📄 সত্তর হাজার ফিরিশতাকে নিরাপত্তা রক্ষী করার উপায়
(হাদীস) হযরত আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলূল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
مَنْ تَعَوَّذَ بِاللهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَرَأَ أَخَرَ سُورَةِ الْحَشْرِ بَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يَطْرُدُونَ عَنْهُ شَيَاطِينُ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ إِنْ كَانَ لَيْلًا حَتَّى يُصْبِحَ وَإِنْ كَانَ نَهَارًا حَتَّى يُمْسِي .
যে ব্যক্তি তিনবার 'আউযূ বিল্লাহ'.... পড়ার পর সূরা আল-হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিস্তা মোতায়েন করে দেন, যারা তাকে জ্বিন ও মানুষরূপী শয়তানদের থেকে হিফাযত করে। রাতে. পড়লে সকাল পর্যন্ত এবং দিনে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিফাযত করে। (৩৫)
টিকাঃ
(৩৫) ইবনু মারদাওয়াহ্। আদ্-দুররুল মানসুর ৬: ৩০২।
📄 সূরা হাশরের শেষাংশের কার্যকরিতা
আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর বাড়িতে খেজুর শুকানোর জন্য আলাদা একটি জায়গা ছিল। তিনি সেখান থেকে খেজুর কমতে দেখে এক রাতে পাহারায় থাকেন। সেই রাতে একজন লোককে সেখানে আসতে দেখেন। তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কে?' সে বলে, 'আমি একজন পুরুষ জ্বিন। এই ঘরে আমার আসার উদ্দেশ্য, আমাদের কাছে খাবার মতো কিছু নেই। তাই আমরা আপনার খেজুর নিচ্ছি। আপনার জন্য আল্লাহ এতে কম করবেন না।' হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) বলেন, 'যদি তুমি (নিজেকে জ্বিন বলার বিষয়ে) সাচ্চা হও, তবে তোমার হাত আমাকে ধরিয়ে দাও।' সে নিজের হাত ধরিয়ে দিল। হযরত দেখলেন, সেটা ছিল কুকুরের পায়ের মতো লোমযুক্ত। তো হযরত আবু আইয়ুব (রাঃ) বলেন, 'তুমি আমার যতটা খেজুর এর আগে নিয়েছ, সব মাফ করে দিলাম। এখন তুমি সেই সেরা আমলটি বাতলে দাও, যার মাধ্যমে মানুষ জ্বিনের অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।' জ্বিনটা বলে, 'তা হল সূরাহ্ আল্-হাশরের শেষ আয়াত। (৩৬)
টিকাঃ
(৩৬) ইবনু মারদাওয়াহ।
📄 সূরা ইখলাসের উপকারিতা
(হাদীস) হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
مَنْ صَلَّى صَلوةَ الْغَدَاةِ ثُمَّ لَمْ يَتَكَلَّمُ حَتَّى يُقَرأ (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) عشر مَرَّاتٍ لَمْ يُدْرِكُهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ذَنْبٌ وَأَجِيْرٌ مِنَ الشَّيْطَانِ -
যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করার পর কোনও কথা না বলে দশবার সূরা ইহ্লাস (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ) পড়বে, সে ওই দিন কোনও বিপদ-আপদে পড়বে না এবং শয়তানের থেকেও নিরাপদে থাকবে। (৩৭)
টিকাঃ
(৩৭) দুররুল মানসুর ৪:৪১৪। কানযুল উম্মাল, হাদীস ২৫৪০। ইবনু আসাকির।
📄 হযরত জিবরাঈলের (আঃ) অসীফা
হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ যে রাতে জ্বিনদের একটি দল রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে হাজির হয়, আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। একদল জ্বিন আগুনের গোলা নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর হামলা করতে উদ্যত হলে তাঁর কাছে হযরত জিবরাঈল (আঃ) হাজির হয়ে নিবেদন করেন, 'হে মুহাম্মদ (সাঃ)! আমি কি আপনাকে এমন 'কালিমা' বলে দেব না, যা পড়লে ওদের আগুনের গোলা নিভে যাবে এবং ওরা মাথা মুখ গুঁজে পড়ে যাবে?- আপনি পড়ুনঃ
أعُوذُ بِوَجْهِ اللهِ الْكَرِيمِ وَكَلِمَاتِهِ التَّامَّةِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بِرُّ وَلَا فَاجِرُ مِنْ شَرِّمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَ مِنْ شَرِّ مَا ذراً فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَفِتَنِ النَّهَارِ وَمِنْ طَوَارِقِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِلَّا طَارِفًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ
(ভাবানুবাদ) আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি আল্লাহর মহত্ত্ব মাহাত্ম্য ও তাঁর পরিপূর্ণ বাণী সহকারে, যে বাণীর চেয়ে অগ্রবর্তী হতে পারে না আসমান থেকে পতিত কিংবা আসমানের দিকে উত্থিত কোনও বিপদাপদ ও ভালো মন্দ এবং (আশ্রয় প্রার্থনা করছি) সে সবের অনিষ্ট থেকে, যা জমিনে প্রবেশ করে এবং জমিন থেকে বের হয় এবং দিন ও রাতের ফিতনার অনিষ্ট থেকে ও রাত দিনের মঙ্গল আনয়ণকারী ছাড়া অমঙ্গল আনয়ণকারীদের অনিষ্ট থেকে। হে পরম দয়াবান। (৩৮)
টিকাঃ
(৩৮) বুখারী ৬: ৭১; ৯ঃ ১২৫। ইবনু আসাকির ১: ৪০৪। দালায়িলুন্ নুবুওয়ত, আবু নুআইম ১:৬০।