📄 নবীজী এক বাচ্চার জিন ছাড়িয়েছেন
হযরত উম্মে আব্বান বিনতে আল্-ওয়াযাত্ (রহঃ)-এর পিতামহ জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে নিজের একটি পাগল বাচ্চাকে নিয়ে যেতে নবীজী বলেন, 'ওকে আমার কাছাকাছি নিয়ে এসো এবং ওর পিঠটি আমার সামনে কর। তারপর নবীজী তার উপর নীচের কাপড় ধরে পিঠে মারতে মারতে বলেন- 'ওরে আল্লাহর দুশমন! বেরিযে যায়!' ফলে বাচ্চাটি সুস্থ হয়ে চোখ খোলে। (৪)
টিকাঃ
(৪) মুস্লাদে আহমাদ। আবু দাউদ। তবারানী।
📄 নবীজীর জিন ছাড়ানোর আরেকটি ঘটনা
(হাদীস) হযরত উসামা বিন যাইদ (রাঃ) বলেছেন: আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে হজ্জের জন্য (মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হয়েছি। 'বাতুনে রওহা' নামক স্থানে এক মহিলা নিজের বাচ্চাকে সামনে এনে বলে- 'হে আল্লাহ্র রসূল! এ আমার ছেলে। যখন থেকে আমি ওকে প্রসব করেছি তখন থেকে এখন পর্যন্ত এর রোগ সারেনি।' তো জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) মহিলাটির কাছ থেকে বাচ্চাকে নিয়ে নিলেন। এবং তাকে নিজের বুক ও পায়ের মাঝখানে রেখে, তার মুখে থুথু দিয়ে বলেন- 'ওহে আল্লাহ্র দুশমন! বেরিয়ে যা! আমি আল্লাহ্র রসূল।' এরপর নবীজী বাচ্চাটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দিয়ে বলেন- 'একে নিয়ে যাও। এখন ওরে কোনও কষ্ট নেই।'(৫)
টিকাঃ
(৫) আবূ ইয়ালা। আবূ নূআইম, দালায়িলুন্ নুবুয়ত। বায়হাকী, দালায়িলুন্ নুবুয়ত ৬: ২৫। মুজমাউয যাওয়াদি ৯: ৭১।
📄 ইমাম আহমাদের জিন ছাড়ানোর ঘটনা
আবুল হাসান বিন আলী বিন আহমাদ বিন আলী আস্ফারী (রহঃ)-এর পিতামহ বলেছেন: আমি একবার ইমাম আহমাদ বিন হাম্বালের মসজিদে বসেছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে (বাদশাহ্) মুতাওয়াক্কিল তাঁর এক মন্ত্রীকে একথা জানানোর জন্য পাঠালেন যে, শাহযাদীর মুগীরোগ হয়েছে। তাই তিনি যেন ওরে সুস্থতার জন্য দু'আ করেন। তো হযরত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল অযু করার জন্য খেজুরপাতার ফিতে লাগানো খড়ম বের করলেন এবং সেই স্ত্রীকে বললেন- 'আমীরুল মুমেনীনের বাড়িতে 'গিয়ে, মেয়েটির কাছে বসে বলো- ইমাম আহমাদ বলেছেন- তুমি কি এই মেয়েটির থেকে বেরিয়ে যেতে চাও, নাকি ইমাম আহমাদের হাতে সত্তর (৭০) জুতো খেতে চাও?' সুতরাং মুন্ত্রী জ্বিনের কাছে গিয়ে ওকথা বললেন। তখন সেই দুষ্ট জ্বিন মেয়েটির মুখ দিয়ে বলল- 'আমি শুনব এবং মানব। এমনকি, যদি তিনি আমাকে ইরাকে না থাকার নির্দেশ দেন, তবে আমি ইরাকও ছেড়ে দেব। উনি (ইমাম আহমাদ) তো আল্লাহর অনুগত। এবং যিনি আল্লাহর আনুগহত্য করেন, সমস্ত সৃষ্টি তাঁর অনুগত হয়।' তারপর সেই জ্বিন মেয়েটিকে ছেড়ে চলে যায়। এবং মেয়েটি সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে মেয়েটির ছেলেপুলেও হয়।
ইমাম আহমাদের ইন্তিকালের পর সেই জ্বিন ফের মেয়েটির কাছে আসে। তখন (বাদশাহ্) মুতাওয়াক্কিল তাঁর মন্ত্রীকে ইমাম আহমাদের ছাত্র হযরত আবু বকর মারুযী (রহঃ)-র কাছে পাঠিয়ে সমস্ত ঘটনা শোনালেন। হযরত মারূযী (রহঃ) একটা জুতো নিয়ে মেয়েটির কাছে গেলেন। দুষ্ট জ্বিনটা তখন মেয়েটির মুখ দিয়ে বলল- 'আমি একে ছেড়ে যাব না। আমি তোমার কথা মানব না। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) তো আল্লাহর অনুগত ছিলেন। তাঁর ওই আনুগত্যের জন্যেই তো আমি তাঁর হুকুম মেনেছিলাম।(৬)
টিকাঃ
(৬) তবাকাতে হানাবিলাহ্, কাযী আবূ ইয়াঅলা হাম্বালী (রহঃ)।
📄 জিন কেন মানুষকে ধরে
আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ রহ বলেছেন: মানুষের উপর জ্বিনের হামলা হয় কামোত্তেজনা ও প্রেম-ভালোবাসার কারণে। কখনও বা শত্রুতা বা বদলা নেবার জন্যেও জ্বিনেরা মানুষকে আক্রমণ করে। এক্ষেত্রে মানুষের দোষ হল জ্বিনের গায়ে পেশাব করা, নতুবা গায়ে পানি ফেলা, কিংবা মেরে ফেলা, যদিও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মানুষ জেনেশুনে জ্বিনকে মারে না। আবার কখনও কখনও স্রেফ খেল-তামাশার ও কষ্ট দেবার উদ্দেশ্যেও জ্বিন মানুষকে ধরে। যেমন, কিছু কিছু মানুষও এমন করে থাকে।
প্রথম (প্রেম-ভালোবাসা ও যৌন উত্তেজনা ঘটিত) ক্ষেত্রে জ্বিন কথা বলে ও জানা যায় যে, তা হারাম ও গুনাহের কারণে ঘটে। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, অর্থাৎ প্রতিশোধ নেবার ক্ষেত্রে, মানুষ জানতে পারে না।
এবং যে মানুষের মনে জ্বিনদের কষ্ট দেবার ইচ্ছা থাকে না, সে জ্বিনদের তরফ থেকে শাস্তি পাওয়ার যোগ্য বলেও গণ্য হয় না। এমন মানুষ তার নিজের ঘরবাড়ি ও জায়গা-জমির মধ্যে জ্বিনদের কষ্টদায়ক কোনও কাজ করলেও জ্বিনরা একথাই বলে যে- এ জায়গা ওর মালিকানাধীন, এখানে সব রকম কাজের অধিকার ওর আছে। এবং তোমরা (জ্বিনরা) মানুষের মালিকানাধীন এলাকায় ওদের অনুমতি ছাড়া থাকতে পারে না। বরং তোমাদের জন্য রয়েছে সেইসব জায়গা, যেখানে মানুষ থাকে না। যেমন পোড়োবাড়ি, জনমানবশূন্য এলাকা প্রভৃতি।(৭)
টিকাঃ
(৭) মাজমাউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়াহ্ (রহঃ) ১৯: ২৯।