📄 শয়তানের সিংহাসন
বর্ণনায় আবুল আম্মার আব্দীঃএক ব্যক্তি রাতের বেলা কুফার উদ্দেশে রওনা হল। (যেতে যেতে পথের মাঝখানে সে দেখল) সিংহাসনের মতো একটি জিনিস তার সামনে এসে গেল। সেটার আশে-পাশে কিছু ভিড়ও ছিল, যা তাকে ঘিরে রেখেছিল। লোকটি দাঁড়িয়ে গেল। ব্যাপারটি কী দেখতে লাগল। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে সেই সিংহাসনে বসল। লোকটি শুনতে পেল, সিংহাসনে বসা ব্যক্তিটি বলল, 'উরওয়াহ্ বিন মুগীরাহর খবর কী? ভিড়ের ভিতর থেকে একজন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'ওকে আমি আপনার সামনে পেশ করব?' সিংহাসনারোহী বলল, 'এই মুহূর্তে হাজির করো।'
সে তখন মদীনা শরীফের দিকে মুখ করল। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে এসে বলল, 'উরওয়াহ্ উপর আমার কোনও ছলাকলা খাটেনি।' - 'কারণ?' - 'কারণ, উনি সকালে ও সন্ধ্যায় এমন একটি 'কালাম' পড়েন, যার জন্য ওঁর গায়ে হাত দেওয়া যায় না।'
এরপর সভা ভেঙে গেল। যে লোকটি কাছ থেকে দেখছিল, (কুফায় না গিয়ে) ঘরে ফিরে এল। সকালে সে একটি উট কিনে মদীনার উদ্দেশে রওনা হল। এক সময় মদীনায় পৌঁছেও গেল। তারপর (সাহাবী) হযরত উরওয়াহ বিন মুগীরাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে মুলাকাত করল। এবং তিনি সকাল-সন্ধ্যায় কী 'কালাম' পড়েন, তা জানতে চাইল। সেই সাথে তাঁর সামনে ঘটা (জ্বিন-শয়তানদের) ঘটনাও উল্লেখ করল।
তখন হযরত উরওয়াহ্ বিন মুগীরাহ্ (রাঃ) বললেন, আমি সকালে ও সন্ধ্যায় (তিনবার) এটি পড়ি।
امَنتُ بِاللهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْتُ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَاسْتَمْسَكُتُ بِا لْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ -
• আমি বিশ্বাস স্থাপন করছি আল্লাহ ও তাঁর একত্বের প্রতি; অস্বীকার করছি মূর্তি, জাদুকর ও আল্লাহ্ বিরোধী সব কিছুকে এবং অবলম্বন করছি মজবুত রশি (অর্থাৎ কোরআন, হাদীস তথা ইসলাম)-কে, যা ছিন্ন হয় না। আর আল্লাহই তো সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত। (১৭)
টিকাঃ
(১৭) আল্-হাওয়াতিফ, ইবনু আবিদ দুনইয়া (১৫৪), পৃষ্ঠা ১১২।
📄 এক মেয়ে জিনের ভয়ঙ্কর ঘটনা
বর্ণনায় হযরত আবদুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম (রহঃ) আশজা গোত্রের দু'জন লোক একবার তাদের এক আত্মীয়ের বিয়েতে শরীক হবার জন্য যাচ্ছিল। পথের মাঝখানে জায়গায় তাদের সামনে একজন মহিলা আসে। এবং বলে, তোমরা কী চাও। ওরা বলে, আমরা এক বিয়েতে উপঢৌকন দিতে যাচ্ছি।' মেয়েটি বলে, ' সে কথা আমার ভালোরকম জানা আছে। ফেরার পথে তোমরা আমার সাথে সাক্ষাৎ করে যাবে।'
