📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ‘বিসমিল্লাহ্’র মোহর

📄 ‘বিসমিল্লাহ্’র মোহর


হযরত সুফ্য়ান বিন সালীম (রহঃ) বলেছেনঃ জ্বিনরা মানুষের জামা-কাপড় ব্যবহার করে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনও কাপড় তুলবে বা রাখবে, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। কেননা (জ্বিনদের ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্য) বিশেষ মোহর হল 'আল্লাহর নাম'। (৪৮)

টিকাঃ
(৪৮) কিতাবুল উয্যাহ্, আবূ আশ্-শায়খ।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ধূর্ত জিনের তদবীর

📄 ধূর্ত জিনের তদবীর


(হাদীস) হযরত খালিদ বিন অলীদ (রাঃ)-এর নিবেদনঃ হে আল্লাহর রসূল (সাঃ)! এক ধূর্ত জ্বিন আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে।' জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, 'তুমি এই দু'আটি পড়বে-
أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بِرِّ وَلَا فَاجِرٌ مِن شَرِّ مَا ذَرَا فِي الْأَرْضِ وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِي السَّمَاءِ وَمَا يَنزِلُ مِنْهَا وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ -
হযরত খালিদ বিন অলীদ বলেন- আমি ওই আমল করতে আল্লাহ তাআলা সেই জ্বিনকে আমার থেকে দূর করে দেন। (৪৯)

টিকাঃ
(৪৯) দালায়িলুন্ নুবুওয়ত ৭ঃ ৯৬। মুস্নাদে আহমাদ ৩ঃ ৪১৯। কিতাবুস্ সুন্নাহ্, ইবনু আবী আসিম ১ঃ ১৬৪। তাজুরীদুত তাম্হীদ, ইবনু আবদুল বার ১৭৭।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 জিনদের উদ্দেশে নবীজীর (সাঃ) সতর্ক বার্তা

📄 জিনদের উদ্দেশে নবীজীর (সাঃ) সতর্ক বার্তা


হযরত আবূ দুজানাহ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে অনুযোগ পেশ করি- হে আল্লাহর রসূল (সাঃ)! আমি (রাতে) নিজের বিছানায় শুয়ে থাকার সময় যাঁতা ঘোরার শব্দ পাই এবং মৌমাছির ভনভনানিও শুনতে পাই। আর ভয়ভীতির মধ্যে মাথা তুললে একটা কালো ছায়া আমার নজরে পড়ে। ছায়াটা বড় হতে হতে আমার বাড়ির উঠানে ছড়িয়ে পড়ে। তার পর আমি তার দিকে ঝুঁকি এবং তার গায়ে হাত দিই। মনে হয় গা শজারুর মতো। সে আমার দিকে আগুনের গোলা ছোঁড়ে। আমার মনে হয়, ও আমাকেও জ্বালিয়ে দেবে এবং আমার ঘরবাড়িও জ্বালিয়ে দেবে।'

রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন- 'তোমার বাড়িতে অবস্থানকারী (জ্বিন) দুষ্ট। হে আবু দুজানাহ! কাস্বা'র প্রভুর কসম! তোমার মতো ব্যক্তিকেও কি কষ্ট দেওয়া উচিত।' অতঃপর বলেন, 'আমার কাছে দোয়াত ও কলম নিয়ে এসো।' তাঁর কাছে কলম-দোয়াত পেশ করা হল। তিনি সেগুলি হযরত আলী (রাঃ)-কে দিয়ে বলেন, 'হে আবুল হাসান, লেখো।' হযরত আলী বললেন, 'কী লিখব?' নবীজী বললেন, 'লেখো-
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ هَذَا كِتَابٌ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ رَبِّ العلَمِينَ إِلَى مَنْ طَرَقَ الْبَابَ مِنَ الْعَمَّارِ وَالرِّوَارِ ، أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ لَنَا وَلَكُمْ فِي الْحَقِّ مَنْعَةٌ فَإِنْ شَكٍّ عَاشِقًا مُولِعًا أَوْ فَاجِرًا مُقْتَحِمًا أَوْزَاعِمًا حَقًّا مُبْطِلًا ، هَذَا كِتَابُ اللَّهِ يَنْطُقُ عَلَيْنَا وَعَلَيْكُم بِالْحَقِّ ، إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ وَرُسُلُنَا يَكْتُبُونَ مَا تَكْتُمُونَ ، أَتْرَكُوا صَاحِبَ كِتَابِي هَذَا وَانْطَلِقُوا إِلَى
عِبْدَةُ الأَصْنَامِ وَإِلَى مَنْ يَزْعُمُ أَنَّ مَعَ اللهِ إِلهُ آخَرَ ، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ كُلُّ شَيْ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ ، لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ تُغْلَبُونَ هُمْ لَا تُنصَرُونَ ، حم عسق تَفْرُقُ أَعْدَاءُ اللهِ وَبَلَغَتْ حُجَّةُ اللهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا يا اللهِ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

