটনা নিবেদন করব।

তো উটকে বসিয়ে হযরত আবূ যর (রাঃ) আমার কাছে এলেন এবং বললেন, হে খুরাইম! স্বাগতম (খোশ আমদেদ) নবীজী আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। আপনার মুসলমান হবার খবরও তিনি পেয়েছেন। এবং তিনি আপনাকে (মসজিদে গিয়ে) সকলের সাথে নামাযে শরীক হতে বলেছেন।

সুতরাং আমি মসজিদের ভিতরে গিয়ে সাহাবীদের সঙ্গে নামায আদায় করি। তারপর নবীজীর কাছে গিয়ে সব ঘটনা শোনাই। তিনি বলেন-
قَدْ وَفَى لَكَ صَاحِبُكَ ، وَقَدْ بَلَغَ لَكَ الْإِبِلُ ، وَهِيَ بِمَنْزِلِكَ
তোমার সাথী (মালিক বিন মালিক) তোমার সাথে যে ওয়াদা করেছিল তা পূরণ করেছে। তোমার উট পৌঁছে গেছে তোমার বাড়িতে। (১১)

টিকাঃ
(১১) তারীখে মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবী শায়বাহ। ইবনু আসাকির। তবারানী, কাবীর (৪১৬৫, ৪১৬৬)। আল্-হাওয়াতিফ (৯৪), পৃষ্ঠা ৭৯। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮: ২৫। মুস্তাদ্রকে হাকিম, ৩: ৬২১। উসদুল গাবাহ। ইবনু আসীর, ৫: ৪৭-৪৮। আল্-আসাবাহ্, ৬: ৩৩।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 বদর-যুদ্ধে কাফির বাহিনীর পরাজয়ের ঘোষণা

📄 বদর-যুদ্ধে কাফির বাহিনীর পরাজয়ের ঘোষণা


বর্ণনায় হযরত কাসিম বিন সাবিত (রহঃ) বদরের যুদ্ধে মুসলমানরা যেদিন কুরাইশদের বিরুদ্ধে বিজয়লাভ করেছিলেন, সেই দিন মক্কায় অদৃশ্য থেকে এক জ্বিন গানের সুরে এই কবিতাটি আবৃত্তি করছিল-
ازار الْخَفِيُّونَ بَدْرًا وَقِيعَةٍ - سَيَنْقُصُ فِيهَا رُكْنُ كِسْرَى وَقَيْصَرَ
آبادت رجالاً مِنْ لُو ْي وَابْرَرْتُ - حَرَائِرُ يَضْرِبْنَ التَّرَائِبُ حَسْرًا
فَيَا وَيحُ مَنْ أَمْسَى عَدُوٌّ مُحَمَّدٍ لَقَدْ حَادَ عَنْ قَصْدا الْهُدَى وَ تَحَيَّرًا

: বঙ্গায়ন : বদর-যুদ্ধে এমন বীর্য দেখিয়েছেন হানীফগণ, যার প্রভাবে টলে গেছে রোম-ইরানের রাজাসন। ধ্বংস হয়ে গেছে যত লুওয়াই গোত্রের মানুষজন, মেয়েরা ওদের বাইরে এসে ঠুকছে মাথা শোকের কারণ। বড় আক্ষেপ তাদের তরে, যারা মুহাম্মদের দুশমন, ইচ্ছা করেই সুপথ ছেড়ে বিপদ তারা করছে বরণ。
(কোনও এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, ওই হানীফরা কারা? সে বলে, মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ, যাঁরা দাবি করেন যে, তাঁরা হযরত ইব্রাহীমের দ্বীনে হানীফ বা একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারী।) এর কিছুক্ষণের মধ্যেই (মুসলমানদের) বিজয়-সংবাদ এসে পৌঁছায়। (১২)

টিকাঃ
(১২) আদ্‌-দালায়িল। আকامুল মারজান, পৃ. ১৩৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00