📄 নবীজীর (সাঃ) ও আদমের শয়তানের মধ্যে পার্থক্য
হযরত ইবনে উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
فَضَّلْتُ عَلَى آدَمَ بِخَصْلَتَيْنِ : كَانَ شَيْطَانِي كَافِرًا فَأَعَانَنِي اللَّهُ عَلَيْهِ حَتَّى اسْلَمَ وَكَانَ أَزْوَاجِي عَونَا لِي وَكَانَ شَيْطَانُ أَدَمَ كَافِرًا وزوجَتُهُ عَوْنَا عَلَى خَطِيئَتِهِ
আদমের চেয়ে আমাকে এই দু'টি শ্রেষ্ঠত্বও দান করা হয়েছে-(১) আমার শয়তান কাফির ছিল, আল্লাহ তা'আলা তার বিরুদ্ধে আমাকে মদদ করেছেন, শেষ পর্যন্ত সে মুসলমান হয়ে গেছে এবং (২) আমার পত্নীগণ আমার সহায়তাকারিণী থেকেছে। (অপরদিকে) আদমের শয়তান ছিল কাফির এবং তাঁর স্ত্রী ছিল তাঁর পদস্খলনের অংশীদার। (৪)
এই হাদীসটি রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর করীন (সঙ্গী শয়তান)-এর ইসলাম কবুলের সুস্পষ্ট প্রমাণ। এবং এটি নবীজীরই বৈশিষ্ট্য। উল্লিখিত হাদীসের একটি অর্থ এটাও যে, আল্লাহ তা'আলা নবীজীকে সাহায্য করেছেন এমনকী তিনি সঙ্গী-শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকতেন।
টিকাঃ
(৪) দালায়িলুন্ নুবুউঅত, বাইহাকী, ৫:৪৮৮। আতহাফুস্ সাদাহ্, ৫: ৩১৩। দুররুল মাসুর, ১: ৫৪। কানযুল উম্মাল, ৩১৯৩৬। তারীখে বাগদাদ ৩ঃ ৩৩১। তাখরীজে ইরাকী, ২ঃ ৩২। আলাল মুতানাহিইয়াহ্, ১:১৭৬।
📄 মানুষের সঙ্গী ফিরিশতা ও শয়তান কী করে
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ لِلشَّيْطَانِ لَمَّةٌ بِابْنِ آدَمَ وَلِلْمَلَكِ لَمَّهُ - فَأَمَّا لَمَّهُ الشَّيَاطِينِ فَابْعَادُ بِالشَّرِّ وَتَكْذِيبُ بِالْحَقِّ وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَابْعَادُ بِالْخَيْرِ وَتَصْدِيقُ بِالْحَقِّ فَمَنْ وَجَدَ ذلِكَ فَلْيَعْلَمُ أَنَّهُ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى فَلْيَحْمَدِ اللهَ ، وَمَنْ وَجَدَ الأخرى فَلْيَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ثُمَّ قَرَءَ الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ ....
মানুষের সাথে শয়তানদের সম্পর্ক থাকে, ফিরিস্তাদেরও সম্পর্ক থাকে। শয়তানদের সম্পর্ক হল মন্দের দিকে প্ররোচিত করা ও সত্যকে মিথ্যা বানানো। এবং ফিরিস্তাদের সম্পর্ক হল সৎকাজের প্রতি প্রেরণা দেওয়া এবং সত্যকে স্বীকার করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এটা বুঝতে পারবে (যে, সে ফিরিশ্তার দ্বারা উপকৃত হচ্ছে), তাহলে তার উচিত এটাকে আল্লাহ্ বিশেষ দান মনে করা এবং এজন্য আল্লাহর গুণগান করা। আর যে ব্যক্তির অবস্থা এর বিপরীত হবে, সে যেন শয়তানের (অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। অতঃপর নবীজী (কোরআন পাকের এই আয়াতটি) পড়েন (৫)-(যার অর্থ) শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায়.....। (৬)
টিকাঃ
(৫) সূরাহ্ আল-বাকারাহ্, আয়াত ২৬৮।
(৬) আল্-জ্বামিই আস্-সগীর, হাদীস নং ২৩৮৪। তিরমিযী, ২৮৮৮। তাফসীর ইবনে কাসীর।
📄 মু’মিন তার শয়তানকে নাজেহাল করে দেয়
হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَيُنْصِى شَيْطَانَهُ كَمَا يُنْصِي أَحَدُكُمْ بَعِيْرَهُ فِي السَّفَرِ
মু'মিন মানুষ তার শয়তানকে এমন জব্দ করে দেয় যেমন তোমাদের মধ্যে কোনও ব্যক্তি সফরকালে তার উটকে ক্লান্ত করে ছাড়ে। (৭)
টিকাঃ
(৭) মুস্লাদে আহমাদ, ২: ৩৮০। নাওয়াদিরুল উসূল, হাকীম তিরমিযী, ২৬। মাকায়িদুশ শাইত্বান, ইবনে আবিদ দুনয়া, হাদীস নং ২০। আকامুল মারজ্বান, ১২৪। জ্বামিই সগীর হাদীস ২১১০। ফইযুল ক্বাদীর, ২ঃ ৩৮৫। কানযুল উম্মাল, ৭০৬। মাজমাউয যাওয়াইদ, ১: ১১৬।
📄 মু’মিনের শয়তান দুর্বল হয়ে যায়
হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ মু'মিনের শয়তান দুর্বল ও পেরেশান হয়ে থাকে। (৮)
এক বর্ণনাসূত্রে এরকম আছে: একবার এক মু'মিনের শয়তানের সাথে এক কাফিরের শয়তানের সাক্ষাৎ হল। মু'মিনের শয়তান ছিল রোগা-দুর্বল। আর কাফিরের শয়তান ছিল মোটাতাজা। কাফিরের শয়তান বলল-'ব্যাপারটা কী, তুমি এত কমজোর কেন?' মু'মিনের শয়তান বলল- কী আর বলি, ওর কাছে আমার ভাগ্যে কিছুই নেই। যখন ও ঘরে ঢোকে, আল্লাহর নাম স্মরণ করে। খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম নেয়। পান করার সময় আল্লাহর নাম নেয়। (ফলে, আমি কোনও সুযোগই পাই না)' কাফিরের শয়তান বলল- 'কিন্তু আমি তো ওর সাথেই খাই। ওর সাথে পানও করি। (এইজন্যই তো এমন মোটাতাজা হয়েছি।) (৯)
টিকাঃ
(৮) মাকায়িদুশ শাইত্বান, ইবনে আবিদ দুনয়া, হাদীস নং ১৯। আকামুল মারজান, ১২৪। ইহইয়াউল উলূম, ৩: ২৯।
(৯) মাসায়িবুল ইনসান, ইবনে মুল্লিহ্ মুকাদ্দিসী, পৃষ্ঠা ৬৮।