📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 রুমযান মাসে শয়তানের বন্দীদশা

📄 রুমযান মাসে শয়তানের বন্দীদশা


(হাদীস) হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ صُفِدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ
যখন রমযানের পয়লা রাত শুরু হয়, শয়তান ও অবাধ্য জ্বিনদের বেঁধে দেওয়া হয়। (১১)

ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর সাহেবযাদা (পুত্র) হযরত আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেছেনঃ আমি আমার পিতাকে এই (উপরে বর্ণিত) হাদীস সম্পর্কে এ মর্মে প্রশ্ন নিবেদন করি যে, বরকতময় রমযান মাসেও তো মানুষের অসওয়াসাহ হয় এবং মানুষকে জ্বিনে ধরে!

উত্তরে ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেনঃ হাদীস শরীফে ওরকমই বর্ণিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য: আল্লামা আবদুর রউফ মুনাবী (রহঃ) আলোচ্য প্রশ্নের উত্তরে বলেছেনঃ শয়তানদেরকে শিকলে বেঁধে ফেলা হয় এই জন্য, যাতে ওরা রোযাদারকে অসওয়াসায় ফেলতে না পারে। এর লক্ষণ হল এই যে, অধিকাংশ মানুষ, যারা (অন্য সময়) পাপে ডুবে থাকে, রমযান মাসে তারা পাপকাজ ছেড়ে মনোযোগী হয় আল্লাহর দিকে।

কিছু মানুষের চালচলনে বা কার্যকলাপে এমন জিনিস দেখা যায়, যা জ্বিন-ঘটিত বলে মনে হয়, তা আসলে অবাধ্য জ্বিনদের প্রভাবজনিত মনোবিকলনের ফসল। অর্থাৎ অবাধ্য জ্বিনরা দুষ্টমতি মানুষদের মন-মগজে এমনভাবে জেঁকে বসে যার প্রভাব তাদের অনুপস্থিতিতেও চালু থাকে।

কোনও কোনও আলিম এই উত্তর দিয়েছেন যে, অবাধ্য জ্বিনদের সর্দারদের এবং শয়তানী কার্যকলাপের প্রচার-প্রসারকারী জ্বিন ও শয়তানদেরকে শিকলে আবদ্ধ করা হয় (ছোট জ্বিন-শয়তানদের নয়)। (১২)

আরও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি যাবতীয় শর্ত-সহকারে রোযা পালন করে তাকে শয়তান থেকে হিফাযত করা হয়। মতান্তরে, সমস্ত রোযাদারকে শয়তান থেকে হিফাযত করা হয়। তা সত্ত্বেও যে সব পাপাচার হয়, সেগুলো নফস্ বা কুপ্রবৃত্তির কারণে হয়। অথবা, অবাধ্য জ্বিনরা বন্দী থাকলেও অবাধ্যতা করে না-এমন জ্বিনদের দ্বারা সংঘটিত হয় ওই সব পাপাচার। (১৩)

টিকাঃ
(১১) তিরমিযী, হাদীস ৬৮২। মুস্তাদ্রাক ১: ৪২। শারহুস্ সুন্নাহ ৬: ২১৫। মুআলিমুত্ তান্যীল, ১: ১৫৭। আশ-আরীআতু আজারী, হাদীস ৩৯৩। দুররুল মানূর ১: ১৮৩। ফাতহুল বারী ৩: ১১৪। কানযুল উম্মাল হাদীস ২৩৬৬৪। বাইহাকী ৪: ২০৩। আমালী আশজারী ১: ২৮৮; ২: ৩, ৪১। হুইয়াতুল আউলিয়া: ৩০৬। কানযুল উমামাল ২৩৭০৩। ইবনু মাজাহ্।
(১২) ফাইযুল ক্বাদীর, শারহু জামিই সগীর, আল্লামা আব্দুর রউফ মুনাবী ১: ৩৪০।
(১৩) ফাইযুল ক্বাদীর, মুনাবী ৪: ৩৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00