📄 ‘লা হাওলা অলা ক্বুউওয়াতা’র কার্যকরিতা
(হাদীস) হযরত আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
يَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : قُلْ لا مَّتِكَ يَقُولُو : لَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِا
لِلَّهِ عَشَرًا عِنْدَ الصُّبْحِ وَعَشَرًا عِنْدَ الْمَسَاءِ وَعَشَرًا عِنْدَ النَّوْمِ يُدْفَعُ عَنْهُمْ عِنْدَ النَّوْمِ يَلْوَى الدُّنْيَا وَ عِنْدَ الْمَسَاءِ مَكَانِدِ الشَّيْطَانِ وَعِنْدَ الصُّبْحِ أَسُوا غَضَبِي
অনন্ত মহান মর্যাদাবান আল্লাহ বলেছেন, (হে নবী!) আপনার উম্মতবর্গকে বলে দিন-তারা যেন সকালে, সন্ধ্যায় ও (রাতে) শোবার সময় দশবার করে লা-হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ে। তাহলে ঘুমানোর সময় তাদের থেকে দুনিয়ার বিপদাপদ সরিয়ে দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় শয়তানী চক্রান্ত থেকে মুক্ত রাখা হবে। এবং সকালে আমার কঠোর ক্রোধ নির্বাপিত হয়ে যাবে। (৫১)
টিকাঃ
(৫১) মুসনাদ আল্ ফিরদাউস ৫ঃ ২৪৮। যাহরুল ফিরদাউস ৪: ২৬৪। জামিউল জাওয়ামিই ১ঃ ১০০৭। কানযুল উম্মাল ৩৬০৭। আতহাফুস্ সুন্নিয়াহ্ ৬৬।
📄 শয়তানদের থেকে সুরক্ষিত তিন প্রকার ব্যক্তি
(হাদীস) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
ثَلَاثَةٌ مَعْصُومُونَ مِنْ شَرِ إِبْلِيسَ وَجُنُودِهِ : الذَّاكِرُونَ اللَّهَ كَثِيرًا باللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْمُسْتَغْفِرُونَ بِالْأَسْحَارِ وَالْبَاكُونَ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
তিন প্রকার মানুষ ইবলীস ও তার দলবলের অনিষ্ট হতে মুক্ত থাকবে-১। রাতে দিনে আল্লাহকে অধিক স্মরণকারীগণ, ২। জাদুর গুনাহ্ থেকে তাওবাকারীগণ এবং ৩। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীগণ। (৫২)
টিকাঃ
(৫২) দাইলামী। কানযুল উম্মাল ৪৩৩৪১।
📄 সাদা মোরগের বরকত
(হাদীস) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
اتَّخِذا الديك الابيض فَإِنَّ دَارًا فِيهَا دِيكًا أَبْيَضُ لَا يَقْرُبُهَا شَيْطَانُ وَلَا سَاحِرٌ وَلَا الدُّورُ حَولَهَا
তোমরা সাদা মোরগ রাখবে। কেননা যে বাড়িতে সাদা মোরগ থাকে, তার কাছে না শয়তান ঘেঁষতে পারে আর না জাদুকর। এমনকী তার (সাদা মোরগ বাড়ির) আশেপাশের বাড়িতেও শয়তান (ও জাদুকার) যায় না। (৫৩)
(হাদীস) হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الديك يؤذن يا لصلوة من اتَّخَذَ دِيكًا أَبْيَضَ حَفِظَ مِنْ ثَلَاثَةٍ مِنْ شَرِّ مَحَل شَيْطَانٍ وَسَاحِرٍ وَكَاهِن .
