📄 জিনহত্যা কখন জায়েয
ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহঃ) বলেছেনঃ অকারণে নরহত্যা যেমন জায়েয নয়, তেমনই অনর্থক জ্বিনহত্যাও জায়েয নয়। জুলুম-অত্যাচার সর্বাবস্থায় হারাম। তাই কোনও ব্যক্তির পক্ষে বৈধ নয় কারোর উপর জুলুম করা, চাই সে কাফিরই হোক না কেন। জ্বিনরা বিভিন্ন রূপ আকৃতি ধরতে পারে। কখনও কখনও বাড়ির সাপও জ্বিন হয়। ওগুলোকে তিনবার বের করে দেওয়া উচিত। তাতে চলে গেলে ঠিক আছে। নতুবা মেরে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে সেটা আসল সাপ হলে, মারা পড়বে। এবং জ্বিন হয়ে থাকলে, সাপের রূপ ধরে মানুষকে ভয়ভীত করার জন্য, অবাধ্য হয়ে প্রকাশ পাবার জিদ ধরার দরুন হত্যার যোগ্য বলে গণ্য হবে।
📄 জিন হত্যার বদলায় ১২০০০ দিরহাম সদকাহ্
বর্ণনায় হযরত আবূ মালীকাহ্ (রহঃ) হযরত আয়িশাহ্ (রাঃ)-র কাছে একটা জ্বিন আসা-যাওয়া করত। হযরত আয়িশা (রাঃ) তাকে মেরে ফেলার হুকুম দেন। ফলে তাকে মেরে ফেলা হয়। তারপর হযরত আয়িশা (রাঃ) স্বপ্নে সেই জ্বিনকে দেখেন। সে বলে, 'আপনি আল্লাহর এক মুসলমান বান্দাকে নিহত করালেন।' হযরত আয়িশা বলেন, 'তুমি যদি মুসলমান হতে, তাহলে উম্মত জননীদের কাছে যাতায়াত করতে না।' তাঁকে বলা হয়, 'ও তো আপনার কাছে সেই সময় যেত, যখন আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ ঠিকঠাক থাকত এবং ও তো কোরআনপাক শোনার জন্যই যেত।' হযরত আয়িশা (রাঃ) ঘুম থেকে জেগে উঠে বারো হাজার দিরহাম সদকাহ্ করার হুকুম দেন। এবং সেগুলি ফকীর মিসকীনদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়। (৩)
টিকাঃ
(৩) কিতাবুল উম্মাহ্, আবু আশ্-শায়খ।
📄 জিন হত্যার বদলায় ৪০ ক্রীতদাসকে মুক্তি
হযরত আয়িশা (রাঃ): তাঁর কামরায় একবার একটা সাপ দেখতে পেয়ে সেটাকে মেরে ফেলার হুকুম দেন। সুতরাং সাপটাকে মেরে ফেলা হয়। রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন, তাঁকে এ মর্মে বলা হয়, যে সাপকে তিনি মেরেছেন, সে ছিল জ্বিন এবং সে ছিল সেই জ্বিনদের অন্তর্গত, যারা রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর থেকে কোরআনপাঠ (সূরা আল-জ্বিন) শুনেছিল। হযরত আয়িশা (রাঃ) (স্বপ্নের মাধ্যমে একথা জানার পর) কিছু লোককে ইয়ামানে পাঠান, যারা তাঁর জন্য চল্লিশজন গোলাম কিনে আনে। এবং তিনি তাদের সবাইকে মুক্ত করে দেন। (৪)
টিকাঃ
(৪) ইবনু আবিদ দুনইয়া।
📄 কোন প্রকার ‘বাসুসাপ’ মেরে ফেলা চলবে
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) তাঁর এক ত্রিতল (বা ত্রিকোণ) বাড়ির কাছে ছিলেন। এমন সময় সেখানে তিনি এক জ্বিনের চমক দেখতে পান। তিনি বলেন, 'ওই জ্বিনের পিছনে দৌড়াও এবং ওকে শেষ করে দাও।' তো হযরত আবূ লুবাবাহ্ আনসারী (রাঃ) বলেন, 'আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর থেকে শুনেছি, তিনি বাড়িতে থাকা জ্বিনদের মারতে নিষেধ করেছেন তবে বিষধর সাপ ও দুষ্ট প্রকৃতির সাপকে মারা চলবে, কেননা ওরা দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয় এবং মহিলাদের গর্ভপাত ঘটায়। (৫)
টিকাঃ
(৫) সহীহ্ মুসলিম, কিতাবুস্ সালাম, হাদীস ১৩৫,১৩৬। সুনানু ইবনু মাজাহ্, কিতাবুত্ ত্বিব্ব ৪৫। সহীহ বুখারী, বাদউল খল্ক, বাব ১৫। সুনানু আবূ দাউদ, কিতাবুল আদাব, বাব ১৬২। সুনানু নাসায়ী, কিতাবুল হাজ্জ, বাব ৮৪। মুআত্তা মালিক। মুস্লাদে আহমাদ ২ঃ ১৪৬।