📄 আব্বাস বিন মিরদাসের ইসলাম কবুলের ঘটনা
বর্ণনায় হযরত আব্বাস (রাঃ) বিন মির্দাস (রাঃ) একবার আমি দুপুর বেলায় খেজুরগাছের ঝোপের কাছে ছিলাম। এমন সময় আমার সামনে একটি সাদা উটপাখি আসে। পাখিটার উপরে ছিল সাদা পোশাকধারী এক সাদা আকৃতির সওয়ারী। সে আমাকে বলে, 'ওহে আব্বাস বিন মিন্দাস! তুমি কি দেখছ না আসমানে পাহারাদার মোতায়েন করা হয়েছে! জ্বিনরা ঘাবড়ে গেছে! এবং ঘোড়াগুলো নিজেদের সওয়ারকে নামিয়ে দিয়েছে! যে মহিমাময় সত্তা সোমবার দিনগত মঙ্গলের রাতে আর্বিভূত হয়েছেন, তাঁর উটের নাম কুস্তুয়া।' ওই দৃশ্য দেখে আর অমন কথা শুনে আমি যথেষ্ট প্রভাবিত হয়ে ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। তারপর আমি 'যিমার' নামের এক প্রতিমার কাছে এলাম। ওকে আমরা পুজো করতাম। ওই প্রতিমার ভিতর থেকে কথার আওয়াজ আমরা শুনতাম। ওর কাছে এসে আমি ওর চারদিকে ঝাড় দিলাম। তারপর ওই যিমার-মূর্তিকে ছুঁয়ে তাকে চুমু দিলাম। তখন তার ভিতর থেকে জোরালো গলায় কারোর কথার আওয়াজ এল। সে বলছিল :
قُلْ لِلْقَبَائِلِ مِنْ سُلَيْمٍ كُلِّهَا - هَلَكَ الصِّمَارُ وَفَازَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ
هَلَكَ الصِّمَارُ وَكَانَ يَعْبُدُ مَرَّةٌ - قَبْلَ الْكِتَابِ إِلَى النَّبِيِّ مُحَمَّدٍ
إِنَّ الَّذِي ورث النُّبُوَّةَ وَالْهُدى - بعد ابْنِ مَرْيَمَ مِنْ قُرَيْشٍ مُهْتَدٍ
: বঙ্গায়ন : সুলাইম গোত্রের সবাইকে দাও গো বলে এই কথাটা, 'যিমার' (ঠাকুর) ধ্বংস হল সফল হল মুসলিমরা। ধ্বংস হল 'যিমার' (ঠাকুর) পূজা করা হত যাকে, নবী মুহাম্মদের প্রতি কোরআন নাযিল হবার আগে। লাভ করলেন মীরাস যিনি নুবুওয়ত্ ও হিদায়তের, মরিয়ম-তনয় (ঈসা)-র পরে, মধ্যে তিনি কুরাইশের। (৩)
টিকাঃ
(৩) হাওয়াতিফ, ইবনু আবিদ দুনয়া, পৃষ্ঠা ৮২। হাওয়াতিফ, খারায়িত্বী, পৃষ্ঠা ৮। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৮: ২৪৭। আল্-বিদায়াহ্, অন্-নিহায়াহ্, ২: ৩৪১। দালায়িলুন নুবুওয়ত, আবূ নু'আইম, ২: ৩৪।
📄 নবীজীর ভূমিষ্ঠলগ্নে আবু কুবাইস পর্বতে জিনদের ঘোষণা
বর্ণনায় হযরত আব্দুর বিন আওফ (রাঃ) মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) যখন জন্মগ্রহণ করেন, সেই সময় 'আবূ কুবাইস' ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে উঠে জ্বিনেরা (আরবী কবিতার মাধ্যমে) একথা ঘোষণা করেছিল-
فَأَقْسِمُ لَا أُنثَى مِنَ النَّاسِ انْجَبَتْ - وَلَا وَلَدَتْ أُنثَى مِنَ النَّاسِ وَاحِدَةً
كمَا وَلَدَتْ زَهْرِيَّةٌ ذَاتُ مُفْخِرٍ - مَجْنَبَةٌ لَوْمِ الْقَبَائِلِ مَا جِدَةٌ
فقد ولدت خَيْرَ الْقَبَائِلِ أَحْمَدَ - فَأَكْرَمَ بِمَوْلُودِ وَأَكْرَمَ بِوَالِدَةٍ
: বঙ্গায়ন : কসম খোদার! মানবকুলে এমন নারী নেই দ্বিতীয়, এবং এমন রত্ন প্রসব করেনি আর অন্য কেহ। ধন্য শিশুর জন্ম দিলেন পুণ্যময়ী মা আমিনা, সকলজনের নিন্দা থেকে ঊর্ধ্বে তিনি তুলনাহীনা। বিশ্বসেরা আহমদের তরে ভাগ্যবর্তী হলেন তিনি, যেমন মহান নবজাতক তেমনি মানী তাঁর জননী।
সেই সময় আবূ কুবাইশ পাহাড়ে (আগে থেকে) যেসব জ্বিন ছিল, তারা আবৃত্তি করেছিল এই কবিতা-
يا سَاكِنِي الْبَطَحَاءِ لَا تَغْلُطُوا - وَمِيْتَرُوا الامر يعقل مُضَى
إِنَّ بَنِي زُهْرَةٍ مِنْ سِرِكُمْ - فِي غَابِرِ الدَّهْرِ وَعِنْدَ الْبَدِي
واحدة مَعَكُمْ فَهَا تُوا لَنَا - فِيمَنْ مَضَى فِي النَّاسِ أَوْ مَنْ بَقِيَ.