মোরগ নামাযের জন্য আযান দেয়। যে ব্যক্তি সাদা মোরগ রাখে, তাকে তিনটি জিনিস থেকে হিফাযত করা হয়- শয়তানের অনিষ্ট থেকে, জাদুকরের অনিষ্ট থেকে এবং জ্যোতিষীর অনিষ্ট থেকে। (৫৪)
(হাদীস) হযরত আবূ যায়েদ আনসারী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الديك الأبيض صديقي وَصَدِيقُ صَدِيقِي يَحْرُسُ دَارَ صَاحِبِهِ وَسَبْعَ دُورٍ حَوْلَهَا
সাদা মোরগ আমার বন্ধু এবং আমার বন্ধুরও বন্ধু। এ আপন মনিবের বাড়ি হিফাযত করে এবং হিফাযত করে তার আশেপাশের সাতটি বাড়িও। (৫৫)
(হাদীস) হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
الديك الابيض الافرق حَبِيبِي وَحَبِيبُ حَبِيبِي جِبْرِيلُ يَحْرُسُ بَيْتَهُ وَسِتَّةَ عَشَرَ بَيْتًا مِنْ جِيرَانِهِ : أَرْبَعَةٌ عَنِ الْيَمِينِ وَأَرْبَعَةٌ عَنِ الشِّمَالِ وَأَرْبَعَةٌ مِنْ قُدَّامِهِ وَأَرْبَعَةً مِنْ خَلْفِهِ -
ঝুঁটিওয়ালা সাদা মোরগ আমার বন্ধু এবং আমার বন্ধু জিব্রাঈলেরও বন্ধু। এ (ঝুঁটিওয়ালা সাদা মোরগ) নিজের বাড়ির হিফাযত করে এবং সেই সাথে হিফাযত করে আপন প্রতিবেশির ষোলোটি ঘরও-হিফাযত করে- চারটি ডানদিক থেকে, চারটি বামদিক থেকে, চারটি সামনে থেকে এবং চারটি পিছন থেকে। (৫৬)
(হাদীস) হযরত ইবনু উমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
لَا تَسُبُّوا الدِّيكَ الْأَبْيَضَ فَإِنَّهُ صَدِيقِي وَأَنَا صَدِيقَهُ وَعَدُوهُ عَدُوِّى وَإِنَّهُ لَيَطْرُدُ مَدَى صَوْتِهِ مِنَ الْجِنِّ -
সাদা মোরগকে তোমরা ভর্ৎসনা করো না। ও আমার বন্ধু। আমিও ওর বন্ধু। ওর যে শত্রু সে আমারও শত্রু। ওর আওয়াজ যতদূর পৌঁছায়, ততদূর পর্যন্ত ও জ্বিনকে তাড়িয়ে দেয়। (৫৭)
টিকাঃ
(৫৩) মুউজামে আওসাতু, তবারানী। আল্ সদীক ফী আখবারিদ্ দীক, সুয়ূতী। মাজমাউয যাওয়াইদ ৫: ১১৭। আল্ লালী আল মাসনূআহ্ ২: ১৪২।
(৫৪) শুআবুল ঈমান, বায়হাকী। জামিই সগীর ৪২৯৫। কানযুল উম্মাল ৩৫২৮৮। তাক্বিরাতুল মাউযুআত, তাহির পাটনাবী। আল্ আসরার আল্ মারফুআহ্ ৪৩১।
(৫৫) মুস্লাদে হারিস বিন উসামাহ্। কাশফুল খিফা ১৩২৩। জামিই সগীর ৪২৯৪। কানযুল উম্মাল ৩৫২৭৭। লালী মাসনুআহ্ ২: ১২৩। আল আস্সারুল মারফুআহ্ ৪৩০। কিতাবুল মাউযূআত, ইবনুল জ্বাওযী ৩:১। কিতাবুল উম্মাহ।
(৫৭) যুআফায়ে ইবনু হিব্বান। কিতাবুল উম্মাহ্, আবূ আশ্-শায়খ। কিতাবুল মাউযূআত ৩ঃ ৩। আসরারুল মারফুআহ্ ২০০, ৪৩০। তাযকিরাতুল মাউযুআত, কইসারানী ৯৬৬।
📄 জিন ছাড়ানোর এক বিস্ময়কর ঘটনা
