📄 কোরআন পাকের প্রভাব
বর্ণনায় হযরত আবু খালিদ ওয়ালবী (রহঃ) একবার আমি স্ত্রী-পুত্র সমেত হযরত উমর (রাঃ)-এর দরবারে হাজির হবার উদ্দেশ্যে কাফেলা-রূপে যাত্রা শুরু করি। যেতে যেতে এক জায়গায় আমারা যাত্রা বিরতি করি। আমার পরিবার-পরিজনরা তখনও পিছনে ছিল। অথচ আমি সেখানে বাচ্চাদের শোরগোল শুনতে পাই। তখন আমি উচ্চস্বরে কোরআন পড়ি। ফলে উপর থেকে কোনও জিনিস নীচে পড়ার শব্দ পাই। জানতে চাই, 'তুমি কে?' সে বলে, 'শয়তানেরা আমাকে ধরেছিল এবং আমার সাথে খেল-তামাশা করছিল। আপনি সশব্দে কোরআন পড়তে ওরা আমাকে ছুঁড়ে দিয়ে পালিয়েছে। (১৪)
টিকাঃ
(১৪) ইবনু আবিদ দুনইয়া, মাকায়িদুশ শাইত্বান, রিওয়াইয়াত নং ২১, পৃষ্ঠা ৪২। আকامুল মারজ্বান, পৃষ্ঠা ৯৮।
📄 শয়তান সরানোর উপায়
(হাদীস) হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدُلُ عَشْرِ رِقَابِ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةٌ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَومَهُ ذَاكَ حَتَّى يُمْسِيَ -
যে ব্যক্তি দৈনিক একশ'বার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল্ মুল্ক অলাহুল হামদু অহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর পড়বে, তার দশজন ক্রীতদাস মুক্ত করার সওয়াব পাওনা হবে, একশ' নেকী লেখা হবে ও একশ' গুনাহ মুছে দেওয়া হবে; এবং এই কলিমা তাকে ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে হিফাযতে রাখবে। (১৫)
টিকাঃ
(১৫) সহীহ বুখারী, বাদউল খল্ক, বাব ১১; অদ দাঅয়াত, বাব ৬৫। সহীহ্ মুসলিম ফিয-যিকর, হাদীস নং ২৭। সুনানু তিরমিযী, ফিদ্ দাআয়াত, বাব ৫৯, ৬২। সুনানু ইবনু মাজাহ ফিদ্ দু'আ, বাব ১৪। মুআত্তা মালিক, হাদীস ২০। মুসনাদে আহমাদ ২: ৩০২, ৩৭৫; ৪ঃ ২২৭। তারগীব অ তারহীব ১ঃ ৪৫১। ফাতহুল বারী ১১৪ ২৯১। কানযুল উম্মাল ৩৭২১।
📄 শয়তানের সামনে ‘যিকরুল্লাহ্’র কেল্লা
(হাদীস) হযরত হারিস আশআরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
... الحَدِيثُ إِنَّ اللهَ تَعَالَى آمَرَ يَحْى بْنَ زَكَرِنَا بِخَمْسٍ كَلِمَاتٍ وَفِيهِ : وَأَمَرَكُمْ أَنْ تَذْكُرُوا اللهَ فَإِنَّ مَثَلَ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ خَرَجَ العدو في أثره سِرَاعًا حَتَّى أَتَى عَلَى حِصْنِ حَصِينٍ فَأَحْرَزَ نَفْسَهُ مِنْهُمْ ، كَذَالِكَ الْعَبْدُ لَا يَحْرُزُ نَفْسَهُ مِنَ الشَّيْطَانِ إِلَّا بِذِكْرِ اللَّهِ
আল্লাহ তা'আলা হযরত ইয়াহ্ইয়া বিন যাকারিয়া (আলাইহিমাস্ সালাম) কে পাঁচটি বিষয়ে হুকুম দিয়েছেন।... সেগুলোর মধ্যে একটি হল এই যে, তোমরা আল্লাহর যিকর করো। কেননা যিক্র ও যিকরকারীর দৃষ্টান্ত হল মজবুত কেল্লা ও শত্রুতাড়িত ব্যক্তির মতো-অর্থাৎ শত্রুতাড়িত ব্যক্তি যেমন মজবুত কেল্লায় আশ্রয় নিয়ে নিজেকে নিজে সুরক্ষিত করে, তেমনই কোনও মানুষ নিজেকে শয়তানের থেকে রক্ষা করতে পারে কেবলমাত্র আল্লাহর যিকরের-ই মাধ্যমে। (১৬)
