📄 একটি মেয়েকে অপহরণ করার ঘটনা
বর্ণনায় হযরত নযর বিন উমর হারিসীর সূত্রে ইমাম শাস্ত্রী (রহঃ): জাহিলিয়্যাতের যুগে আমাদের এলাকায় একটি কুয়া ছিল। আমি আমার মেয়েকে একটি পেয়ালা দিয়ে ওই কুয়া থেকে পানি আনতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে ফিরে আসতে দেরি করে। আমরা তাকে খুঁজতে বের হই। অবশেষে হতাশ হয়ে পড়ি এবং তাকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিই। আল্লাহর কসম! এক রাতে আমি ঘরের ছাদে বসেছিলাম। এমন সময় একটি ছায়ামূর্তি নজড়ে পড়ল। কাছে আসতে দেখলাম, সে ছিল আমার সেই মেয়ে। আমি তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, তুমি কি আমার মেয়ে?' সে বলল, 'জী হ্যাঁ, আমি তোমার মেয়ে।' আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'এত দিন কোথায় ছিলে তুমি?' সে বলল, 'তোমার নিশ্চয় মনে আছে যে, তুমি এক রাতে আমাকে কুয়ার পানি আনতে পাঠিয়েছিলে। সেই সময় একটা জ্বিন আমাকে তুলে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তাই আমি তার কাছেই ছিলাম। শেষ পর্যন্ত তার ও একদল জ্বিনের মধ্যে যুদ্ধ হয়। তখন সেই জ্বিন আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করল যে, সে যদি ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতে যায়, তবে আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে। সুতরাং সে জিতে গেছে, তাই আমাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।'
আমি দেখলাম, মেয়েটির ফর্সা রং কালচে হয়ে গিয়েছিল। চুল ঝড়ে গিয়েছিল এবং শরীর শুকিয়ে গিয়েছিল দড়ির মতো। পরে আমাদের কাছে থাকতে থাকতে সে সুস্থ হয়ে উঠে। এক সময় ওর চাচাত ভাই ওকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ফলে আমি ওকে তার সাথে বিয়ে দিয়ে দিই।
সেই জ্বিনটা (মেয়ের সাথে দেখা করার জন্য) মেয়েকে একটা বিশেষ সাঙ্কেতিক চিহ্ন জানিয়ে রেখেছিল। মেয়েটি যখন সেই চিহ্ন দেখত, তখন বুঝতে পারত যে, জ্বিন তাকে ইশara করছে।
মেয়েটির স্বামী কিন্তু তাকে সবসময় নিন্দা করত। একদিন মেয়েকে তার স্বামী বলে- 'তুমি মানুষ নও, হয় জ্বিন, না হয় শয়তান।' এমন সময় গায়েব থেকে কেউ বলে উঠল- 'ও তোমার কী ক্ষতি করেছে, হে? ওর দিকে এগুলে তোমার চোখ ফুটো করে দেব। জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি আমার মর্যাদা-মাহাত্ম্যের কারণে ওকে রক্ষা করেছি। এবং মুসলমান হবার পর ইসলামের খাতিরে ওকে হিফাযত করব।'
যুবকটি তখন বলল 'তুমি আমাদের সামনে আসছ না কেন? তাহলে আমরাও তোমাকে দেখলাম।'
জ্বিন বলল- 'আমরা অমনটা করতে পারি না। কেননা আমাদের দাদা আমাদের জন্য তিনটা প্রার্থনা করেছিলেন- ১) আমরা নিজেরা সবাইকে দেখব কিন্তু কাউকে আমাদের দেখতে দেব না। ২। আমরা মাটির আর্দ্র স্তরে থাকব। এবং ৩) আমাদের প্রত্যেককে বৃদ্ধ হবার পর ফের যুবক হয়ে উঠবে।'
যুবকটি বলল- 'আচ্ছা তুমি কি পালাজ্বরের ওষুধ জানো?'
জ্বিন বলল- 'কেন জানব না! মাকড়সার মতো প্রাণী পানিতে দেখেছ তো? তাই একটা ধরবে। এবং তার যে কোনও একটা পা নিয়ে তুলোর সুতায় জড়িয়ে বাম কাঁধে বাঁধবে।'
যুবকটি অমন করল। ফলে তার পালাজ্বর একেবারের মতো ছেড়ে গেল।
যুবকটি সেই জ্বিনকে এই কথাও বলেছিল- 'হে জ্বিন! তুমি কি সেই মানুষের ওষুদের কথা বলবে না, যে মেয়েদের মতো ইচ্ছা করে?'
জ্বিন জানতে চায়- 'তার ফলে কি পুরুষদের কষ্ট হয়?'
যুবক বলে- 'হ্যাঁ।'
জ্বিন বলে- 'অমনটা যদি না হত, তবে আমি তোমাকে ওর ওষুধটাও বাৎলে দিতাম।'(২)
টিকাঃ
(২) আল্-হাওয়াতিফ, ইবনে আবিদ দুনইয়া, পৃষ্ঠা ৯৪।
📄 ‘জিনদের বিস্ময়কর তথ্যাবলী বর্ণনাকারী
হযরত আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত: জনাব রসুলুল্লাহ (সাঃ) একরাতে তাঁর পুণ্যময়ী সহধর্মিণীদের কাছে একটি ঘটনা শোনান। তাঁর এক স্ত্রী বলেন, 'এ কথা তো 'খুরাফাহ্'-র মতো।' তিনি বলেন, 'তোমরা কি জান, খুরাফাহ্ কে? খুরাফাহ ছিল একজন মানুষ, যাকে জাহিলিয়্যাত-যুগে জ্বিনরা ধরে বন্দী করে রেখেছিল। এবং সে দীর্ঘকাল যাবত ওদের মধ্যে ছিল। তারপর জ্বিনরা তাকে মানব সমাজে ফিরিয়ে দিয়েছিল। (ফিরে এসে) সে জ্বিনদের মধ্যে যেসব বিস্ময়কর ব্যাপার-স্যাপার দেখেছিল, সেসব কথা লোকজনকে বলত। লোকেরা তাই (কোন আশ্চর্য কথা শুনলে) বলে, এ কথা তো 'খুরাফাহ্'র মতো।'(৩)
টিকাঃ
(৩) মুস্লাদে আহমাদ ৬: ১৫৭। কানযুল উম্মাল ৩: ৮২৪৪। নিহায়াহ্, ইবনে আসীর ২ : ২৫। জাল আসায়িল, শারহে শামায়িল, মুল্লাআলী কারী ২: ৫৮। মীযানুল ইতিদাল ৩: ৫৬। লিসুনুল মীযান ৪: ১৫৪।