📄 জিন ছাড়ানোর আরও একটি পদ্ধতি
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন: আমি ও জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা শরীফের একটি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় (দেখলাম) একটি লোকের মৃগী হল। আমি তার কাছে গিয়ে তার কানে (কোরআনের আয়াত) তিলাওয়াত করলাম ফলে সে সুস্থ হল। জনাব রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বললেন- 'তুমি ওর কানে কী পড়লে?' আমি বললাম- আফাহাসিবতুম আন্নামা খালাকনাকুম আবাসাউ অ আন্নাকুম ইলাইনা লা তুজ্জ্বাঊন (সূরাহ্ মুমিনূন, আয়াত ১১৫) থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেছি।' নবীজী বললেন-
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلًا مُؤْمِنًا قَرَأَ بِهَا عَلَى جَبَلٍ لَزَالَ
যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম! কোনও মুমিন মানুষ যদি এই কোনও পাহাড়ের উপরেও পড়ে, তবে সে পাহাড়ও হটে যাবে। (৩)
টিকাঃ
(৩) হাকিম, তিরমিযী। আবূ ইয়াত্সা। ইবনে আবী হাতিম। আকীলী। হুলুয়াতুল আউলিয়া, আবু নুআইম। ইবনে মারদুইয়াহ্। দুররুল মানসুর। কুরতুবী। মাউযূআত, ইবনে জাওযী।
📄 জিন ছাড়ানোর এক বিস্ময়কর ঘটনা
আবূ ইয়াসীনের বর্ণনা: বানী সালম গোত্রের এক গ্রাম্য লোক একবার মসজিদে এসে হযরত হাসান বস্ত্রী (রহঃ)-এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করায়, আমি জানতে চাইলাম, 'ওঁর সঙ্গে তোমার কী দরকার?' সে বলল, 'আমি গ্রামে থাকি। আমার এক ভাই ছিল আমাদের গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাহলোয়ান। তাকে এমন এক মুসীবত ঘিরে ধরল যে, ছাড়ার আর নামই নিচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত আমরা তাকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হলাম। সেই সময় একবার আমরা পারস্পরিক কথাবার্তা বলছিলাম। হঠাৎ অদৃশ্য থেকে শুনতে পেলাম- 'আস্সালামু আলাইকুম।' আমরা সালামের জবাব দিলাম। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। তখন ও (জ্বিন)-রা বলল, আমরা আপনাদের প্রতিবেশী। আপনাদের প্রতিবেশী হয়ে আমরা কোনও অসুবিধা বোধ করিনি। কিন্তু আমাদের এক নির্বোধ আপনাদের এই সাথীর মোকাবেলা করে। আমরা ওকে ছেড়ে দিতে বলি। কিন্তু ও ছাড়তে অস্বীকার করে। আমরা সেকথা জানতে পেরে আপনাদের কাছে কারণ দর্শাতে এসেছি।'
এরপর সেই জ্বিনরা তার ভাইকে (অর্থাৎ আমাকে) বলল, 'অমুক দিন আপনি আমপনার গোষ্ঠীর লোকজনকে জড়ো করে আপনার ভাইকে রীতিমতো মজবুতভাবে জড়িয়ে বাঁধবেন। যদি না পারেন তাহলে আর কখনও ওকে এবং ওর জ্বিনকে জব্দ করতে পারবেন না। তারপর ওকে একটা ওটের পিঠে বসিয়ে অমুক ময়দানে নিয়ে যাবেন। এবং ওই ময়দানের চারাগাছ নিয়ে বেটে ওর গায়ে প্রলেপ দেবেন। আর একটা বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখবেন যে, ওর বাঁধন যেন খুলে না যায়। খুলে গেলে কিন্তু ওরে আর কক্ষণো আপনারা কাবু করতে পারবেন না।'
আমি বললাম, 'আল্লাহ আপনাদের উপর রহম করুন। ওই ময়দান ও চারাগাছ আমাকে কে চিনিয়ে দেবে?'