হযরত আবূ দুজানাহ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি ও (নবীজীর পক্ষ থেকে লিখিত সতর্কবার্তা)-টি জড়িয়ে বাড়ি নিয়ে যাই এবং মাথার নীচে রেখে নিজের বাড়িতে রাত কাটাই। রাতে এক চিৎকারকারীর চিৎকারে আমি জেগে উঠি। সে বলছিল-হে আবূ দুজানাহ! লাত ও উয্যার কসম! ওই 'কালিমা' আমাদের জ্বালিয়ে দিয়েছে। আপনাকে আপনার নবীর দোহাই দিয়ে বলছি, এই লেখাটি এখান থেকে সরিয়ে দিন। আর আমরা আপনাকে কষ্ট দেব না। আপনার পাড়া-প্রতিবেশীকেও না। এবং সেই স্থানেও (যাব না), যেখানে এই পবিত্র লিপি থাকবে।'

হযরত আবূ দুজানাহ বলেছেনঃ আমি জবাব দিলাম, 'আমাকে আমার রসূলের হকের কসম (যা আল্লাহ আমার উপর আবশ্যিক করেছেন)! আমি জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সঙ্গে পরামর্শ না করা পর্যন্ত এই লিপিটি এখান থেকে তুলব না।'

হযরত আবূ দুজানাহ্ বলেছেনঃ জ্বিনদের কান্নাকাটি ও চিৎকার-চেঁচামেচির ফলে রাতটা আমার কাছে খুব দীর্ঘ হয়ে গেল। ভোর হতে আমি রওয়ানা হলাম। ফজরের নামায নবীজীর পিছনে আদায় করলাম। তারপর জ্বিনদের থেকে যেসব শুনেছিলাম এবং আমি তাদের যাকিছু উত্তর দিয়েছিলাম সব নবীজীকে নিবেদন করলাম। তখন নবীজী বললেন- হে আবূ দুজানাহ! তুমি ও পবিত্র লিপিটি জ্বিনদের থেকে তুলে নাও। যিনি আমাকে সত্য সহকারে নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, সেই সত্তা (আল্লাহ)-র কসম! ওই জ্বিনদের কিয়ামত পর্যন্ত শান্তি হতে থাকবে। (৫০)

টিকাঃ
(৫০) বায়হাকী দালায়িলুন নুবুওয়ত ৭ঃ ১২০। তাযকিরাতুল মাউযু-আত, ইবনুল জাউযী ২১1। আল্ লালী আল্ মাসনুআহ্ ২ঃ ৩৪১।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 ‘লা হাওলা অলা ক্বুউওয়াতা’র কার্যকরিতা

📄 ‘লা হাওলা অলা ক্বুউওয়াতা’র কার্যকরিতা


(হাদীস) হযরত আবূ বকর সিদ্দিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
يَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : قُلْ لا مَّتِكَ يَقُولُو : لَا حَولَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِا
لِلَّهِ عَشَرًا عِنْدَ الصُّبْحِ وَعَشَرًا عِنْدَ الْمَسَاءِ وَعَشَرًا عِنْدَ النَّوْمِ يُدْفَعُ عَنْهُمْ عِنْدَ النَّوْمِ يَلْوَى الدُّنْيَا وَ عِنْدَ الْمَسَاءِ مَكَانِدِ الشَّيْطَانِ وَعِنْدَ الصُّبْحِ أَسُوا غَضَبِي
অনন্ত মহান মর্যাদাবান আল্লাহ বলেছেন, (হে নবী!) আপনার উম্মতবর্গকে বলে দিন-তারা যেন সকালে, সন্ধ্যায় ও (রাতে) শোবার সময় দশবার করে লা-হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ে। তাহলে ঘুমানোর সময় তাদের থেকে দুনিয়ার বিপদাপদ সরিয়ে দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় শয়তানী চক্রান্ত থেকে মুক্ত রাখা হবে। এবং সকালে আমার কঠোর ক্রোধ নির্বাপিত হয়ে যাবে। (৫১)

টিকাঃ
(৫১) মুসনাদ আল্ ফিরদাউস ৫ঃ ২৪৮। যাহরুল ফিরদাউস ৪: ২৬৪। জামিউল জাওয়ামিই ১ঃ ১০০৭। কানযুল উম্মাল ৩৬০৭। আতহাফুস্ সুন্নিয়াহ্ ৬৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00