📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 চোর শয়তানদের থেকে সুরক্ষার উপায়

📄 চোর শয়তানদের থেকে সুরক্ষার উপায়


(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার আমাকে রমযানের যাকাত (ফিতরা-সামগ্রী) পাহারা দেবার কাজে নিযুক্ত করেন। সেই সময় (রাতে) আমার কাছে এক আগন্তুক এসে খাদ্যবস্তু নিয়ে মুঠোয় ভরতে শুরু করে। আমি তাকে ধরে ফেলে বলি, 'তোমাকে নবীজীর হাতে তুলে দেব।' সে বলে, 'আমি গরীব, আমার পরিবার-পোষ্য বেশি এবং আমি খুবই অভাবী।' ওকথা শুনে আমি তাকে ছেড়ে দিই। সকালে যখন আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হই, তিনি বলেন, 'গতরাতে তোমার কয়েদী কী করেছে?' আমি বলি, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমাকে তার প্রচণ্ড অভাব ও পোষ্য-পরিজনের কথা বলতে আমি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।' নবীজী বলেন, 'আল্লাহর কসম! ও মিথ্যা বলেছে। অতি সত্বর ও ফের আসবে।' কথাটি আমি মাথায় রাখলাম। এবং তার অপেক্ষায় থাকলাম। সে ফের এল। এবং মুঠো মুঠো খাদ্যশস্য ভরতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, 'এবার তোমাকে নবীজীর খেদমতে অবশ্যই পেশ করব।' সে বলল, 'আমাকে ছেড়ে দিন। আমি বড়ই অভাবী। এবং আমার পোষ্য অনেক বেশি। আর কক্ষণো আসব না আমি।' ওকথা শুনে ফের আমার দয়া হল। তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলায় নবীজী বললেন, 'তোমার কয়েদী কী করল?' আমি নিবেদন করলাম, 'হে আল্লাহর রসূল! সে তার অভাব আর পোষ্যের কথা বলতে আমি দয়াপরবশ হয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।' নবীজী বললেন, 'আল্লাহর কসম! ও তোমাকে মিথ্যা বলেছে। অতি সত্বর ও ফের আসবে। সুতরাং তৃতীয়বারে তাকে ধরার জন্য ওঁৎ পেতে বসে রইলাম। সে ফের এল, খাদ্যশস্য মুঠোয় ভরতে লাগল। তখন তাকে ধরলাম। বললাম, এবারে তোমাকে নবীজীর দরবারে অবশ্যই হাজির করব। এটা হল তৃতীয়বার এবং শেষবার। তুমি দু'দু'বার আসবে না বলেছ, তা সত্ত্বেও ফের আসছ! সে তখন বলল, আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে একটি জিনিস শিখিয়ে দিচ্ছি, যার দ্বারা আল্লাহ্ আপনাকে উপকৃত করবেন।' আমি বললাম, তা কী? সে বলল, 'যখন আপনি বিছানায় পিঠ রাখবেন (অর্থাৎ শোবার সময়) আয়াতুল কুরসী-আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল্ হাইয়্যুল কাইয়্যুম থেকে আয়াতের শেষ পর্যন্ত-পড়বেন। এমন করলে আল্লাহর তরফ থেকে আপনার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হবে। যার ফলে শয়তান সকাল পর্যন্ত আপনার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।' (সকালে) নবীজী বলেন, 'ও মিথ্যাবাদী হলেও এই কথাটি সত্য বলেছে।' (২)

টিকাঃ
(২) বুখারী, কিতাবুল অকালাত, বাব ১০; কিতাবু ফাযায়িলুল কোরআন, বাব ১০; কিতাবু বাদউল খল্ক, বাব ১২। ফতহুল বারী ৪:৪৮৭। দুররুল মানসুর ১ঃ ৩২৬। মিশকাত, হাদীস ২১২৩। কানযুল উম্মাল ২৫৬১। আতহাফ্ আস্-সাদাহ্ আল্-মুত্তাক্বীন ৫ঃ ১৩৩।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 আরেকটি চোর জিনের ঘটনা

