📄 মামিন তাযী’র মুসলমান হবার কারণ
বর্ণনায় হিশাম কালুবী: আমাকে তায়ী গোত্রের বেশ কয়েকজন মুরুব্বী বলেছেন যে, হযরত মাযিন তায়ী (প্রথম জীবনে) আম্মান এলাকায় মূর্তি পূজকদের সুবিধার্থে মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর নিজেরও একটি মূর্তি প্রতিমা ছিল, যার নাম ছিল 'নাযির'। হযরত মাযিন বলেছেন- একদিন আমি একটা পশু বলি দিলে সেই মূর্তিটার মুখে (জ্বিনের) কথার আওয়াজ শুনি, যে বলছিল-
يَا مَازِنُ اقْبَلُ إِلَى اقْبِلُ - تَسْمَعُ مَالَا يُجْهَلُ
هذَا نَبِيُّ مُرْسَلُ - جَاءَ بِحَقِّ مُنْزَلٍ
فَامِنْ بَدْلِي تُعْدَلُ - عَنْ حَرْنَارٍ تُشْغَلُ
وقودها بالجندل
: বঙ্গায়ন : ওহে মাযিন, মাযিন গো, এসো, আমার কাছে এসো। এবং শোন এমন কথা যা না-শুনে যায় না থাকা। ইনি রসূল বার্তাবহ, এসছেন খোদার কিতাব-সহ। ঈমান আনো এই নবীর 'পরে আগুন থেকে বাঁচার তরে, বড় বড় পাথরখণ্ড যে আগুনের ইন্ধন হবে।।
হযরত মাযিন বলেন- আল্লাহর কসম! ব্যাপারটা আমার কাছে বড় বিসম্ময়কর মনে হল। এর কয়েক দিন পর আমি অন্য একটি পশু বলি দিলাম। সেই সময় (মূর্তিটার মুখে) আগের চাইতেও পরিষ্কার আওয়াজ শুনলাম। সে বলছিল-
يَا مَازِنُ اسْمَعْ تَسُرُ - ظَهَرَ خَيْرٌ وَبَطَنَ شَرٌّ
بُعِثَ نَبِي مِنْ مُضَر - بِدِينِ اللَّهِ الْكُبَرُ
فَدَعَ نَحِينَا مِنْ حَجَرُ - تَسْلَمَ مِنْ حَرِّ سَقَرُ
: বঙ্গায়ন : ওহে মাযিন, বড় সুখবর তোমার জন্য- পাপ লুকালো আর প্রকাশ পেল পুন্য। মুযার থেকে হলেন নবী আবির্ভূত, আল্লাহপাকের শ্রেষ্ঠতম ধর্মসহ। পাথর-প্রতিমা তাই করো পরিহার, নরকাগ্নি থেকে যদি চাও উদ্ধার। (৫)
টিকাঃ
(৫) দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী, ২: ২৫৫, ২৫৬, ২৫৮, ২৫৯।
📄 হযরত যুবাব ইবনুল হারিসের মুসলমান হবার কারণ
বর্ণনায় হযরত যুবাব ইবনুল হারিস (রাঃ) ইবনু অকাশা'র একটি বশীভূত জ্বিন ছিল। জ্বিনটি ইব্নু অকাশাহকে কিছু কিছু অগাম খবর জানিয়ে দিত। একদিন জ্বিনটি এসে ইবনু অকাশকে একটি কথা বলে। ফলে ইব্দু অকাশাহ্ আমার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে-
يَاذُبَابُ يَا ذُبَابُ - اِسْمَعِ الْعَجَبَ الْعُجَابَ
بُعِثَ مُحَمَّدٌ بِالْكِتَابِ - يَدْعُو مَكَّةَ فَلَا يُجَابُ
: বঙ্গায়ন : ওহে যুবাব যুবাব গো? ভারি আজব কথা শোনো- নবী করা হল মুহাম্মদকে কিতাব-সহ, ডাক দিচ্ছেন মক্কায় তিনি, সাড়া তাতে দেয় না কেহ।
আমি (হযরত যুবাব) ইব্দু অকাশাকে বললাম, 'একথার মানে-মতলব কী?' সে বলল, 'আমি জানি না। আমাকে (জ্বিনের তরফ থেকে) এরকমই বলা হল। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনু ইস্হাক। দালায়িলুন নুবুওয়ত্, বায়হাকী। আল্-বিদায়াহ্ অন্-নিহায়াহ্।
📄 উম্মে মাখবাদের কাছে নবুওয়াতের খবর
বর্ণনায় ইবনু ইস্হাক (রহঃ) আমাকে হযরত আসমা বিনতে আবী বক্র (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা হয়েছে যে, যখন মহানবী (সাঃ) ও হযরত আবূ
বাকর (রাঃ) হিজরতের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করেন, তখন তিনরাত পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি যে, তাঁরা কোন দিকে গিয়েছেন। অবশেষে মক্কার নিম্নভূমির দিক থেকে এক জ্বিন বের হয়, যে একটি আরবী গীতিকাব্য গাইছিল। লোকেরা তার পিছনে পিছনে যাচ্ছিল। এবং তার আওয়াজ শুনছিল কিন্তু তাকে দেখতে পাচ্ছিল না। সে গাইছিল:
جَزَى الله رَبِّ النَّاسِ خَيْرَ جَزَائِهِ - رَفِيقَيْنِ قَالَا خِيْمَتَى أَمْ مَعْبَدٍ
هُمَا نَزَلَا بِالْبَرِ ثُمَّ تَرَحَلاً - فَأَفْلَحَ مَنْ أَمْسَى رَفِيقَ مُحَمَّد
لَيْهِنَّ بَنِي كَعْبٍ مَقَامَ فَتَاتِهِمْ - وَمَقْعَدُهَا لِلْمُؤْمِنِينَ بِمَرْصَد
: বঙ্গায়ন: মানুষের প্রভু আল্লাহ্ শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার প্রদান করুন ওই দুই সঙ্গীকে, যাঁরা অপরাহ্নে বিশ্রাম নিয়েছেন উম্মে মাত্মবাদের শিবিরে। এঁরা উভয়ে ময়দানে অবতরণ করেছেন, ফের আরোহণ করেছেন। তাই সফল হয়েছেন সেই ব্যক্তি, যিনি সন্ধ্যায় পৌঁছেছেন মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সুঙ্গী হয়ে।
হযরত আসমা (রাঃ) বলেছন: এই কবিতাটি শোনার পর আমরা জানতে পারি যে তারা কোন্দিকে গিয়েছেন। তাঁরা তখন মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হয়ে গিয়েছিলেন। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনু ইস্হাক। দালায়িলুন নুবুওয়ত্, বায়হাকী। আল্-বিদায়াহ্ অন্-নিহায়াহ্।
📄 দুই সাহাবী সাম্রদ (রাঃ) জিন ও ইসলাম
হযরত মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন জাবার বলেছেন: কুরায়শরা একবার আবূ কুবাইস পর্বতে উচ্চঃস্বরে কাউকে কবিতা বলতে শোনে-
فَإِنْ يُسْلِمُ السَّعْدَانِ يُصْبِحُ محمد بِمَكَّةَ لَا يَخْشَى خِلَافَ مُخَالِفٍ
: বঙ্গায়ন: যদি ইসলাম কবুল করেন উভয় সাদ, তবে- মক্কার কারো বিরোধিতার পরোয়া নবীর নাহি রবে।
তো, আবু সুফিয়ান এবং কুরাইশের সর্দাররা বলে, এই দু-সাদ কে কে? লোকেরা বলে, সাদ বিন আবূ বক্স ও সাদ বিন যায়েদ (মতান্তরে সাদ বিন কযাআহ্)
দ্বিতীয় রাতে কুরাইশরা ফের আবূ কুবাইস পর্বতের এই (কবিতার) আওয়াজ শোনে-
أيا سعد الأوس كُن أنْتَ نَاصِرًا - و يا سعد سعد الخَز رَجِينَ الْعَطَارِف
اجيبا إلى دَاعِى الْهُدَى وَ تَمَنَّيا - عَلَى اللَّهِ فِي الْفِرْدَوسِ زُلْفَةَ عَارِفٍ
فَإِنَّ ثَوَابَ اللَّهِ لِطَالِبِ الْهُدَى - جِنَانُ فِي الْفُردوس ذَاتَ رَفَارِف
: বঙ্গায়ন : 'আউস' গোত্রের সাদ তুমি মদদ করো নবীপাকের দানী গোত্র 'খযরয'-এর সাদ তুমিও পথিক হও ও-পথের। সুপথ প্রদর্শকের ডাকে সাড়া তোমার দাও গো দু'জন, এবং করো খোদার কাছে স্বর্গে থাকার আশা পোষণ। সুপথ-সন্ধানীদের তরে সেরা স্বর্গ ইনাম খোদার, শয্যা-সামান কুসুম কোমল রেশম দিয়ে তৈরি যাহার,
তখন কুরাইশরা বলে, 'দুই-সাদ বিন উবাদাহ্ (রাঃ) ও সাদ বিন মাআয (রাঃ)-কে বোঝানো হচ্ছে।
প্রাসঙ্গিকী : হযরত আব্দুল মাজীদ বিন আবূ আব্বাস রহ, বলেছেন, একবার রাতের কোনও অংশে মদীনা শরীফের অদৃশ্য থেকে কাউকে বলতে শোনা যায়-
خَيْرَ كَهْلَيْنِ فِي بَنِي الْخزرج الْغَرْ - يَسير واسعد بن عبادة الْمُجِيبَانِ
إِذَا دَعَا أَحْمَدُ الْخَيْرَ - فَنَا لَتْهُمَا هُنَاكَ السَّعَادَةُ
ثُمَّ عَاشَ مُهَدِّ بَيْنَ جَمِيعًا - ثُمَّ لَمَّا هُمَا الْمَلِيكُ شَهَادَةً
: বঙ্গায়ন : বানী খফ্রজের মর্যাদাবান মুরুব্বিদের সেরা যে-জন, উবাদাহ্-তনয় সাদের কাছে তোমারা সবাই করো গমণ। নবী যখন দুই রতনকে ইসলামের দিকে করেন আহ্বান, উভয়ে দেন সাড়া তাতে তাই হয়ে যান মহা ভাগ্যবান। • পরে তাঁরা ভদ্রভাবে আপনাপন জীবন কাটান, তার পরেতে দুই মনীষী শাহাদাতের মর্যাদা পান। (৭)
টিকাঃ
(৭) ইবনু আব্দুল বার। আল্-ইস্তিআব। আল্ হাওয়াতিফ।