📄 হযরত উমর (রাঃ) কর্তৃক শয়তানকে আছাড় মারা
বর্ণনায় হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে কোনও একজন কোথাও গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে শয়তানের সাক্ষাৎ হয়। এবং বেশ সংঘর্ষ হয়। শেষ পর্যন্ত নবীজীর সাহাবী শয়তানকে আছাড় মেরে ধরাশায়ী করে ফেলেন। শয়তান তখন বলে, 'আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এমন এক আশ্চর্যজনক কথা বলছি, যা আপনি পছন্দ করবেন।' তো সেই সাহাবী তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর সে কথা বলতে বললেন। কিন্তু শয়তান তখন বলল, 'না বলব না।' ফলে ফের মুকাবিলা হল। এবং নবীজীর সাহাবী তাকে ফের আছড়ে ফেললেন। শয়তান বলল, 'আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এমন জিনিস বলছি, যা আপনার পছন্দ হবে।' তো তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। এবং বললেন, 'বলো, কী কথা বলতে চাও।' সে বলল, 'না বলব না।' ফলে তৃতীয়বারেও মুকাবিলা হল। এবারেও নবীজীর সাহাবী তাকে আছড়ে ফেললেন এবং তার উপর চড়ে বসে তার আঙুল ধরে চিবুলেন। শয়তান তখন বলল, 'আমাকে ছেড়ে দিন।' সাহাবী বললেন, 'এবারে না বলা পর্যন্ত তোমাকে ছাড়ব না।' শয়তান তখন (নিরুপায় হয়ে) বলল, 'সূরা আল্ বাকারাহর প্রতিটি আয়াত এমন, যা পড়লে শয়তান পালিয়ে যায়। এবং যে ঘরে এই সূরাহ্ পড়া হয়, সে-ঘরে শয়তান ঢুকতে পারে না।;
(বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-কে তাঁর ছাত্রদের পক্ষ থেকে) প্রশ্ন করা হয়, হে আবূ আব্দুর রহমান! ওই সাহাবী কে ছিলেন? তিনি বলেন, 'হযরত উমর বিন খত্তাব (রাঃ) ছাড়া তোমরা অন্য কাউকে ভাবছ নাকি? (১১)
টিকাঃ
(১১) ইবনে আবিদ দুনইয়া, মাকায়িদুশ্ শায়ত্বান (৬৩), পৃষ্ঠা ৮৫। কিতাবুল গরীব, আবূ উবায়দ। দালায়িলুন নুবুওঅত ৭.৪ ১২৩। দালায়িলুন্ নুবুওঅত, আবূ নুআইম।
📄 শয়তানের ওষুধ দু’টি আয়াত
(হাদীস) হযরত নুমান বিন বশীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ اللهَ تَعَالَى كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَن يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ بالْفَى عَامٍ أُنْزِلَ مِنْهُ أَيَتَيْنِ خَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَلَا يُقْرَءَ إِن فِي دَارِ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرُبُهَا الشَّيْطَانُ
আল্লাহ তা'আলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দু'হাজার বছর আগে একটি গ্রন্থ লিপিবদ্ধ করেন, তা থেকে এমন দু'টি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন, যা দিয়ে সূরা আল্-বাকার সমাপ্ত করেছেন। যে বাড়িতে এই আয়াত দু'টি তিনরাত পড়া হবে, শয়তান তার কাছাকাছিও ঘেঁষতে পারবে না। ' (১২)
টিকাঃ
(১২) সুনানু তিরমিযী, সাওয়াবুল কোরআন, বাব ৪। সুনানু দাওরমী, ফাযায়িলুল্ কোরআন, বাব ১৪। মুসনাদে আহমাদ ৪: ২৭৪। জামিই সগীর, হাদীস নং ১৭৬৪। ফাইযুল কবীর ২ঃ ২৪৭। বুখারী ৯৪ ১৯৬। ত্বারারানী কাবীর ৭ঃ ৩৪২। মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৬ঃ ৩১২। দুররুল মানসুর ১:৩৭৮। কানুযুল উম্মাল ৫৮৩,২৫৪১। মিশকাত ২১৪৫, ৫৭০০। মুআলিমুত্ তানযীল, বাগবী ১ঃ ৩১৬। তাফসীর কুরতুবী ৩:৪৩৩। শারহুস সুন্নাহ্ ৪ : ৪৬৬। ত্ববারানী সগীর ১:৫৫। তারগীব অ তারহীব ২ঃ ৩৭২। তাফসীর ইবনু কাসীর ৪ঃ ২৩৪। আল আসা অস্-সিফাত ২৩২। কিতাবুল আলাল, ইবনু আবী হাতিম ১৬৭৮। কামিল ইবনু আলী ৭ঃ ২৪৯০।
📄 শয়তানের আরেকটি তদবীর
(হাদীস) হযরত আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
من قرأ حم غافر إلى قوله (إِلَيْهِ الْمَصِيرُ) وَآيَةَ الْكُرْسِي حِيْنَ يصبح حفظ بِهِمَا حَتَّى يُمْسِى وَمَنْ قَرَاهُمَا حِينَ يُمْسِي حُفِظَ بهِمَا حَتَّى يُصبح .
যে ব্যক্তি সকালে (সূরা) হা-মীম সাজদাহ্ (শুরু থেকে ইলাইহিল মাসীর'; পর্যন্ত) এবং আয়াতুল কুরসী পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই উভয় আয়াতের মাধ্যমে তাকে হিফাযত করা হবে। এবং যে ব্যক্তি সন্ধায় ও দু'টি তিলাওয়াত করবে, সকাল পর্যন্ত তাকে উভয়ের মাধ্যমে হিফাযত করা হবে। (১৩)
টিকাঃ
(১৩) সুনানু তিরমিযী, হাদীস নং ২৮৭৯। মিশকাত ২১৪৪। কানযুল উম্মাল ৩৫০২। দুররুল মানসুর ১ঃ ৩২৬; ৫: ২৪৪। আল্-আফ্ফার, নওবী ৭৯।
📄 কোরআন পাকের প্রভাব
বর্ণনায় হযরত আবু খালিদ ওয়ালবী (রহঃ) একবার আমি স্ত্রী-পুত্র সমেত হযরত উমর (রাঃ)-এর দরবারে হাজির হবার উদ্দেশ্যে কাফেলা-রূপে যাত্রা শুরু করি। যেতে যেতে এক জায়গায় আমারা যাত্রা বিরতি করি। আমার পরিবার-পরিজনরা তখনও পিছনে ছিল। অথচ আমি সেখানে বাচ্চাদের শোরগোল শুনতে পাই। তখন আমি উচ্চস্বরে কোরআন পড়ি। ফলে উপর থেকে কোনও জিনিস নীচে পড়ার শব্দ পাই। জানতে চাই, 'তুমি কে?' সে বলে, 'শয়তানেরা আমাকে ধরেছিল এবং আমার সাথে খেল-তামাশা করছিল। আপনি সশব্দে কোরআন পড়তে ওরা আমাকে ছুঁড়ে দিয়ে পালিয়েছে। (১৪)
টিকাঃ
(১৪) ইবনু আবিদ দুনইয়া, মাকায়িদুশ শাইত্বান, রিওয়াইয়াত নং ২১, পৃষ্ঠা ৪২। আকامুল মারজ্বান, পৃষ্ঠা ৯৮।