📄 আরেকটি চোর জিনের ঘটনা


(হাদীস) হযরত উবাই ইবনু কাবে (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তাঁর কাছে এক মশক খেজুর ছিল। সেগুলি তিনি যথেষ্ট হিফাযতে রাখতেন। তা সত্ত্বেও তা ক্রমশ কমে যাচ্ছিল। একরাতে তিনি সেই খেজুর পাহারা দিতে থাকেন। এমন সময় তাঁর সামনে একটি প্রাণী আসে যার আকৃতি সদ্য বয়ঃপ্রাপ্ত ছেলের মতো। হযরত উবায় (রাঃ) বলেছেনঃ আমি তাকে সালাম দিতে সে সালামের জবাব দেয়। আমি জানতে চাই, 'তুমি কে? জ্বিন না মানুষ?' সে বলে, 'জ্বিন।' এরপর আমি বলি, 'তুমি নিজের হাত আমার হাতে ধরিয়ে দাও।' সে তার হাত আমার হাতে ধরিয়ে দিতে আমার মনে হচ্ছিল, তা কুকুরের হাত (পা) এবং কুকুরের লোমের মতো। আমি তখন বলি, 'জ্বিনরা কি জন্ম থেকেই এরকম হয়?' সে বলে, 'আমি জানি, জ্বিনদের মধ্যে আমার চাইতেও শক্তিশালী জ্বিন রয়েছে।' আমি বলি, 'একাজ করতে তোমাকে বাধ্য করেছে কে?' সে বলে, 'আমি জানি, আপনি দান-খয়রাত করতে পছন্দ করেন। তাই আমিও আপনার খাবার থেকে নিজের জন্য কিছু নিতে চাইলাম।' এরপর হযরত উবায় (রাঃ) প্রশ্ন করেন, 'আচ্ছা তুমি বলো তো, তোমাদের অনিষ্ট থেকে আমাদের হিফাযতে রাখতে পারে এমন আমল কী?' সে বলে, 'আয়াতুল কুরসী (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম থেকে আয়াতটির শেষ পর্যন্ত)।' হযরত উবায় তখন তাকে ছেড়ে দেন। তারপর তিনি নবীজীর কাছে গিয়ে সবকথা বলতে, নবীজী বলেন, 'খবীস তোমাকে সত্য কথাই বলেছে।' (৩)

টিকাঃ
(৩) আবূ ইয়াত্সা। ইবনু হাব্বান। আবূ আশ্-শায়খ ফিল্-উযমাহ। হাকিম অ-সিহহাহ। আবূ নুআইম, দালায়িলুন নুবুওঅত। বায়হাক্বী, দালায়িলুন্ নুবুও ৭:১০৮,১০৯।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 চোর জিনের তৃতীয় ঘটনা

📄 চোর জিনের তৃতীয় ঘটনা


(হাদীস) বর্ণনায় হযরত আবুল আস্তয়াদ দুয়িলী (রহঃ) আমি হযরত মুআয বিন জাবাল (রাঃ)-কে অনুরোধ করেছিলাম, আপনি আমাকে সেই শয়তানের ঘটনা শোনান, যাকে আপনি গ্রেফতার করেছিলেন।' তিনি বলেন, 'আমাকে একবার জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) মুসলমানদের দান-খয়রাতের সম্পদ-সামগ্রী দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি (দান-সামগ্রীর মধ্য হতে) খেজুরগুলো একটি ঘরে রেখেছিলাম। পরে দেখলাম, খেজুর ক্রমশ কমে যাচ্ছে। একথা নবীজীকে বলতে উনি বলেন, 'খেজুর যে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, সে হল শয়তান।' এরপর আমি সেই কামরায় ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। দেখলাম, ভীষণ এক অন্ধকার এসে দরজায় ছেয়ে গেল। তারপর সেটা হাতীর আকার ধারণ করল। পরে অন্য একটা রূপ ধরল। তারপর দরজার ছিদ্র দিয়ে ভিতরে ঢুকে পড়ল। আমিও সাহস সঞ্চয় করলাম। সে যখন খেজুর খেতে শুরু করল, আমি তখন লাফ দিয়ে তাকে ধরে ফেললাম। এবং তার দিকে হাত বাড়ানোর সময় বললাম, 'ওরে আল্লাহর দুশমন!' সে বলল, 'আমাকে ছেড়ে দিন। আমি একজন বৃদ্ধ। পোষ্য অনেক অথচ দরিদ্র্য এবং আমি নাসীবাইনের জ্বিনদের অন্তর্গত। যে মহল্লায় আপনাদের নবী আবির্ভূত হয়েছেন, ওখানে আগে আমরা থাকতাম। ওঁর আবির্ভাবের পর আমাদের ওখান থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমাকে আপনি ছেড়ে দিন। এরপর আর কক্ষণো আমি আপনার কাছে আসব না।' (ওর কথা শুনে) আমি ওকে ছেড়ে দিলাম। (ওদিকে) জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে হযরত জিব্রাঈল এসে ঘটনাটি জানিয়ে দিলেন। নবীজী ফজরের নামায পড়ালেন। তারপর একজন ঘোষক ঘোষণা করলেন-'মুআয বিন জাবাল কোথায়?' আমি উঠে দাঁড়ালাম। তখন নবীজী বললেন 'তোমার কয়েদী কি করল?" আমি তাঁকে (সমস্ত ঘটনা) নিবেদন করলাম। তিনি বললেন, 'ও ফের আসবে, তুমি তৈরি থেকো।'
সুতরাং আমি ফের (পরের রাতে) সেই কামরায় প্রবেশ করলাম। দরজা বন্ধ করে দিলাম। সেও ফের এল। এবং দরজার ফাঁক দিয়ে ঢুকল। তারপর খেজুর খেতে শুরু করল। আমিও আগের মতোই তাকে ধরে ফেললাম। সে বলল, 'আমাকে ছেড়ে দিন। আমি এরপর আর কক্ষণো আসব না।' আমি বললাম, 'ওহে খোদার দুশমন! তুমি তো আগেও বলেছিলে যে, এরপর আর কক্ষণো আসবে না!' সে বলল, 'এরপর আর আমি কোনও মতেই আসব না। এবং এর নিদর্শন (হিসেবে আপনাকে বলছি), যে ব্যক্তি সূরাহ্ 'আল্ বাক্বারাহর শেষ অংশ পড়বে, রাতে তার ঘরে আমাদের জ্বিনদের মধ্যে কেউই ঢুকতে পারবে না।'(৪)

