📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 সাদা মোরগের বরকত

📄 সাদা মোরগের বরকত


(হাদীস) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
اتَّخِذا الديك الابيض فَإِنَّ دَارًا فِيهَا دِيكًا أَبْيَضُ لَا يَقْرُبُهَا شَيْطَانُ وَلَا سَاحِرٌ وَلَا الدُّورُ حَولَهَا
তোমরা সাদা মোরগ রাখবে। কেননা যে বাড়িতে সাদা মোরগ থাকে, তার কাছে না শয়তান ঘেঁষতে পারে আর না জাদুকর। এমনকী তার (সাদা মোরগ বাড়ির) আশেপাশের বাড়িতেও শয়তান (ও জাদুকার) যায় না। (৫৩)

(হাদীস) হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الديك يؤذن يا لصلوة من اتَّخَذَ دِيكًا أَبْيَضَ حَفِظَ مِنْ ثَلَاثَةٍ مِنْ شَرِّ مَحَل شَيْطَانٍ وَسَاحِرٍ وَكَاهِن .
মোরগ নামাযের জন্য আযান দেয়। যে ব্যক্তি সাদা মোরগ রাখে, তাকে তিনটি জিনিস থেকে হিফাযত করা হয়- শয়তানের অনিষ্ট থেকে, জাদুকরের অনিষ্ট থেকে এবং জ্যোতিষীর অনিষ্ট থেকে। (৫৪)

(হাদীস) হযরত আবূ যায়েদ আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الديك الأبيض صديقي وَصَدِيقُ صَدِيقِي يَحْرُسُ دَارَ صَاحِبِهِ وَسَبْعَ دُورٍ حَوْلَهَا
সাদা মোরগ আমার বন্ধু এবং আমার বন্ধুরও বন্ধু। এ আপন মনিবের বাড়ি হিফাযত করে এবং হিফাযত করে তার আশেপাশের সাতটি বাড়িও। (৫৫)

(হাদীস) হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الديك الابيض الافرق حَبِيبِي وَحَبِيبُ حَبِيبِي جِبْرِيلُ يَحْرُسُ بَيْتَهُ وَسِتَّةَ عَشَرَ بَيْتًا مِنْ جِيرَانِهِ : أَرْبَعَةٌ عَنِ الْيَمِينِ وَأَرْبَعَةٌ عَنِ الشِّمَالِ وَأَرْبَعَةٌ مِنْ قُدَّامِهِ وَأَرْبَعَةً مِنْ خَلْفِهِ -
ঝুঁটিওয়ালা সাদা মোরগ আমার বন্ধু এবং আমার বন্ধু জিব্রাঈলেরও বন্ধু। এ (ঝুঁটিওয়ালা সাদা মোরগ) নিজের বাড়ির হিফাযত করে এবং সেই সাথে হিফাযত করে আপন প্রতিবেশির ষোলোটি ঘরও-হিফাযত করে- চারটি ডানদিক থেকে, চারটি বামদিক থেকে, চারটি সামনে থেকে এবং চারটি পিছন থেকে। (৫৬)

(হাদীস) হযরত ইবনু উমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لَا تَسُبُّوا الدِّيكَ الْأَبْيَضَ فَإِنَّهُ صَدِيقِي وَأَنَا صَدِيقَهُ وَعَدُوهُ عَدُوِّى وَإِنَّهُ لَيَطْرُدُ مَدَى صَوْتِهِ مِنَ الْجِنِّ -
সাদা মোরগকে তোমরা ভর্ৎসনা করো না। ও আমার বন্ধু। আমিও ওর বন্ধু। ওর যে শত্রু সে আমারও শত্রু। ওর আওয়াজ যতদূর পৌঁছায়, ততদূর পর্যন্ত ও জ্বিনকে তাড়িয়ে দেয়। (৫৭)