ওরা বলল, 'যখন নির্দিষ্ট দিনটি আসবে, তখন আপনারা একটি আওয়াজ শুনতে পাবেন। এবং সেই আওয়াজ অনুসরণ করে আপনারা এগিয়ে যাবেন।'
সুতরাং সেই দিনটি আসতে আমি আমার ভাইকে একটি উঠের পিঠে বসালাম। এমন সময় সামনে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। ফলে সেই শব্দের পিছনে পিছনে চলতে শুরু করলাম। তারপর এক সময় অদৃশ্য থেকে আমাকে বলা হল, 'এই ময়দানে নামো এবং এই গাছ তোলো। তারপর এই এই করো।'
যা যা বলা হল, তাই করলাম। যখন সেই ওষুধ ভাইয়ের পেটে পড়ল, অমনি সে জ্বিনের হাত থেকে এবং আপন মুসীবত থেকে মুক্তি পেয়ে গেল। চোখ মেলে তাকাল। সেই সময় পথ-দেখানো জ্বিনটি বলল, 'এবার এর রাস্তা ছেড়ে দাও। এবং এর শিকল খুলে দাও।
আমি বললাম, 'আমার ভয় লাগছে, ছাড়া পেলে যদি ও পালিয়ে যায়।' সে বলল, 'আল্লাহর কসম! ওই জ্বিন কিয়ামত পর্যন্ত এর কাছে আর ঘেঁষবে না।' বললাম, আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন। আপনি আমার বিরাট বড় উপকার করেছেন। এখন একটা জিনিস বাকি আছে। সেটাও বলে দিন।' 'সেটা আবার কী?' 'যখন আপনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তখন আমি মানত করেছিলাম যে, আল্লাহ্ যদি আমার ভাইকে আরোগ্য করে দেয়, তবে আমি নাকে উটের লাগাম লাগিয়ে পায়ে হেঁটে হজ্জের সফর করব। (এ বিষয়ে আপনার রায় কী?)।' 'এ বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। তবে আমি আপনাকে বলছি, আপনি এখান থেকে বাসায় গিয়ে হযরত হাসান বস্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন। উনি একজন পুণ্যবান মানুষ।'(৪)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য: মূল কিতাবে ঘটনাটির বিবরণ না থাকার দরুন 'ইবনে আবিদ দুনইয়া'র 'আল্-হাওয়াতিফ' গ্রন্থ থেকে পরবর্তী বিবরণটুকু উল্লেখ করা হল: গ্রাম্য লোকটির মুখে ওকথা শুনে হযরত আবূ ইয়াসীন তাকে হযরত হাসান বস্ত্রীর কাছে নিয়ে গেলেন। হযরত হাসান বস্ত্রী বললেন- 'নাকে লাগাম দেওয়া তো শয়তানের কাজ। তুমি ওকাজ করো না। কসমের কাফ্ফারা দিয়ে দিও। এবং বাইতুল্লাহ্ দিকে পায়ে হেঁটে হজ্জ করো। এভাবে নিজের কাফ্ফারা পূরণ করো।'(৫)
টিকাঃ
(৪) আল-হাওয়াতিফ, ইবনে আবিদ দুনইয়া, পৃষ্ঠা ১১৬।
(৫) আল-হাওয়াতিফ, ইবনে আবিদ দুনইয়া, পৃষ্ঠা ১১৮।
📄 এক কবি পত্নীকে জিনে ধরার ঘটনা
এক কবি-পত্নীকি জ্বিনে ধরল। কবি সেই ঝাঁড়ফুঁক করলেন, যা তদ্দ্বীরকারীরা করে থাকেন। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি মুসলমান না ইহুদী না নাসারা (খৃস্টান)?' শয়তান তাঁর স্ত্রীর মুখ দিয়ে বলল, 'আমি মুসলমান।' কবি বললেন, 'তাহলে তুমি আমার স্ত্রীর উপর ভর করাকে হালাল ভাবলে কীভাবে, আমিও তো তোমার মতো মুসলমান?' সে বলল, 'আমি একে ভালোবাসি বলে।' কবি ফের প্রশ্ন করলেন, 'কেন তুমি এর উপর চড়াও হয়েছ?' জ্বিন বলল, 'এ বাড়ির মধ্যে মাথা খুলে চলাফেরা করছিল বলে।' কবি বললেন, 'তুমি যখন এতই লজ্জাশীল, তো জুরজান থেকে ওর জন্য একটা ওড়না আনলে না কেন, যা দিয়ে এর মাথা ঢেকে দেওয়া যেত?'(৬)
টিকাঃ
(৬) তাযকিরায়ে হামদূনিয়্যাহ্।
📄 রাকীবীকে জিনে ধরার ঘটনা
হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বলেছেন: একবার আমি (হজ্জের সময়) 'মিনা'য় এক মৃগীরোগে আক্রান্ত উন্মাদকে দেখেছিলাম। যখন সে হজ্জের কোনও বিশেষ কর্তব্য পালনের কিংবা আল্লাহর যিক্রের উদ্দেশ্য করত, অমনই তার মৃগী হয়ে যেত। সুতরাং লোকেরা এক্ষেত্রে যা বলে থাকে, আমিও তাই বললাম। অর্থাৎ- 'যদি তুমি ইয়াহূদী হও, তবে হযরত মূসার দোহাই, ঈসায়ী (খৃস্টান) হলে হযরত ঈসার দোহাই এবং মুসলমান হলে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর দোহাই দিয়ে বলছি, একে ছেড়ে দাও।' তখন তার মুখ দিয়ে জ্বিন বলল, 'আমি ইয়াহূদী নই, খৃস্টানও নই। আমি দেখেছি এ হতভাগা হযরত আবূ বকর (রাঃ) ও হযরত উমর (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তাই আমি একে এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য (হজ্জ) পালন করতে দিইনি। (৭)
টিকাঃ
(৭) আকলাউল মাজ্বানীন, ইবনুল জাওযী (রহঃ)।