সুতরাং ফেরার পথে উভয়ে মেয়েটির কাছে গেল। সে বলল, 'আমি তোমাদের পিছনে পিছনে যাব।' তখন তারা দু'টো উটের মধ্যে একটার উপর দু'জন সওয়ার হল এবং অন্য উটটাকে পিছনে পিছনে চালাতে লাগল। এভাবে যেতে যেতে একসময় তারা বালির এক টিলায় এসে পৌছল। সেই সময় মেয়েটি বলল, 'এখানে আমার একটু দরকার আছে।' তো ওরা তার জন্য উট বসিয়ে দিল। (মেয়েটি উট থেকে নেমে টিলার আড়ালে চলে গেল।) ওরা উভয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। মেয়েটির ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে দু'জনের মধ্যে একজন তার পায়ের দাগ ধরে ধরে খুঁজতে গেল। কিন্তু তারও ফিরতে দেরি হতে লাগল। তখন বাকি লোকটি তার সঙ্গীকে খুঁজতে বের হল। একজায়গায় গিয়ে সে (দূর থেকে) দেখতে পেল, সেই মেয়েটি তার সঙ্গীর পেটের উপর চড়ে বসে তার কলিজা বের করে চিবিয়ে খাচ্ছে। তা দেখে লোকটি ফিরে এল। এবং তার উটের পিঠে সওয়ার হয়ে নিজের রাস্তা ধরল। এমন সময় মেয়েটি তার সামনে এসে বলতে লাগল, 'তুমি এত তাড়াহুড়ো করছ কেন?' লোকটি বলল, 'তুমি কেন এত দেরি করলে?' মেয়েটি তখন লোকটিকে ধরল। লোকটি চিৎকার করে উঠল। মেয়েটি বলল, 'কী হল তুমি, চিৎকার করছ কেন?' লোকটি বলল, 'আমার সামনে এক নিষ্ঠুর প্রকৃতির অত্যাচারী বাদশাহ্ আছে।' মেয়েটি বলল, আমি তোমাকে একটি দু'আ বাতলে দিচ্ছি। তুমি যদি সেই দু'আ সহকারে প্রার্থনা করো, তবে তা সেই জালিমকে ধ্বংস করে দবে এবং তার থেকে তোমার হক আদায় করিয়ে দেবে।' লোকটি বলল,' সেই দু'আটি কী? মেয়েটি বলল, 'সেই দু'আটি হল এই-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَمَا أَظَلَّتْ ، وَرَبَّ الْأَرْضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ ، وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا أَذَرَّتْ ، وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ ، أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ تَأْخُذُ لِلْمَظْلُومِ مِنَ الظَّالِمِ حَقَّهُ فَخُذْلِى حَتَّى مِنْ فُلَانٍ فَإِنَّهُ ظَلَمَنِي
(ভাবানুবাদ) হে আল্লাহ! (আপনি তো) আসমান ও তার নিম্নস্থ যাবতীয় বস্তুর প্রভু। এবং পৃথিবী ও তার উপরিস্থ সকল কিছুরই পালনকর্তা। আর বায়ুমণ্ডল ও তাতে ভাসমান বস্তুসমূহের প্রতিপালক। এবং শয়তানদল ও তাদের দ্বারা পথভ্রষ্টদেরও পালনকর্তা। আপনি পরম উপকারী, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা তথা অতুলনীয় প্রতাপ ও মাহাত্ম্যের অধিকারী। আপনি তো অত্যাচারীর কাছ থেকে অত্যাচারিতের অধিকার আদায় করিয়ে দেন। সুতরাং অমুকের থেকে আমার হক আদায় করিয়ে দিন, কেননা, সে আমার উপর জুলুম করেছে।
লোকটি বলল, 'ওই দু'আটি তুমি ফের একবার আমাকে শোনাও।' মেয়েটি ফের একবার দু'আটি বলল। ফলে লোকটি তা মুখস্থ করে নিল। তারপর সে ওই মেয়ের বিরুদ্ধেই দু'আটি করল। এবং এভাবে বললঃ
اللَّهُمَّ أَنَّهَا ظَلَمَتْنِي وَأَكَلَتْ أَخِي