টিকাঃ
(৫৩) মুউজামে আওসাতু, তবারানী। আল্ সদীক ফী আখবারিদ্ দীক, সুয়ূতী। মাজমাউয যাওয়াইদ ৫: ১১৭। আল্ লালী আল মাসনূআহ্ ২: ১৪২।
(৫৪) শুআবুল ঈমান, বায়হাকী। জামিই সগীর ৪২৯৫। কানযুল উম্মাল ৩৫২৮৮। তাক্বিরাতুল মাউযুআত, তাহির পাটনাবী। আল্ আসরার আল্ মারফুআহ্ ৪৩১।
(৫৫) মুস্লাদে হারিস বিন উসামাহ্। কাশফুল খিফা ১৩২৩। জামিই সগীর ৪২৯৪। কানযুল উম্মাল ৩৫২৭৭। লালী মাসনুআহ্ ২: ১২৩। আল আস্সারুল মারফুআহ্ ৪৩০। কিতাবুল মাউযূআত, ইবনুল জ্বাওযী ৩:১। কিতাবুল উম্মাহ।
(৫৭) যুআফায়ে ইবনু হিব্বান। কিতাবুল উম্মাহ্, আবূ আশ্-শায়খ। কিতাবুল মাউযূআত ৩ঃ ৩। আসরারুল মারফুআহ্ ২০০, ৪৩০। তাযকিরাতুল মাউযুআত, কইসারানী ৯৬৬।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিন ছাড়ানোর এক বিস্ময়কর ঘটনা

📄 জিন ছাড়ানোর এক বিস্ময়কর ঘটনা


বর্ণনায় ইমাম ইবনুল জাওযী, (রহঃ) এক ত্বালিবে ইলম্ (মাদরাসা-ছাত্র) সফর করছিল। রাস্তায় একটি লোক তার সহযাত্রী হল। যেতে যেতে লোকটি তার গন্তব্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে ত্বালিবে ইল্মকে বলল, 'তোমার উপর আমার একটা হক আছে। আমি জ্বিন। তোমাকে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে।'

জ্বিন বলল, 'তুমি অমুকজনের বাড়িতে গেলে অনেক মুরগির মধ্যে একটা মোরগও দেখতে পাবে। তোমার কাজ হল, মোরগের মালিকের সাথে কথা বলে মোরগটা কিনে নেওয়া। তারপর সেটাকে যবাহ্ করে ফেলা।'

তালিবে ইলম্ তখন বলল, 'আচ্ছা ভাই, তোমাকেণ্ড আমার একটা উপকার করতে হবে।'

জ্বিন বলল, 'কী?' তালিবে ইলম্ বলল, 'শয়তান যখন কোনও মানুষকে ধরে এবং ছাড়তে না-চায়, ঝাড়ফুঁক প্রভৃতি কোনও কাজে না আসে এবং মানুষকে পেরেশান করে দেয়, তখন তার চিকিৎসা কীভাবে করতে হবে?'

জ্বিন বলল, 'ছোট লেজযুক্ত শিংওয়ালা হরিণের চামড়া ছাড়িয়ে জ্বিনে ধরা মানুষের দুইহাতের দু'টি আঙুল শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। তারপর ‘স্থল-সুদাব’ { سُدَابُ بَرِى } এর তেল বের করে তার নাকের ডানছিদ্রে চারবার ও বামছিদ্রে তিনবার দিলে সেই জ্বিন মরে যাবে। এবং অন্য কোনও জ্বিনও তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।'

তালিবে ইলম্ নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে নির্দিষ্ট বাড়িতে গেল। তো জানতে পারল যে, সেই বাড়িতে একটি মোরগ আছে। বাড়িওয়ালা তার মোরগ বেচতে রাজি হল না। শেষকালে কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে তালিবে ইলম্ মোরগটা কিনে নিল। এমন সময় সেই জ্বিন দূর থেকে তালিবে ইল্মকে নিজের আকৃতি দেখাল। এবং ইশারায় মোরগটাকে যবাহ করে দিতে বলল। (তালিবে ইলম্ সেটা যবাহ্ করে দিল।) অমনি সেই বাড়ি থেকে পুরুষ ও মহিলারা বের হয়ে এসে তালিবে ইল্মকে মারতে উদ্যত হল। এবং বলল, 'তুমি জাদুকর।'

