📄 আকাশ থেকে জিনরা বহিষ্কৃত হয়েছে কবে থেকে
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ শয়তান (আগে) আসমানের দিকে উঠত। এবং অহীর কথাগুলো শুনত। তারপর সেগুলো শুনে নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসত। এবং তাতে ৯ ভাগ মিথ্যা কথা পেত। জ্বিনদের এই কার্যকলাপ বরাবর চালু থাকল। অবশেষে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমণ ঘটতে জ্বিনদেরকে ওই ঔদ্ধত্য থেকে আটকানো হয়। ফলে জ্বিনরা সে কথা ইবলীসকে বলে। শুনে ইবলীস বলে, পৃথিবীতে নিশ্চয় কোনও নতুন বিষয় ঘটেছে।' তারপর ইবলীস জ্বিনদেরকে (সংবাদ সংগ্রহের জন্য পৃথিবীর চতুর্দিকে) ছড়িয়ে দেয়। তো একদল জ্বিন মহানবী (সাঃ)-কে নাখলের দুই পাহাড়ের মধ্যস্থলে কোরআন পাঠরত অবস্থায় পেয়ে বলে, 'আল্লাহর কসম! এই সেই নতুন বিষয় এবং এই কারণেই ওদের উদ্দেশে উল্কা ছোঁড়া হচ্ছে।' (৭)
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ জ্বিন সম্প্রদায়ের প্রত্যেক গোত্রের জন্য আসমানে একটি করে বৈঠকখানা থাকত। ওখান থেকে অহী শুনে ওরা জ্যোতিষী জাদুকরদের বলে দিত। মহানবী (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পর ওদেরকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। (৮)
টিকাঃ
(৭) দালায়িলুন্ নবুওঅত, বায়হাকী ২: ২৩৯, ২৪০। আল্-বিদায়াহ্ অন্-নিহায়াহ্ ৩: ১৮, ১৯, ২০। মুসনাদে আহমাদ।
(৮) আবূ নুআইম। দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী ২: ২৪০।
📄 আকাশ থেকে জিনদের বৈঠকখানা উঠল কবে থেকে
বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হযরত ঈসা (আঃ) ও মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মধ্যবর্তী সময়পর্বে পৃথিবীর উপরের আসমানে জ্বিনদের ওঠাকে বাধা দেওয়া হত না। (ঊর্ধ্বজগতের কথাবার্তা) শোনার জন্য আসমানে ওই জ্বিনদের বৈঠকখানা ছিল। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নুবুওঅত দেওয়া হলে আসমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং শয়তানদের উদ্দেশে উল্কা ছোঁড়া হতে থাকে। (৯)
টিকাঃ
(৯) বায়হাকী ২: ২৪১। সীরাতে ইবনে হিশাম ২: ৩১।
📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) পূর্বে জিনরা বসত আসমানে
হযরত উবাই ইবনু কাআব (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত ঈসা (আঃ)-কে আসমানে তুলে নেবার পর থেকে শয়তানদের উপর কোনও উল্কা নিক্ষেপ করা হয়নি। যখন মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নুবুওঅত দেওয়া হয়, তখন থেকে শয়তানদের উপর উল্কা ছোঁড়া হতে থাকে। (১০)
টিকাঃ
(১০) দালায়িলুন নুবুওয়ত, আবূ নুআইম।
📄 রুমযান মাসে শয়তানের বন্দীদশা
(হাদীস) হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ صُفِدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ
যখন রমযানের পয়লা রাত শুরু হয়, শয়তান ও অবাধ্য জ্বিনদের বেঁধে দেওয়া হয়। (১১)
ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর সাহেবযাদা (পুত্র) হযরত আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেছেনঃ আমি আমার পিতাকে এই (উপরে বর্ণিত) হাদীস সম্পর্কে এ মর্মে প্রশ্ন নিবেদন করি যে, বরকতময় রমযান মাসেও তো মানুষের অসওয়াসাহ হয় এবং মানুষকে জ্বিনে ধরে!
উত্তরে ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেনঃ হাদীস শরীফে ওরকমই বর্ণিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য: আল্লামা আবদুর রউফ মুনাবী (রহঃ) আলোচ্য প্রশ্নের উত্তরে বলেছেনঃ শয়তানদেরকে শিকলে বেঁধে ফেলা হয় এই জন্য, যাতে ওরা রোযাদারকে অসওয়াসায় ফেলতে না পারে। এর লক্ষণ হল এই যে, অধিকাংশ মানুষ, যারা (অন্য সময়) পাপে ডুবে থাকে, রমযান মাসে তারা পাপকাজ ছেড়ে মনোযোগী হয় আল্লাহর দিকে।
কিছু মানুষের চালচলনে বা কার্যকলাপে এমন জিনিস দেখা যায়, যা জ্বিন-ঘটিত বলে মনে হয়, তা আসলে অবাধ্য জ্বিনদের প্রভাবজনিত মনোবিকলনের ফসল। অর্থাৎ অবাধ্য জ্বিনরা দুষ্টমতি মানুষদের মন-মগজে এমনভাবে জেঁকে বসে যার প্রভাব তাদের অনুপস্থিতিতেও চালু থাকে।
কোনও কোনও আলিম এই উত্তর দিয়েছেন যে, অবাধ্য জ্বিনদের সর্দারদের এবং শয়তানী কার্যকলাপের প্রচার-প্রসারকারী জ্বিন ও শয়তানদেরকে শিকলে আবদ্ধ করা হয় (ছোট জ্বিন-শয়তানদের নয়)। (১২)
আরও বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি যাবতীয় শর্ত-সহকারে রোযা পালন করে তাকে শয়তান থেকে হিফাযত করা হয়। মতান্তরে, সমস্ত রোযাদারকে শয়তান থেকে হিফাযত করা হয়। তা সত্ত্বেও যে সব পাপাচার হয়, সেগুলো নফস্ বা কুপ্রবৃত্তির কারণে হয়। অথবা, অবাধ্য জ্বিনরা বন্দী থাকলেও অবাধ্যতা করে না-এমন জ্বিনদের দ্বারা সংঘটিত হয় ওই সব পাপাচার। (১৩)
টিকাঃ
(১১) তিরমিযী, হাদীস ৬৮২। মুস্তাদ্রাক ১: ৪২। শারহুস্ সুন্নাহ ৬: ২১৫। মুআলিমুত্ তান্যীল, ১: ১৫৭। আশ-আরীআতু আজারী, হাদীস ৩৯৩। দুররুল মানূর ১: ১৮৩। ফাতহুল বারী ৩: ১১৪। কানযুল উম্মাল হাদীস ২৩৬৬৪। বাইহাকী ৪: ২০৩। আমালী আশজারী ১: ২৮৮; ২: ৩, ৪১। হুইয়াতুল আউলিয়া: ৩০৬। কানযুল উমামাল ২৩৭০৩। ইবনু মাজাহ্।
(১২) ফাইযুল ক্বাদীর, শারহু জামিই সগীর, আল্লামা আব্দুর রউফ মুনাবী ১: ৩৪০।
(১৩) ফাইযুল ক্বাদীর, মুনাবী ৪: ৩৯।