📄 ওসওয়াসার আরেকটি ঘটনা
হযরত আবুল জাওযা (রহঃ) বলেছেন: আমি আমার স্ত্রীকে একবার এক-তালাক দিয়েছিলাম এবং মনে মনে সঙ্কল্প করেছিলাম যে, জুমআর দিন তাকে রুজুউ ক'রে (ফিরিয়ে) নেব। কিন্তু একথা কাউকেও ফাঁস করিনি। আমার স্ত্রী বলে- 'আপনি আমাকে জুম্মার দিন রুজু করার সঙ্কল্প করেছেন।' আমি বললাম- 'একথা তো আমি কাউকে বলিনি।' তারপর হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর কথা আমার মনে পড়ল- (তিনি বলেছেন)- 'একজন মানুষের অত্মসা আরেকজন মানুষের অস্ত্রসাকে জানিয়ে দেয়, তারপর গুজব ছড়িয়ে যায়। (২৯)
টিকাঃ
(২৯) প্রাগুক্ত।
📄 হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ঘটনা
হাজ্জাজের সামনে একবার এক ব্যক্তিকে পেশ কর হয়, যার প্রতি জাদুর অভিযোগ ছিল। হাজ্জাজ তাকে প্রশ্ন করেন- 'তুমি কি জাদুকর?' সে বলে- 'না।'হাজ্জাজ তখন একমুঠো কাঁকর নিয়ে সেগুলো গণনা করেন। তারপর প্রশ্ন করেন- 'আমার হাতে কতসংখ্যক কাঁকর আছে?' লোকটি বলে- 'এত সংখ্যক।' হাজ্জাজ তখন সেগুলো ফেলে দেন। তারপর ফের একমুঠো কাঁকর নেন এবং সেগুলো না গুণেই জিজ্ঞাস করলেন- 'এখন আমার হাতে ক'টা কাঁকর আছে?' সে বলে- 'আমি জানি না।' হাজ্জাজের প্রশ্ন- 'প্রথমবারে তুমি ঠিকঠিক বলে দিলে, কিন্তু দ্বিতীয়বারে পারলে না, কেন?' লোকটির উত্তর- 'প্রথমবার আপনি জেনেছিলেন। এর দ্বারা আপনার অস্ত্রসাও জেনেছে। তারপর আপনার অস্ত্রসা আমার অস্ত্রসাকে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এবারে আপনি জানেননি। তাই আপনার অত্মসাও তা জানতে পারেনি। ফলে আপনার অস্ত্রসা আমার অত্মসাকে বলেনি। যার দরুন আমিও জানতে পারিনি। (৩০)
টিকাঃ
(৩০) আল্-অস্ত্রসাহ্, ইবনে আবী দাউদ।
📄 আমীরে মুআবিয়ার ঘটনা
হযরত মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাঃ) তাঁর মুনশীকে একবার একটি গোপন রেজিস্ট্রার তৈরি করার নির্দেশ দেয়। মুনশী যখন লিখছিলেন, এমন সময় একটি মাছি এসে বসে সেই রেরিস্ট্রারের কিনারে বসে। মুন্নী কলম দিয়ে মাছিটিকে মারেন, যার ফলে মাছিটির হাত-পা কিছুটা কেটে যায়। এরপর মুনশী বাইরে বের হতেই লোকেরা মহলের দরজাতেই তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলে, 'আমীরুল মুমেনীন আপনাকে দিয়ে এই এই লিখিয়েছেন?' তিনি বলেন- 'তোমরা কীভাবে জানলে?' তারা বলে- 'আমাদের সামনে দিয়ে যে খোঁড়া হাবসী গেল, ওই তো আমাদের বলল।' মুনশী তখন হযরত মুআবিয়ার কাছে ফিরে এসে ওকথা বলতে তিনি বললেন- 'যাঁর আয়ত্বে আমার জীবন সেই সত্তা (আল্লাহ্)-র কসম! ওই হাবশী হল সেই মাছি, যাকে তুমি মেরেছিলে। (৩১)
টিকাঃ
(৩১) আল-অস্ত্রসাহ, ইবনে আবী দাউদ।