তালিবে ইলম্ বলল, 'আমি জাদুকর নই।' তারা বলল,' যেই তুমি মোরগটা যবাহ্ করেছ, অমনি আমাদের মেয়ের উপর জ্বিন এসে হামলা করেছে।'
তালিবে ইলম্ তখন তাদেরকে ছোট লেজযুক্ত শিংওয়ালা হরিণের একটা চামড়া ও স্থল সুদাবের তেল এনে দিতে বলল। তারা সেগুলো নিয়ে এল জ্বিনটা চেঁচিয়ে উঠল। সে বলল, 'আমি কি তোমাকে এ কাজ খোদ আমার বিরুদ্ধে করার জন্য শিখিয়েছি!'

ত্বালিবে ইলম্ তার নাকে সেই তেলের ফোটা দিতেই জ্বিনটা মরে গেল। মেয়েটি সুস্থ হয়ে উঠল। এবং তারপর থেকে কোনও জ্বিন শয়তান তার কাছে আসেনি। (৫৮)

টিকাঃ
(৫৮) কিতাবুল আরাইস্, ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ)।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ইবলীসও হার মানে যে অসীফার বরকতে

📄 ইবলীসও হার মানে যে অসীফার বরকতে


বর্ণনায় হযরত হিশাম বিন উরওয়াহ্ (রহঃ) হযরত উমর বিন আবদুল আযীয (রহঃ) খলীফা হওয়ার আগে একবার আমার পিতা হযরত উরওয়াহ্ বিন যুবাইর (রাঃ)-এর কাছে এসে বলেন- 'গতরাতে আমি এক বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখেছি। আমি আমার বাড়ির ছাদে বিছানায় শুয়েছিলাম। এমন সময় রাস্তায় দুম্দাম আওয়াজ শুনতে পেয়ে নীচের দিকে ঝুঁকলাম। দেখতে পেলাম, ওখানে শয়তানরা নামছিল। শেষ পর্যন্ত ওরা আমার বাড়ির পিছনে ফাঁকা জায়গায় জমা হল। তারপর ইবলীস এল। সে এসে চিৎকার করে বলল, কে আমার কাছে উরওয়াহ বিন যুবাইর ((রহঃ)) কে এনে হাজির করবে?' তাদের মধ্যে একদল বলল, 'আমরা ধরে নিয়ে আসব।' সুতরাং তারা চলে গেল। এবং (কিছুক্ষণের মধ্যে) তারা ফিরে এসে বলল, 'আমরা ওকে একটুও কাবু করতে পারিনি। ইল্লীস তখন আগের চাইতেও বেশি জোরে চিৎকার করে বলল, কে আমার কাছে উরওয়াহ বিন যুবাইরকে ধরে আনবে। একদল শয়তান বলল, আমরা নিয়ে আসব। তারপর তারা চলে গেল। এবং যথেষ্ট সময় কেটে যাবার পর ফিরে এসে বলল, 'আমরাও ওকে কব্জা করতে পারিনি। ইবলীস তৃতীয়বার চেঁচিয়ে উঠল (এবং এত জোরে চেঁচাল যে,) আমি ভাবলাম, জমিন হয়তো ফেঁটে গেছে। 'কে আমার কাছে উরওয়াহ্ বিন যুবাইরকে ধরে আনবে?' আরও একদল শয়তান উঠে রওয়ানা দিল। দীর্ঘক্ষণ পর সেই দলটা ফিরে এল। বলল, 'আমাদের ছলাকলাও ওর কাছে খাটেনি। ওকে আমরাও কজা করতে পারিনি।' ইবলীস তখন নারাজ হয়ে চলে গেল। সেই জ্বিনরাও তার পিছনে পিছনে গেল।
হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ)-এর মুখে একথা শোনার পর হযরত উরওয়াহ্ বিন যুবাইর বললেন- 'আমার পিতা হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) বলেছেন- আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে শুনেছি- যে ব্যক্তি রাত ও দিনের সূচনায় (সকাল ও সন্ধ্যায়) এই দুআটি পড়বে, আল্লাহ্ তাকে ইবলীস ও তার বাহিনীর থেকে হিফাযতে রাখবেনঃ
بِسْمِ اللهِ ذِي الشَّانِ عَظِيمِ الْبُرْهَانِ شَدِيدِ السُّلْطَانِ مَا شَاءَ اللَّهُ مَا كَانَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ -
(দুআটির বাংলা উচ্চারণ) বিস্মিল্লাহি যিশ্ শান, আযীমিল বুরহান, হাদীদিস্ সুলতান, মা শা আল্লাহু মা কানা আউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্বান। (৫৯)

