📄 শয়তানের হামলা ও নবীজীর প্রতিহিংসা
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আবুত্ তাইয়াহ (রহঃ)! আব্দুর রহমান বিন হুবাইশ রহ, কে এমর্মে প্রশ্ন করা হয় যে, শয়তানরা যখন জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর হামলা করেছিল, তখন তিনি কীভাবে আত্মরক্ষা করেছিলেন? হযরত আবদুর রহমান উত্তর দেন, 'শয়তানরা পাহাড়-পর্বত ও উপত্যকা-প্রান্তর থেকে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর হামলা করেছিল। ওদের মধ্যে একটা শয়তানের হাতে আগুনের একটা মশাল ছিল। মশালধারী শয়তানের মতলব ছিল, মশালের আগুন দিয়ে নবীজীকে জ্বালিয়ে দেওয়া। এমন সময় নবীজীর কাছে হযরত জিব্রাঈল এসে নিবেদন করেন হে মুহাম্মদ (সাঃ)! আপনি পড়ুন। (৩৯)
وَاعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بِرُّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّمَا خَلَقَ وَذَرَا وَبَرَا وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمِنْ شَرِّمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَمِنْ شَرِّمَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمِنْ شَرِّمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ الَّيْلِ وَفِتَنِ النَّهَارِ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقُ يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَارَحْمَنُ -
রসূলুল্লাহ (সাঃ) ওই 'কালিমাত' পড়তে শয়তানের আগুন নিভে যায় এবং আল্লাহ তাআলা সেই শয়তানদের জ্বালিয়েও দেন। (৪০)
টিকাঃ
(৩৯) এই দু'আটি প্রায় আগেরটির মতোই। তাই অনুবাদ করা হল না। - অনুবাদক।
(৪০) দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, বায়হাকী ৭ঃ ৯৫। মুনসাদে আহমাদ ৩: ৪১৯। দালায়িল, আবু নুআইম ১৪ ৬০। আল্- আসমা অস্ সিফাত, বায়হাকী, হাদীস নং ২৫,১৮৪, ১৮৫। কানযুল উম্মাল ৫০১৮, সূত্র ইবনু আবী শাইবাহ্, বাযযার, হাসান বিন সুফইয়ান, প্রভৃতি।
📄 ‘আউযু বিল্লাহ্’র প্রভাব
(হাদীস) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
من قَالَ حِينَ يُصْبِحُ أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ أَجِيرَ مِنَ الشَّيْطَانِ حَتَّى يُمْسِيَ -
যে ব্যক্তি সকালে 'আউযু বিল্লাহিস্ সামীঈল্ আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজ্বীম' পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে শয়তান থেকে সুরক্ষিত রাখা হবে। (৪১)
টিকাঃ
(৪১) ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি অল্-লাইলাহ্, হাদীস নং ৪৯। দারিমী ২:৪৫৮। আল্ আদাবুল মুফরাদ, হাদীস ১২০১।
📄 হযরত খিযির ও ইলিয়াস (আঃ)-র শেষ কথা
(হাদীস) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
يَلْتَقِي الْخِضْرُ وَالْبَاسُ كُلَّ عَامٍ فِي الْمَوَاسِيمِ وَيَفْتَرِقَانِ عَنْ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ : بِسْمِ اللهِ مَا شَاءَ اللهُ لَا يَسْوقُ الْخَيْرَ إِلَّا اللَّهُ مَا كَانَ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللهِ بِسمِ اللهِ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا يَصْرِفُ السُّوءَ إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ -
হযরত খিযির (আঃ) ও হযরত ইলিয়াস (আঃ) উভয়ে প্রতিবছর হজ্জের মওসুমে সাক্ষাৎ করেন এবং উভয়ে বিদায় নেবার সময় বলেন-(বিসমিল্লাহি মা শা আল্লাহি থেকে শেষ পর্যন্ত যার অর্থ-) আল্লাহর নামে। আল্লাহ যা চান (তাই হয়)। মঙ্গল কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে আসে। যাবতীয় নিয়ামাতও আসে আল্লাহরই তরফ থেকে। আল্লাহ্ নামে। আল্লাহ যা চান (তাই-ই হয়)। বিপদাপদ দূর করতে পারেন কেবলই আল্লাহ! আল্লাহ্ যা যান (তাই-ই হয়)। শক্তি সামর্থ কারোরই নেই কেবল আল্লাহ ছাড়া।
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে পানিতে ডোবা, আগুনে পোড়া, চুরি হওয়া, শয়তানী বিপদে পড়া এবং শাসনকর্তার জুলুমের শিকার হওয়া ও সাপ-বিচ্ছুর কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখবেন। (৪১)
টিকাঃ
(৪১) ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়াওমি অল্-লাইলাহ্, হাদীস নং ৪৯। দারিমী ২:৪৫৮। আল্ আদাবুল মুফরাদ, হাদীস ১২০১।
📄 যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নিরাপদে থাকার উপায়
(হাদীস) হযরত আবদুর রহমান বিন গনাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
مَنْ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ وَيُثْنِي رِجْلَهُ مِنْ صَلوةِ الْمَغْرِبِ وَالصُّبْحِ لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِ وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ - عَشَرَ مَرَّاتٍ كُتِبَ لَهُ
يَكُلِّ وَحْدَةٍ عَشَرَ حَسَنَاتٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ عَشَرُ سَيِّنَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ
عشر درجات وَكَانَتْ لَهُ حِسْرزًا مِنْ كُلِّ مَكْرُوهِ وَحِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ الرحيم -
যে ব্যক্তি মাগরিব ও ফজরের নামাযের পর পা তোলার আগে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুল্ক অলাহুল হামদু বি ইয়াদিহিল খাইরু ইয়ূহয়ী অ ইয়ুমীতু অ'হুওয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর (৪৩) দশবার পড়বে, প্রত্যেকবার পড়ার দরুন তার দশটা নেকী হবে, দশটা গুনাহ মাফ হবে, দশটা মর্যাদা বেড়ে যাবে এবং সে প্রত্যেক বিপদাপদ ও অভিশপ্ত শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবে। (৪৪)
টিকাঃ
(৪৪) মুস্লাদে আহমদ। তারগীব অ তারহীব ১ঃ ৩০৭। মাজমাউয যাওয়াইদ ১০: ১০৭। কান্যুল উম্মাল ৩৫৩২। মিশকাত ৯৭৫,৯৭৬।