বর্ণনায় ইমাম ইবনুল জাওযী, (রহঃ) এক ত্বালিবে ইলম্ (মাদরাসা-ছাত্র) সফর করছিল। রাস্তায় একটি লোক তার সহযাত্রী হল। যেতে যেতে লোকটি তার গন্তব্যস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে ত্বালিবে ইল্মকে বলল, 'তোমার উপর আমার একটা হক আছে। আমি জ্বিন। তোমাকে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে।'
জ্বিন বলল, 'তুমি অমুকজনের বাড়িতে গেলে অনেক মুরগির মধ্যে একটা মোরগও দেখতে পাবে। তোমার কাজ হল, মোরগের মালিকের সাথে কথা বলে মোরগটা কিনে নেওয়া। তারপর সেটাকে যবাহ্ করে ফেলা।'
তালিবে ইলম্ তখন বলল, 'আচ্ছা ভাই, তোমাকেণ্ড আমার একটা উপকার করতে হবে।'
জ্বিন বলল, 'কী?' তালিবে ইলম্ বলল, 'শয়তান যখন কোনও মানুষকে ধরে এবং ছাড়তে না-চায়, ঝাড়ফুঁক প্রভৃতি কোনও কাজে না আসে এবং মানুষকে পেরেশান করে দেয়, তখন তার চিকিৎসা কীভাবে করতে হবে?'
জ্বিন বলল, 'ছোট লেজযুক্ত শিংওয়ালা হরিণের চামড়া ছাড়িয়ে জ্বিনে ধরা মানুষের দুইহাতের দু'টি আঙুল শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। তারপর ‘স্থল-সুদাব’ { سُدَابُ بَرِى } এর তেল বের করে তার নাকের ডানছিদ্রে চারবার ও বামছিদ্রে তিনবার দিলে সেই জ্বিন মরে যাবে। এবং অন্য কোনও জ্বিনও তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।'
তালিবে ইলম্ নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে নির্দিষ্ট বাড়িতে গেল। তো জানতে পারল যে, সেই বাড়িতে একটি মোরগ আছে। বাড়িওয়ালা তার মোরগ বেচতে রাজি হল না। শেষকালে কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে তালিবে ইলম্ মোরগটা কিনে নিল। এমন সময় সেই জ্বিন দূর থেকে তালিবে ইল্মকে নিজের আকৃতি দেখাল। এবং ইশারায় মোরগটাকে যবাহ করে দিতে বলল। (তালিবে ইলম্ সেটা যবাহ্ করে দিল।) অমনি সেই বাড়ি থেকে পুরুষ ও মহিলারা বের হয়ে এসে তালিবে ইল্মকে মারতে উদ্যত হল। এবং বলল, 'তুমি জাদুকর।'
তালিবে ইলম্ বলল, 'আমি জাদুকর নই।' তারা বলল,' যেই তুমি মোরগটা যবাহ্ করেছ, অমনি আমাদের মেয়ের উপর জ্বিন এসে হামলা করেছে।'
তালিবে ইলম্ তখন তাদেরকে ছোট লেজযুক্ত শিংওয়ালা হরিণের একটা চামড়া ও স্থল সুদাবের তেল এনে দিতে বলল। তারা সেগুলো নিয়ে এল জ্বিনটা চেঁচিয়ে উঠল। সে বলল, 'আমি কি তোমাকে এ কাজ খোদ আমার বিরুদ্ধে করার জন্য শিখিয়েছি!'
ত্বালিবে ইলম্ তার নাকে সেই তেলের ফোটা দিতেই জ্বিনটা মরে গেল। মেয়েটি সুস্থ হয়ে উঠল। এবং তারপর থেকে কোনও জ্বিন শয়তান তার কাছে আসেনি। (৫৮)
টিকাঃ
(৫৮) কিতাবুল আরাইস্, ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ)।