📄 উপরোক্ত বর্ণনার অতিরিক্ত বিবরণ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
إِنَّ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ أَوْثَقَ شَيَا طِيْنَ فِي الْبَحْرِ فَإِذَا كَانَتْ سَنَةٌ
خَمْسُ وَثَلَاثِينَ وَمِائَةٍ خَرَجُو فِي صُورِ النَّاسِ وَأَبْشَارِهِمْ فِي الْمَجَالِسِ وَالْمَسَاجِدِ وَنَازَعُوهُمُ الْقُرْآنَ وَالْحَدِيثَ
হযরত সুলাইমান বিন দাউদ (আঃ) শয়তানদেরকে সমুদ্রে অন্তরীন করে দিয়েছিলেন। ১৩৫ সাল হলে ওই শয়তানরা মানুষের আকার আকৃতিতে মসজিদে ও মজলিসে প্রকাশ পাবে এবং মসজিদ-মাদ্রাসার লোকদের সাথে কোরআন-হাদীস নিয়ে দ্বন্দ্ব বিবাদ করবে। (৪৬)
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
যে শয়তানগুলোকে হযরত দাউদের পুত্র হযরত সুলাইমান (আঃ) সমুদ্রের দ্বীপপুঞ্জে বন্দী করে রেখেছিলেন, তারা বের হবে। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ইরাকের দিকে মুখ করবে ও ইরাকবাসীদের সাথে কোরআন নিয়ে অশান্তি ছড়াবে এবং ১০ শতাংশ শয়তান যাবে সিরিয়ার দিকে। (৪৭)
টিকাঃ
(৪৬) সিরাযী, ফিল্-আলকাব। জামিই কাবীর, সূয়ূতী, ۱۴ ۱۰۱۹। কানযুল উম্মাল, ১০ঃ ২৯১২৭।
(৪৭) কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ২৯১২৮, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২১৩ (সূত্রঃ আকীলী, ইবনে আদী, আল ইবানাহ্, আবু নাসর, সানজারী, ইবনে আসাকির, ইবনে জাওযী ফীল মাউযুআত)। আকীলী ফীয় যুআফা, ২: ২১৩। ইবনে আদী, ৪: ১৪০৩। তানিয়াতুশ্ শারইয়াহ, ১৪ ৩১৩। ফাওয়াইদে মাজমুআহ্, ৫০৪।
📄 ‘মসজিদে খইফ’ এ গল্প বলিয়ে জিন
হযরত সুফিয়ান (রহঃ) বলেছেনঃ আমাকে এক ব্যক্তি বলেছেন যে, তিনি এক গল্পকারীকে মাসজিদে খইফে গল্প বলতে দেখেছেন। তিনি বলেছেন-আমি ওই গল্পকারীকে ডেকে পাঠাতে দেখলাম যে সে এক শয়তান। (৪৮)
টিকাঃ
(৪৮) তারীখে কাবীর। বুখারী। দালায়িলুন নুবুউঅত, বাইহাকী, ৬:৫৫১।
📄 মিনার মসজিদে মনগড়া হাদীস বয়ানকারী শয়তান
হযরত সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) বলেছেনঃ আমাকে ওই ব্যক্তি বলেছেন, যিনি স্বয়ং দেখেছেন যে শয়তান মিনার মসজিদে জনাব রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নামে (মনগড়া) হাদীস শোনাচ্ছিল এবং লোকেরা তার থেকে হাদীস শুনে লিখে নিচ্ছিল। (৪৯)
টিকাঃ
(৪৯) ইবনে আদী।
📄 মসজিদুল হারামে মনগড়া হাদীস শোনানোর ঘটনা
হযরত ঈসা বিন আবূ ফাতিমাহ্ فیয্যারী (রহঃ)-এর বর্ণনাঃ আমি মসজিদুল হারামে এক মুহাদ্দিসের কাছে বসে হাদীস লিখছিলাম। সেই মুহাদ্দিস যখন বললেন- আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন শাইবানী...। -তখন (ওখানে উপস্থিত) থাকা এক ব্যক্তি বলল, আমাকেও শাইবানী হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিস বললেন, ইমাম শাস্ত্রী হাদীস বর্ণনা করেছেন। সেই ব্যক্তি বলল, আমাকেও ইমাম শাস্ত্রী হাদীস বয়ান করেছেন। মুহাদ্দিস বললেন, হারিস রিওয়াইয়াত করেছেন। সেই ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আমি হারিসের সাথে সাক্ষাৎও করেছি এবং তাঁর থেকে হাদীসও শুনেছি। মুহাদ্দিস বললেন, হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা আছে। সেই ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম, আমি হযরত আলীর সাথেও মুলাকাত করেছি এবং তাঁর সঙ্গে সিফফীনের যুদ্ধে শরীকও থেকেছি।' আমি (ঈসা বিন আবু ফাতিমাহ্) ওর মুখে এইরকম কথা শুনে 'আয়াতুল কুন্সী' পড়া শুরু করি এবং 'অলা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা' পর্যন্ত পৌঁছে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি কেউ নেই। (৫০)
টিকাঃ
(৫০) ইবনে আদী। দালায়িলুন্ নুবুউঅত, বাইহাকী, ৬:৫৫১।