আল্লাহ গো! এই মেয়েটি আমার উপর জুলুম করেছে এবং আমিরু ভাইকে খেয়ে ফেলেছে।
অমনই আকাশ থেকে একটি আগুনের গোলা নেমে এল। এবং সেটা মেয়েটির লজ্জাস্থানের উপর পড়ল। ফলে মেয়েটির দেহ দুটুকরো হয়ে গেল। এবং দু'টো টুকরো দু'দিকে গিয়ে পড়ল। মেয়েটি ছিল মানুষখেকো মেয়ে জ্বিন। (১৮)
টিকাঃ
(১৮) মাকায়িদুশ শাইত্বান, ইবনু আবিদ দুনইয়া (৯), পৃষ্ঠা ২৯।
📄 জিনেন্দ আরেকটি খতরনাক ঘটনা
বর্ণনায় হযরত আবুল মুনযির (রহঃ) একবার আমরা হজ্জ করার পর, এক বড় পাহাড়ের গুহায় গিয়ে পৌঁছিই। যাত্রী (কাফেলা) দলের ধারণা, ওই গুহায় জ্বিনরা বাস করে। সেই সময় এক বয়স্ক মানুষকে (পাহাড়ী ঝর্ণার) পানির দিক থেকে আসতে দেখে আমি বলি, হে আবূ শামীর! এই পাহাড়ের বিষয়ে আপনার অভিমত কী? আপনি এই পাহাড়ে বিশেষ কিছু ঘটতে দেখেছেন? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, একবার আমি নিজের তীর-ধনুক নিয়ে ভয়ের চোটে এই পাহাড়ের উপরে গিয়ে উঠি। এবং পানির ঝর্ণার কাছে গাছের ডাল-পাতা দিয়ে একটি ঘর বানিয়ে তাতে বাস করতে লাগি। সেই সময় একদিন আমি হঠাৎ কিছু পাহাড়ি ছাগলকে আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখি। সেগুলো কোনও কিছুকে ভয় পাচ্ছিল না। সেগুলো এই ঝর্ণা থেকে পানি পান করল। তারপর এর আশেপাশে বসে গেল। যেগুলোর মধ্যে একটা মেষকে আমি তীর মারি। তীরটা তার বুকে গিয়ে লাগে। অমনই এক চিৎকারকারী সজোরে চিৎকার করে। ফলে পাহাড় থেকে ভয়ে সবাই পালিয়ে যায়। তখন এক শয়তান আমার সম্বন্ধে অপর শয়তানকে বলল, তুই ধ্বংস হ! ওকে খতম করে ফেলছিস না কেন?' দ্বিতীয় শয়তান বলল, ওকে খতম করার ক্ষমতা আমার নেই!' প্রথম শয়তান বলল, তুই ধ্বংস হ! ক্ষমতা নেই কেন? দ্বিতীয় শয়তান বলল, 'কারণ, ওই ব্যক্তি পাহাড়ে ওঠার সময় (কিংবা পাহাড়ে ঘর বাঁধার সময়) আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। (বর্ণনাকারী বৃদ্ধ বলছেন) একথা শোনার পর আমি নিশ্চিন্ত হই। (১৯)
টিকাঃ
(১৯) ইবনু আবিদ দুনইয়া, মাকায়িদুশ শাইত্বান (১৭), পৃষ্ঠা ৩৯।
📄 সূরা ফালাক-নাসের দ্বারা জিন ইনসানের থেকে সুরক্ষা
(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আবূ সাঈদ (রাঃ) জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) জ্বিন ও মানুষের বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। অবশেষে (কোরআন পাকের) সর্ব শেষ সূরাহ দু'টি অবতীর্ণ হতে তিনি ও দু'টি পড়তে শুরু করেন এবং বাকি দু'আগুলি ছেড়ে দেন। (২০)
টিকাঃ
(২০) সুনানু তিরমিযী, কিতাবুত্ ত্বিব্ব, বাব ১৬। সুনানু নাসায়ী, কিতাবুল ইস্তিআযাহ্, বাব ৩৭। সুনানু ইবনু মাজাহ্, কিতাবুত্ ত্বিব্ব, বাব ২৩। মিশকাত, হাদীস ৪৫৬৩। কান্যুল উম্মাল ১৮০৩৮। ফাল্গুল বারী ১০৪ ১৯৫। কিতাবুল আযকার, হাদীস ২৮৩।