📄 এক কথায় একশ মিথ্যা
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আয়িশা (রাঃ) আমি একবার নিবেদন করি, হে আল্লাহর রসূল! এই জ্যোতিষীরা যা বলে, তা আমরা সত্য হিসেবেও পাই (এটা কীভাবে হয়)!' তিনি বলেন-
تِلْكَ الْكَلِمَةُ الْحَقِّ يَخْطَفُهَا الْجِنِّى فَيَقْدِفُهَا فِي اذْنِ وَلِيِّهِ وَيَزِيدُ فِيهَا مِائَةَ كَذِبَةٍ
একথা সত্য (হবার কারণ), জ্বিন তা চুরি করে তার বন্ধুর কানে তোলে, সে তাতে একশ' মিথ্যা মিশিয়ে দেয়। (২)
টিকাঃ
(২) সহীহ বুখারী, কিতাবুত্ ত্বিব্ব, বাব ৪৬৫; কিতাবুত তাওহীদ, বাব ৫৭। সহীহ মুসলিম, কিতাবুস্ সালাম, হাদীস ১২২, ১২৪। মুসনাদ আহমাদ ১: ২১৮; ৬:৪৬৭। দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী ২: ২৩৫। সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৪: ১৩৮। দুররুল মানসূর ৫: ৯৯। শারহুস্ সুন্নাহ্, ১২:১৮০। ফাতহুল বারী ১০: ২১৬, ৫৯৫। মিশকাত ৪৫৯৩। তাফসীর ইবনু কাসীর ৬: ১৩৮। তাফসীর কুরতুবী ৭: ৪।
📄 ইবলীস ঊর্ধ্বজগতে বাধা পেল কবে থেকে
হযরত মাআয বিন খরবুয বলেছেনঃ ইল্লীস (প্রথমে) সাত আসমানেই যাতায়াত করত। হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্মের পর তাকে (উপরের) তিন আসমানে যেতে বাধা দেওয়া হয়। ফলে সে কেবল চার আসমান পর্যন্ত যেতে পারত। তারপর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আবির্ভাব হতে ইবলীসের জন্য সাত আসমানের দরজাই বন্ধ করে দেওয়া হয়। (৩)
টিকাঃ
(৩) যুবায়ের বিন বাক্কার। তারীখ, ইবনু আসাকির।
📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) আবির্ভাবের একটি প্রমাণ উল্কাবর্ষণ
বর্ণনায় হযরত ইমাম শাস্ত্রী (রহঃ) যখন মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শুভ আগমন ঘটে, তখন শয়তানদের উপর তারাখসা (উল্কা) নিক্ষেপ করা হয়। তার আগে উল্কাবর্ষণ করা হত না। ফলে লোকেরা আবদ ইয়ালীল (নামক এক জ্যোতিষী)-এর কাছে এসে বলে-'অমন তারা (খসে পড়তে) দেখে মানুষ (কাজ-কাম থেকে) হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছে। নিজেদের গোলামদের আজাদ করে দিয়েছে। এবং পশুগুলোকে বেঁধে ফেলেছে।' তো আবদ ইয়ালীল পরামর্শ দিলেন, 'তোমরা তাড়াহুড়ো করো না। বরং লক্ষ্য রাখো, যদি কোনও বিখ্যাত তারা (পতিত) হয়, তবে (জানবে) মানুষের ধ্বংসের সময় এসে গেছে। আর যদি কোনও অখ্যাত তারা (পতিত হয়) তবে জানবে,) কোনও নতুন জিনিস প্রকাশিত হয়েছে।' তারপর তিনি মামুলি তারাখসা পড়তে দেখে বললেন, কোনও অভূতপূর্ব জিনিস সংঘটিত হয়েছে।' এর অল্পকালের মধ্যেই তারা শুনল বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর (আগমন)-সংবাদ। (৪)
টিকাঃ
(৪) ইবনু আব্দুল বার। দালায়িলুন নুবুওয়ত, বায়হাকী ২: ২১৪১। আল্-বিদায়াহ্ অন্-নিহায়াহ্ ৩: ১৯।
📄 বিশ্বনবীর (সাঃ) পূর্বেও উল্কাপতন ঘটত
হযরত মুআম্মার বিন আবী শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হয় যে, বিশ্বনবী (সাঃ) কর্তৃক ইসলাম প্রচারের পূর্বেও কি উল্কাপাত হত? তিনি উত্তরে বলেন, হ্যাঁ, হত, তবে (মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে) ইসলাম প্রচারিত হলে বেশি বেশি উল্কাপাত হতে লাগে।' (৫)
টিকাঃ
(৫) তাফসীর আব্দুর রায্যাক।