📄 ‘লা হাওলা’ বিষয়ক বিস্ময়কর ঘটনা
বর্ণনায় হযরত জারীর বিন আবদুল্লাহ বাজায়ী (রহঃ) 'তাস্তার' বিজয়ের পর তার কোনও এক রাস্তা দিয়ে আমি সফর করছিলাম। যেতে যেতে একবার আমি لَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ লা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলি।
ওখানকার এক বীরপুরুষ তা শুনে বলেন, 'আমি একথা একবার মাত্র আকাশ থেকে শুনেছিলাম। তারপর আর কারোর মুখে শুনিনি।' আমি বললাম, 'সেটা কীরকম?' তিনি বললেন, 'আমি ছিলাম একজন রাজদূত। দূত হিসাবে কিস্সা (পারস্য সম্রাট)-এর কাছেও যেতাম। যেতাম কাইসার (রোমসম্রাট)-এর কাছেও একবার আমি রাজপ্রতিনিধিদল নিয়ে পারস্য সম্রাটের কাছে গিয়েছি। সেই সময় শয়তান আমার রূপ ধরে আমার স্ত্রীর কাছে থাকতে লাগে। আমি ফিরে এলে আমার স্ত্রী কোনও আনন্দ প্রকাশ করল না, সেমনটা সে আগে করত। তো আমি বললাম, 'তোমার কী হল?' সে (অবাক হয়ে) বলে, 'তুমি আমার থেকে কবে চলে গিয়েছিলে?'
তারপর সেই শয়তান আমার সামনে প্রকাশিত হয়ে বলে, 'তুমি এটা স্বীকার করে নাও যে, তোমার স্ত্রী একদিন তোমার জন্য হবে এবং একদিন আমার জন্য হবে।'
পরে একদিন সেই শয়তান আমার কাছে এসে বলে, 'আমি হলাম সেইসব জ্বিনের অন্তর্গত, যারা (আসমান বা ঊর্ধ্বজগত থেকে) তথ্য চুরি করে। এবং আমাদের চুরি করার পালাও নির্ধারিত আছে। আজ রাতে আমার পালা। তা, তুমিও আমার সাথে যাবে কি?'
আমি বললাম, 'হ্যাঁ, যাব।'
সন্ধ্যা হতে সে আমার কাছে এল। আমাকে তার পিঠের ওপর বসাল। সেই সময় তার আকৃতি ছিল শুয়োরের মতো। সে আমাকে বলল, 'সাবধান! এবার তুমি বিস্ময়কর আর ভয়ঙ্কর ব্যাপার-স্যাপার দেখবে। তাই আমাকে জোরালোভাবে ধরে থাকবে। তা নাহলে খতম হয়ে যাবে।
তারপর সেই জ্বিনেরা উপরদিকে উঠল। উঠতে উঠতে শেষ পর্যন্ত আকাশের প্রায় গায়ে গিয়ে ঠেকল। এমন সময় আমি শুনলাম একজন বলছিল- لَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ وَمَا لَمْ يَشَاءُ لَمْ يَكُنْ
আল্লাহ ছাড়া আর কারোর কোনও শক্তি-ক্ষমতা নেই। আল্লাহ যা চান তাই হয়, যা চান না তা হয় না।
এরপর সেই জ্বিনদের উপর আগুনের গোলা ছোঁড়া হয়। ফলে তারা লোকালয়ের পিছনে পায়খানায় ও গাছপালায় গিয়ে পড়ে। আমি ওই কথাটা মুখস্থ করে নেই। সকাল হতে নিজের স্ত্রীর কাছে আসি। তারপর থেকে সেই শয়তান যখনই আসত, আমি এই কথাটা বলতাম। যা শুনে সে প্রচণ্ড ঘাবড়ে যেত। এমনকী (ভয়ের চোটে) সে কামরার ঘুলঘুলি দিয়েও বেরিয়ে যেত। আর আমিও ওই দু'আটা পড়তে থাকি। অবশেষে সে আমাকে (চিরতরে) ছেড়ে যায়। (৬)
টিকাঃ
(৬) ইবনু আবিদ দুনইয়া, কিতাবুল হাওয়াতিফ (৯১), পৃষ্ঠা ৭৪। আকামুল মারজান, পৃষ্ঠা ৭৫। কিতাবুল আজাইব, আবু আব্দুর রহমান হারাবী (রহঃ)।