টিকাঃ
(৫৯) কানযুল উম্মাল। তারীখে হাকিম। মুস্তাদুল ফিরদাউস, দাউলামী। তারীখে ইবনু আসাকির।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 শয়তানকে জব্দ করার আমল

📄 শয়তানকে জব্দ করার আমল


বর্ণনায় হযরত উরওয়াহ্ (রহঃ) বিন যুবাইর (রাঃ) একবার আমি একাকী নবীজীর মসজিদে রোদের মধ্যে বসেছিলাম। এমন সময় এক আগন্তুক এসে বলল, 'আস্সালামু আলাইকা ইয়ান্নায় যুবাইর (হে যুবাইরের পুত্র, আপনাকে সালাম)!'
আমি ডাইনে-বাঁমে তাকালাম। কোনও কিছুই নজরে পড়ল না। আমি তার সালামের জবাব দিলাম বটে কিন্তু আমার লোম খাড়া হয়ে গেল।
সে বলল, 'আপনি ঘাবড়াবেন না। আমি অদৃশ্য অঞ্চলের বাসিন্দা। আপনার কাছে আমি এসেছি একটা বিষয় বলতে এবং একটা বিষয় জানতে। - আমি ইবলীসের সাথে তিনদিন যাবৎ ছিলাম। সে এক কালো চেহারা ও নীল চোখওয়ালা শয়তানকে (একদিন) সন্ধ্যাবেলায় বলছিল, 'তুমি ওই মানুষটার ব্যাপারে কী করলে?' শয়তানটা জবাব দিল, 'আমি ওকে কাবু করতে পারিনি। কেননা, ও সকাল-সন্ধ্যায় একটা 'কালাম' পড়ে।' তৃতীয় দিনে সেই শয়তানকে আমি জিজ্ঞাসা করি, 'ইবলীস তোমাকে কার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছিল?' সে বলে ও আমাকে উরওয়াহ্ বিন যুবাইরের বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করছিল যে, আমি ওকে অপহরণ করার কাজে কতটা এগিয়েছি। কিন্তু উরওয়াহ্ বিন যুবাইর সকালে ও সন্ধ্যায় এমন এক কালাম পড়ে, যার কারণে আমি ওকে অপহরণ করতে সক্ষম হইনি।'
তাই আমি আপনার কাছে জানতে এসেছি যে, আপনি সকালে ও সন্ধ্যায় কী পড়েন, বলুন।'
হযরত উরওয়াহ্ (রহঃ) বলেন, 'আমি পড়ি এই দুআটি-
أمنتُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَاعْتَصَمُتُ بِهِ وَكَفَرْتُ بِالطَّاغُوتِ وَاسْتَمْسَكُتُ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى الَّتِى لَا انْفِصَامَ لَهَا إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ -
(অনুবাদ) আমি ঈমান এনেছি অনন্ত মহান আল্লাহর প্রতি ও তাঁকে অবলম্বন করছি দৃঢ়ভাবে। এবং অস্বীকার করছি আল্লাহবিরোধী সকল কিছুকেই। আর ধারণ করছি মজবুত রশি, যা ছিন্ন হয় না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত। (৬০)

টিকাঃ
(৬০) দীনূরী, মাজালিস। ইবনু আসাকির, তারীখ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00