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য: অন্য এক বর্ণনায় আছে, হযরত মুআয বলেছেন, 'সেই জ্বিন আয়াতুল কুরসী ও সূরাহ্ আল্-বাক্বারাহ্ শেষাংশ (আমানার রসূলু থেকে শেষ পর্যন্ত) পড়ার কথা উল্লেখ করে। তখন আমি তাকে ছেড়ে দিই এবং সকালে নবীজীর কাছে হাজির হয়ে তার কথা উল্লেখ করি। তিনি (সাঃ) বলেন, 'ওই মিথ্যুক খবীস, একথাটি সত্যই বলেছে।' হযরত মুআয বলেন, আমি (রাতে) আয়াত দু'টি পড়তাম। ফলে খেজুর আর কমতে দেখতাম না।(৫)

টিকাঃ
(৪) ইবনে আবিদ দুনইয়া মাকায়িদুশ শাইত্বান, পৃষ্ঠা ৩৩। ত্ববারানী। হাকিম। আবু নুআইম। মাজমাউয যাওয়াইদ ৬: ৩২১। হাকিম অ সিহাহ্ ১ঃ ৫৬৩। দালায়িলুন নুবুওঅত্, বায়হাকী ৭: ১১০। আদ্-দুররুল মানসুর। ১ঃ ৩২৪।
(৫) প্রাগুক্ত।

📘 জীন জাতির বিষ্ময়কর ইতিহাস > 📄 চোর জিনের চতুর্থ ঘটনা

📄 চোর জিনের চতুর্থ ঘটনা


(হাদীস) হযরত আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ)-এর একটি দেরাজ ছিল। তাতে তিনি খেজুর রাখতেন। একটি জ্বিন আসত। এবং সে খেজুর চুরি করে নিয়ে যেত। হযরত আবূ আউয়ুব আনসারী (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে অনুযোগ করলেন। তিনি (সাঃ) বললেন, 'তুমি যাও। এবং তাকে দেখলে বলো আল্লাহ'র নামে (বলছি), তুমি আল্লাহর রসূলের কাছে হাজির হও।' এভাবে তিনি সেই জ্বিনকে ধরে ফেললেন। তখন সেই জ্বিন শপথ করে বলল যে, সে আর কখনও আসবে না। তাই হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) তাকে ছেড়ে দিলেন। তারপর নবীজীর কাছে যেতে তিনি বললেন, তোমার কয়েদী কী করল?' হযরত আবূ আইয়ুব বললেন, 'সে শপথ করেছে যে পুনরায় আর আসবে না। নবীজী বললেন, 'সে মিথ্যা বলেছে। এবং মিথ্যুক হওয়ার কারণে সে ফের আসবে। তো হযরত আবূ আইয়ুব (রাঃ) তাকে ফের ধরে ফেলেন এবং বলেন, 'এবারে তোমাকে ছাড়ছি না। চলো, নবীজীর দরবারে চলো।' সে বলে, 'আমি আপনাকে আয়াতুল কুরসীর কথা বলে দিচ্ছি। এটি আপনি আপন বাড়িতে পড়বেন। তাহলে শয়তান প্রভৃতি কেউই আপনার কাছে আসবে না।' এরপর হযরত আবূ আইয়ুব (রাঃ) নবীজীর কাছে যেতে তিনি জানতে চাইলেন, 'তোমার কয়েদী কী করল?' তো হযরত আবু আইয়ুব তাই বললেন, যা সেই জ্বিনটি বলেছিল। শুনে নবীজী বলেন, ও মিথ্যাবাদী হলেও তোমাকে সত্য কথাই বলে গেছে।(৬)

টিকাঃ
(৬) তিরমিযী, সাওয়াবুল কোরআন, বাব ও ৩, ৩০৪০। মুসনাদে আহমদ ৫:৪২৩। দালায়িলুন্ নুবুওঅত্ বায়হাকী ৭ঃ ১১১। মাকায়িদুশ শাইত্বান (১২), পৃষ্ঠা ৩১। দুররুল মানসুর ১৪ ৩২৫। বনে আবী শায়বাহ্ ১০: ৩৯৮। ত্ববারানী কাবীর ৪০১২, ৪০১৩, ৪০১৪; ১৯ঃ ২৬৩। মামমাউয যাওয়াইদ ৬: ৩২৩। হাকিম ৩: ৪৫৯। তারগীব অ তারহীব ২: ৩৭৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00