টিকাঃ
(১৬) সুনানু তাফসীর, কিতাবুল আদব, বাব ৭৮,২৮৬৩। মুসতাদ্রক ১: ১১৭, ১১৮,২৩৬, ৪২১। মুসনাদে আহমাদ ৪: ১৩০, ২০২। ইবনু হাব্বান ১২২২, ১৫৫০। ত্ববারানী কাবীর ৩ঃ ৩২৪। কানযুল উম্মাল ৪৩৫৭৭। ইবনু খুযাইমাহ্ ৯৩০। কিতাবুশ্ শারীআহ্, আজারী ৮। দুররুল মানসুর ১: ১৮১। ইবনু কাসীর ১:৮৭। তাফসীর কুরতুবী ২ঃ ২০৯। জ্বামিউত্ তাহসীল লিল্ অলায়ী ১৬২, ৩৫২। শারহুস্ সুন্নাহ্ ১০ঃ ৪৯। তারগীব অ তারহীব ১:৩৬৬। তবাকাত ইবনু সাদ ৪ঃ৩ঃ ৭৬।
📄 শয়তানের সিংহাসন
বর্ণনায় আবুল আম্মার আব্দীঃএক ব্যক্তি রাতের বেলা কুফার উদ্দেশে রওনা হল। (যেতে যেতে পথের মাঝখানে সে দেখল) সিংহাসনের মতো একটি জিনিস তার সামনে এসে গেল। সেটার আশে-পাশে কিছু ভিড়ও ছিল, যা তাকে ঘিরে রেখেছিল। লোকটি দাঁড়িয়ে গেল। ব্যাপারটি কী দেখতে লাগল। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে সেই সিংহাসনে বসল। লোকটি শুনতে পেল, সিংহাসনে বসা ব্যক্তিটি বলল, 'উরওয়াহ্ বিন মুগীরাহর খবর কী? ভিড়ের ভিতর থেকে একজন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'ওকে আমি আপনার সামনে পেশ করব?' সিংহাসনারোহী বলল, 'এই মুহূর্তে হাজির করো।'
সে তখন মদীনা শরীফের দিকে মুখ করল। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে এসে বলল, 'উরওয়াহ্ উপর আমার কোনও ছলাকলা খাটেনি।' - 'কারণ?' - 'কারণ, উনি সকালে ও সন্ধ্যায় এমন একটি 'কালাম' পড়েন, যার জন্য ওঁর গায়ে হাত দেওয়া যায় না।'
এরপর সভা ভেঙে গেল। যে লোকটি কাছ থেকে দেখছিল, (কুফায় না গিয়ে) ঘরে ফিরে এল। সকালে সে একটি উট কিনে মদীনার উদ্দেশে রওনা হল। এক সময় মদীনায় পৌঁছেও গেল। তারপর (সাহাবী) হযরত উরওয়াহ বিন মুগীরাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে মুলাকাত করল। এবং তিনি সকাল-সন্ধ্যায় কী 'কালাম' পড়েন, তা জানতে চাইল। সেই সাথে তাঁর সামনে ঘটা (জ্বিন-শয়তানদের) ঘটনাও উল্লেখ করল।
তখন হযরত উরওয়াহ্ বিন মুগীরাহ্ (রাঃ) বললেন, আমি সকালে ও সন্ধ্যায় (তিনবার) এটি পড়ি।
امَنتُ بِاللهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْتُ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَاسْتَمْسَكُتُ بِا لْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ -
• আমি বিশ্বাস স্থাপন করছি আল্লাহ ও তাঁর একত্বের প্রতি; অস্বীকার করছি মূর্তি, জাদুকর ও আল্লাহ্ বিরোধী সব কিছুকে এবং অবলম্বন করছি মজবুত রশি (অর্থাৎ কোরআন, হাদীস তথা ইসলাম)-কে, যা ছিন্ন হয় না। আর আল্লাহই তো সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাত। (১৭)
টিকাঃ
(১৭) আল্-হাওয়াতিফ, ইবনু আবিদ দুনইয়া (১৫৪), পৃষ্ঠা ১১২।