📄 আকাশ থেকে জিনরা বহিষ্কৃত হয়েছে কবে থেকে
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ শয়তান (আগে) আসমানের দিকে উঠত। এবং অহীর কথাগুলো শুনত। তারপর সেগুলো শুনে নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসত। এবং তাতে ৯ ভাগ মিথ্যা কথা পেত। জ্বিনদের এই কার্যকলাপ বরাবর চালু থাকল। অবশেষে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমণ ঘটতে জ্বিনদেরকে ওই ঔদ্ধত্য থেকে আটকানো হয়। ফলে জ্বিনরা সে কথা ইবলীসকে বলে। শুনে ইবলীস বলে, পৃথিবীতে নিশ্চয় কোনও নতুন বিষয় ঘটেছে।' তারপর ইবলীস জ্বিনদেরকে (সংবাদ সংগ্রহের জন্য পৃথিবীর চতুর্দিকে) ছড়িয়ে দেয়। তো একদল জ্বিন মহানবী (সাঃ)-কে নাখলের দুই পাহাড়ের মধ্যস্থলে কোরআন পাঠরত অবস্থায় পেয়ে বলে, 'আল্লাহর কসম! এই সেই নতুন বিষয় এবং এই কারণেই ওদের উদ্দেশে উল্কা ছোঁড়া হচ্ছে।' (৭)
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ জ্বিন সম্প্রদায়ের প্রত্যেক গোত্রের জন্য আসমানে একটি করে বৈঠকখানা থাকত। ওখান থেকে অহী শুনে ওরা জ্যোতিষী জাদুকরদের বলে দিত। মহানবী (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পর ওদেরকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। (৮)
টিকাঃ
(৭) দালায়িলুন্ নবুওঅত, বায়হাকী ২: ২৩৯, ২৪০। আল্-বিদায়াহ্ অন্-নিহায়াহ্ ৩: ১৮, ১৯, ২০। মুসনাদে আহমাদ।
(৮) আবূ নুআইম। দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী ২: ২৪০।
📄 আকাশ থেকে জিনদের বৈঠকখানা উঠল কবে থেকে
বর্ণনায় হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হযরত ঈসা (আঃ) ও মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মধ্যবর্তী সময়পর্বে পৃথিবীর উপরের আসমানে জ্বিনদের ওঠাকে বাধা দেওয়া হত না। (ঊর্ধ্বজগতের কথাবার্তা) শোনার জন্য আসমানে ওই জ্বিনদের বৈঠকখানা ছিল। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নুবুওঅত দেওয়া হলে আসমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং শয়তানদের উদ্দেশে উল্কা ছোঁড়া হতে থাকে। (৯)
টিকাঃ
(৯) বায়হাকী ২: ২৪১। সীরাতে ইবনে হিশাম ২: ৩১।
📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) পূর্বে জিনরা বসত আসমানে
হযরত উবাই ইবনু কাআব (রাঃ) বলেছেনঃ হযরত ঈসা (আঃ)-কে আসমানে তুলে নেবার পর থেকে শয়তানদের উপর কোনও উল্কা নিক্ষেপ করা হয়নি। যখন মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নুবুওঅত দেওয়া হয়, তখন থেকে শয়তানদের উপর উল্কা ছোঁড়া হতে থাকে। (১০)
টিকাঃ
(১০) দালায়িলুন নুবুওয়ত, আবূ নুআইম।