وَاحِدَةٌ مِنْ غَيْرِكُمْ مِثْلَهَا - جَنِيهَا مِثْلَ النَّبِيِّ التَّقى
: বঙ্গায়ন : ওহে মক্কার বাসিন্দারা, ভুল তোমাদের যেন না-হয়, কাজ করবে জেনে-বুঝে, জ্ঞান-বৃদ্ধির দীপ্ত বংশধারায়, প্রাচীন কালেই হোক অথবা হয়ে থাকুক এই জমানায়। এমন একটি নারী থাকলে দাও আমাদের সামনে এনে, আগের যুগের হোন অথবা হয়ে থাকুন বর্তমানে। ভিন্নকূলের মধ্য হতে হলেও আনো এমন নারী, বিশ্বনবীর তুল্য শিশু করিয়াছেন প্রসব যিনি। (৪)
টিকাঃ
(৪) আল-হাওয়াতিফ, ইবনু আবিদ দুনইয়া, পৃষ্ঠা ৬৫।
📄 মামিন তাযী’র মুসলমান হবার কারণ
বর্ণনায় হিশাম কালুবী: আমাকে তায়ী গোত্রের বেশ কয়েকজন মুরুব্বী বলেছেন যে, হযরত মাযিন তায়ী (প্রথম জীবনে) আম্মান এলাকায় মূর্তি পূজকদের সুবিধার্থে মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর নিজেরও একটি মূর্তি প্রতিমা ছিল, যার নাম ছিল 'নাযির'। হযরত মাযিন বলেছেন- একদিন আমি একটা পশু বলি দিলে সেই মূর্তিটার মুখে (জ্বিনের) কথার আওয়াজ শুনি, যে বলছিল-
يَا مَازِنُ اقْبَلُ إِلَى اقْبِلُ - تَسْمَعُ مَالَا يُجْهَلُ
هذَا نَبِيُّ مُرْسَلُ - جَاءَ بِحَقِّ مُنْزَلٍ
فَامِنْ بَدْلِي تُعْدَلُ - عَنْ حَرْنَارٍ تُشْغَلُ
وقودها بالجندل
: বঙ্গায়ন : ওহে মাযিন, মাযিন গো, এসো, আমার কাছে এসো। এবং শোন এমন কথা যা না-শুনে যায় না থাকা। ইনি রসূল বার্তাবহ, এসছেন খোদার কিতাব-সহ। ঈমান আনো এই নবীর 'পরে আগুন থেকে বাঁচার তরে, বড় বড় পাথরখণ্ড যে আগুনের ইন্ধন হবে।।
হযরত মাযিন বলেন- আল্লাহর কসম! ব্যাপারটা আমার কাছে বড় বিসম্ময়কর মনে হল। এর কয়েক দিন পর আমি অন্য একটি পশু বলি দিলাম। সেই সময় (মূর্তিটার মুখে) আগের চাইতেও পরিষ্কার আওয়াজ শুনলাম। সে বলছিল-
يَا مَازِنُ اسْمَعْ تَسُرُ - ظَهَرَ خَيْرٌ وَبَطَنَ شَرٌّ
بُعِثَ نَبِي مِنْ مُضَر - بِدِينِ اللَّهِ الْكُبَرُ
فَدَعَ نَحِينَا مِنْ حَجَرُ - تَسْلَمَ مِنْ حَرِّ سَقَرُ
: বঙ্গায়ন : ওহে মাযিন, বড় সুখবর তোমার জন্য- পাপ লুকালো আর প্রকাশ পেল পুন্য। মুযার থেকে হলেন নবী আবির্ভূত, আল্লাহপাকের শ্রেষ্ঠতম ধর্মসহ। পাথর-প্রতিমা তাই করো পরিহার, নরকাগ্নি থেকে যদি চাও উদ্ধার। (৫)
টিকাঃ
(৫) দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী, ২: ২৫৫, ২৫৬, ২৫৮, ২৫৯।
📄 হযরত যুবাব ইবনুল হারিসের মুসলমান হবার কারণ
বর্ণনায় হযরত যুবাব ইবনুল হারিস (রাঃ) ইবনু অকাশা'র একটি বশীভূত জ্বিন ছিল। জ্বিনটি ইব্নু অকাশাহকে কিছু কিছু অগাম খবর জানিয়ে দিত। একদিন জ্বিনটি এসে ইবনু অকাশকে একটি কথা বলে। ফলে ইব্দু অকাশাহ্ আমার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে-
يَاذُبَابُ يَا ذُبَابُ - اِسْمَعِ الْعَجَبَ الْعُجَابَ
بُعِثَ مُحَمَّدٌ بِالْكِتَابِ - يَدْعُو مَكَّةَ فَلَا يُجَابُ
: বঙ্গায়ন : ওহে যুবাব যুবাব গো? ভারি আজব কথা শোনো- নবী করা হল মুহাম্মদকে কিতাব-সহ, ডাক দিচ্ছেন মক্কায় তিনি, সাড়া তাতে দেয় না কেহ।
আমি (হযরত যুবাব) ইব্দু অকাশাকে বললাম, 'একথার মানে-মতলব কী?' সে বলল, 'আমি জানি না। আমাকে (জ্বিনের তরফ থেকে) এরকমই বলা হল। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনু ইস্হাক। দালায়িলুন নুবুওয়ত্, বায়হাকী। আল্-বিদায়াহ্ অন্-নিহায়াহ্।